শিরোনাম

11 May 2021 - 12:14:57 pm। লগিন

Default Ad Banner

৪ ডিসেম্বর ফুলবাড়ী মুক্ত দিবস!

Published on Monday, December 3, 2018 at 1:04 pm 282 Views

৪ ডিসেম্বর দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর শুক্রবার মুক্তিযোদ্ধারা প্রচন্ড লড়াই করে পাক দখলদার বাহিনীকে ফুলবাড়ী থেকে বিতাড়িত করে ফুলবাড়ী দখলদার শক্রমুক্ত করে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে।

দেশ মাতৃকাকে রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয়ে নিজের জীবন বাজি রেখে ফুলবাড়ীকে পাক দখলদার মুক্ত করা সেই সব বীর সেনানী মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের মার্চ মাস থেকে যখন পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সারা দেশ ব্যাপি উত্তাল আন্দোলন চলছিল, তখন ফুলবাড়ীতে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বাঙ্গালী ও অবাঙ্গীলীদের মধ্যে যাতে কোন সংঘাত সৃষ্টি না হয় সে জন্য মার্চের প্রথম সপ্তাহে ফুলবাড়ীতে গঠিত হয় সর্ব দলীয় সংগ্রাম কমিটি।

২৪ মার্চ পর্যন্ত ফুলবাড়ীতে পূর্ণ শান্তি বিরাজ করে। এমনি এক মুহুর্তে ২৫ মার্চ গভীর রাতে ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, চট্রগ্রাম ও বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় পাক বাহিনী হানা দিয়ে হত্যা করে অসংখ্যা নিরীহ বাঙ্গালীকে।

পরদিন ২৬ মার্চ এই হত্যাযজ্ঞের সংবাদ ফুলবাড়ীতে এসে পৌছিলে বাঙ্গালীদের মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়্ এই হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে ওই দিন সকলে সর্ব দলীয় সংগ্রাম কমিটির উদ্দোগে ফুলবাড়ী শহরে বের করা হয় এক প্রতিবাদ মিছিল।

মিছিলটি শান্তিপূর্ণ ভাবে ফুলবাড়ী রেল স্টেশন থেকে কাঁটাবাড়ী বিহারী পট্টি হয়ে বাজারে ফেরার পথে বিহারী পট্টিতে মিছিলকে লক্ষ্য করে অবাঙ্গালীরা গুলি চুড়লে দুপক্ষের মধ্যে সংঘ্যতের সূত্রপাত ঘটে। শুরু হয় তাদের বাড়ী ঘরের উপর অক্রমন অগ্নিসংযোগ, লুটতারাজ।

এ সময় ফুলবাড়ী মুক্তিকামী মানুষ বিহারী পট্টির অবাঙ্গালী বিশিষ্ট্য ব্যাক্তি ডাক্তার শওকতের বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ করলে ডাক্তার শওকত সহ তার পরিবারের ৫ জন সদস্য অগ্নিদদ্ধ হয়ে নির্মম ভাবে মৃত্যু বরন করেন।

এপ্রিলের ২ তারিখে পাক দখলদার বাহিনী ফুলবাড়ী অক্রমন করে পুরো নিয়ন্ত্রনে নেয়। এর পর থেকে শুরু হয় বাঙ্গালীদের উপর দখলদার বাহিনীর নির্মম অত্যাচার , হত্যা, লুটতারাজ ও অগ্নিসংযোগ সহ শারিরীক নির্যাতন।

ফুলবাড়ী মুক্তিকামী যুবকরা মাতৃভূমিকে দখলদার মুক্ত করতে যোগ দেয়। মুক্তিবাহিনীতে। দীর্ঘ যুদ্ধের পর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী পাক হানাদার মুক্ত করার জন্য ১৯৭১ এর ৪ঠা ডিসেম্বর শুক্রবার মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনী যৌথভাবে ফুলবাড়ী থানার আমড়া, জলপাইতলী, পানিকাটা, দেশমা, রুদ্রানী, জলেম্বরী ও রাণীনগরসহ বিভিন্ন সীমান্ত পথে ফুলবাড়ীতে প্রবশে করে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে চর্তুমখী আক্রমন করে।

এ সময় মিত্র বাহিনীর হাতে নিশ্চিত পরাজয় বুঝে, দখলদারেরা মিত্র বাহিনীর ফুলবাড়ী শহরে আগমন রোধ করতে ওই দিন বিকেলে অনুমানিক সাড়ে ৩ টায় ফুলবাড়ী ছোট যমুনা নদীর ওপর নির্মিত লোহার ব্রীজটির পূবাংশ ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেয়।

ব্রীজটি কালের সাক্ষী হয়ে আজও বিরাজ করছে ফুলবাড়ীর যমুনা নদীর বুকে। এ সময় পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর গুলিতে ফুলবাড়ী সরকারী কলেজের দক্ষিণ দিকে যমুনা নদীর উপরে ভারতীয় একজন সেনাবাহিনী অফিসার নিহত হন। তার স্মৃতি রক্ষার্থে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মান করে যান ভারতীয় সেনাবাহিনী।

এর পর দকলদাররা মেঠোপথে ফুলবাড়ী ছেড়ে ট্রেন যোগে  সৈয়দপুরের দিকে পালিয়ে যায়। মুক্তিবাহিনী ফুলবাড়ীকে পাকিস্থান বাহিনীর দখলদার শত্রুমুক্ত করে ফুলবাড়ীর নিয়ন্ত্রন গ্রহন করে।

ফুলবাড়ীকে ১৯৭১ সালের ৪ঠা ডিসেম্বর শুক্রবার শত্রুমুক্ত করে দেশ মাতৃকার বীর সন্তান, বীর মুক্তিযোদ্ধারা ফুলবাড়ীতে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। ৪ঠা ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা সহ ফুলবাড়ী বাসীর একটি স্মরনীয় দিন।

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *