শিরোনাম

14 Apr 2021 - 05:17:16 am। লগিন

Default Ad Banner

হাজী দানেশের জোড়া খুনের বিচারের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

Published on Wednesday, January 8, 2020 at 3:25 pm 85 Views

দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) দুই ছাত্রলীগ নেতা হত্যার পাঁচ বছর পর নিহতের পরিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে বিচারের আশ্বাস পেয়েছেন।

মঙ্গলবার নিহত দুই ছাত্রলীগ নেতার পরিবারের সদস্যরা এ তথ্য জানান। তারা জানান, সোমবার নিহত দুই নেতার পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী ১০ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেন। পরে সন্তান হত্যার বিচার দাবি করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুনিদের বিচারের আশ্বাস দেন।

গত ২০১৫ সালের ১৬ এপ্রিল মাসে ভেটেরিনারি অনুষদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাংশের সঙ্গে ছাত্রলীগের অন্য অংশের সংঘর্ষে বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জাকারিয়া ও কৃষি বিভাগের ছাত্র মাহমুদুল হাসান মিল্টন নিহত হন।

ঘটনার পাঁচ বছর পরও খুনিদের বিচারের আওতায় আনতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে পাঁচ বছর পরে হলেও দুই ছাত্রলীগ নেতা হত্যার সুষ্ঠু বিচারের আশায় বুক বেঁধেছেন পরিবারের স্বজনরা।

নিহত জাকারিয়ার বাবা মো. গোলাম মোস্তফা  বলেন, ‘আমি আমার ছেলের খুনিদের বিচার চেয়ে দীর্ঘ পাঁচ বছর ঘুরেছি। কিন্তু বিচার পাইনি। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিচার চেয়েও পাইনি। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার আমাকে আশ্বস্ত করেছেন তিনি আমার ছেলের হত্যাকারীদের বিচার করবেন। প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, এই হত্যার বিষয়টি এত দিন আমি জানতাম না। এখন জানলাম। এর বিচার হবেই। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তার পিএসকে বিষয়টি দেখতে বলেছেন।’

নিহত মাহমুদুল হাসান মিল্টনের মা রেবেকা খাতুন বলেন, ‘ছেলে হত্যার বিচার চাইলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এবার বিষয়টা আমি জেনেছি। খুনিদের বিচার হবেই। কাউকেই মাফ করা হবে না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ডা. ফজলুল হক বলেন, ‘মিল্টন ও জাকারিয়া হত্যা মামলায় প্রকৃত আসামিদের বিচার করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে যা যা সাহায্য করার দরকার আমরা করব। দুই শিক্ষার্থী হত্যার বিচার হয়ে যাতে বিশ্ববিদ্যালয়কে কলঙ্কমুক্ত করা হয় সে জন্য আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।’

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. মো. আবুল কাশেম  বলেন, ‘আমরাও চাই দুই শিক্ষার্থীকে হত্যার প্রকৃত বিচার হোক। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে মামলার তদন্তের স্বার্থে যা যা সাহায্য করার দরকার আমরা তাই করব।’

উল্লেখ্য, তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নামে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পক্ষের নেতাকর্মীরা। আন্দোলনরত অবস্থায় ২০১৫ সালের ১৬ এপ্রিল ভেটেরিনারি অনুষদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাংশের নেতারা ছাত্রলীগের সভাপতি ইফতেখার ইসলাম রিয়েল ও সম্পাদক অরুণ কান্তি রায় গ্রুপের ওপর হামলা চালায়। এতে বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র জাকারিয়া ও কৃষি বিভাগের ছাত্র মাহমুদুল হাসান মিল্টন নিহত হন।

খুনের ঘটনায় পরিবারের করা পৃথক দুটি মামলায় ৪১ জনকে আসামি করা হয়। নিহত মিল্টনের চাচা মকসুদার রহমান বাদী হয়ে ৩৭ জনকে আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলার এক নম্বর আসামি করা হয় তখনকার উপাচার্য রুহুল আমিন।

অন্যদিকে নিহত জাকারিয়ার বাবা গোলাম মোস্তফা একই বছর দিনাজপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবু ইবনে রজ্জবকে এক নম্বর আসামি করে এবং সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞ্চনসহ ৩৭ জনের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করেন।

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *