শিরোনাম

05 Aug 2021 - 12:17:38 am। লগিন

Default Ad Banner

সৈয়দপুরে ১০ টাকা কেজি দরের চাল চাকুরীজীবি, স্বচ্ছল ও ব্যবসায়ীর ঘরে

Published on Thursday, November 3, 2016 at 8:41 am 304 Views

চালনীলফামারী টাইমস: নীলফামারীর সৈয়দপুরে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচী ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি কর্মসূচীতে অনিয়মের অভিযোগ মিলেছে। হতদরিদ্রের জন্য সূলভ মূল্যের এ চাল প্রাপ্তির তালিকায় স্থান পেয়েছে সরকারী চাকুরীজীবি, ধর্নাঢ্য ও সভ্রান্ত পরিবারের লোকজন। এতে প্রকৃত হতদরিদ্ররা বঞ্চিত হওয়ায় সরকারের এ কর্মসূচী ভেস্তে যেতে বসেছে।

সূত্র মতে, সৈয়দপুর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে কামারপুকুর ইউনিয়নে হতদরিদ্রের জন্য সূলভ মূল্যে চাল বিক্রির নিমিত্তে হতদরিদ্রদের তালিকা প্রনয়ণে ব্যাপক ভাবে অনিয়ম করা হয়েছে। এ কর্মসূচীর আওতায় এ ইউনিয়নে ২ হাজার ৮শ ৬৬ জন হতদরিদ্রের তালিকা তৈরি শেষে কার্ড বিতরণ করে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট তালিকা প্রনয়ন কমিটি। গত ২৫, ২৮ ও ২৯ অক্টোবর ওইসব কার্ডধারীদের কাছে প্রথম দফায় চাল বিক্রি করেছে নির্ধারিত ৬ ডিলারের মাধ্যমে।

অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান, মেম্বাররা কার্ড প্রতি ৫’শ টাকা করে নিয়ে তালিকায় হতদরিদ্র থেকে ধর্নাঢ্য ব্যাক্তিদের স্থান দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার জাতীয় পরিচয়পত্রধারী কিন্তু কামারপুকুর ইউনিয়নের একজন ভোটার চেয়ারম্যানের লোকের মাধ্যমে ৫’শ টাকার বিনিময়ে নকল জাতীয় পরিচয়পত্র বানিয়ে কার্ড সংগ্রহ করেছে মর্মে অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে চাল বিক্রির দিনে ডিলারদের নির্দিষ্ট স্থানে আসা সাজানো হতদরিদ্রদের দেখে হতবাগ হয়ে যায় প্রকৃত হতদরিদ্ররা। সরকারী চাকুরীজীবি, ধর্নাঢ্য ও সৎভ্রান্ত পরিবারের লোকজন কার্ড দিয়ে চাল উত্তোলন করেছে। স্বচ্ছল পরিবারের গৃহবধুরা লাইনে দাঁড়িয়ে প্রাপ্ত কার্ড প্রদর্শন করে চাল ক্রয় করছে।

সূত্রটির দাবি, শুধুমাত্র চেয়ারম্যান নিজেই সাড়ে ৪শ কার্ড বিতরণ করেছে অর্থের বিনিময়ে। চেয়ারম্যানের তালিকায় অন্তভূক্ত করা হয়েছে ১নং ওয়ার্ডের সরকারী চাকুরীজীবি হোসেন আলীকে (ক্রমিক নং ১৭৭)। তিনি সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় কর্মরত। হোসেন আলীর ভাই গালামালের দোকানদার নুর ইসলাম (ক্রমিক নং ১৮৩) ও তার স্ত্রী মেরিনা বেগম (ক্রমিক নং ১৯২) কার্ড পেয়েছেন। ধলাগাছ গ্রামের রাইস মিল মালিক খলিলুর রহমানের স্ত্রী হাজরা বেগমের (ক্রমিক নং ২২৪) নাম রয়েছে তালিকায়। অথচ মিলের কর্মচারীদের ভাগ্যে জোটেনি সূলভ মূল্যে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির কার্ড।

এদিকে ৫নং ওয়ার্ডের খবির উদ্দিনের পুত্র রবিউল ইসলাম তালিকায় নাম রয়েছে। রবিউল ওই এলাকার একজন স্বচ্ছল কৃষক। তার দুই পুত্র বিজিবিতে কর্মরত রয়েছে। ওই ওয়ার্ডের মটরু মামুদের পুত্র আইজুল হক কার্ড পেয়েছেন। তার প্রায় ৩ একর আবাদি জমি রয়েছে। এই ওয়ার্ডে সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যানের গোত্রে প্রায় হাফ ডজন কার্ড প্রদান করা হয়েছে বলে অসমর্থিত একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এ প্রসঙ্গে ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মমিনুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমার প্রেরিত তালিকায় ওইসব স্বচ্ছল পরিবারের ব্যাক্তিদের নাম দেয়া হয়নি। কিভাবে এলো? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চেয়ারম্যানই বিষয়টি জানেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনসংখ্যা অনুযায়ী ওয়ার্ড ভিত্তিক কার্ড বরাদ্দ দিয়েছে তালিকা প্রনয়ণ কমিটি। সে মতে আমার ওয়ার্ডে কার্ড বরাদ্দ হয় ২৮৫টি। এরমধ্যে আমার (ইউপি সদস্য) ১৭৪, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ৫৯ এবং চেয়ারম্যান ৫২টি কার্ড ১নং ওয়ার্ডের হতদরিদ্রদের মাঝে প্রদান করার কথা থাকলেও মোট ২৩৫ জন হতদরিদ্রকে ওই কার্ড প্রদান করেছে।

ওই ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের কিসামত কামারপুকুর গ্রামে ২০ শতক জমির ওপর নির্মিত টিনসেড পাকা বাড়ি নির্মান করে বসবাস করেন আসফারুল হক (ক্রমিক নং ১২০২)। তিনি কার্ড পেয়েছেন এবং সূলভ মূল্যে চাল ক্রয় করেছেন। কিভাবে ধর্নাঢ্য ওই ব্যাক্তি কার্ড পেলো এমন প্রশ্নের জবাবে ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাকির হোসেন জানান, আমি আমার ওয়ার্ডের হতদরিদ্রের তালিকা তৈরি করে কমিটির কাছে জমা দিয়েছি। হতদরিদ্র বাদ দিয়ে ওই ধর্নাঢ্য ব্যাক্তির নাম দেয়ার প্রশ্নই উঠে না।

তালিকা প্রনয়ন কমিটিতে থাকা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিদ্বয়ের মধ্যে কামারপুকুর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আমিনুর রহমানের সাথে কথা হয়। তিনি কমিটিতে থাকলেও প্রথম দফায় চাল বিক্রি হয়ে গেছে তা তিনি জানেন না। চোখেও দেখেননি হতদরিদ্রের তালিকা। শুধু দুই মাস আগে একটি মিটিং হয়েছিল পরিষদে সে কথাই মনে আছে বলে তিনি জানান।

হতদরিদ্রদের তালিকাটি দেখার জন্য তালিকা প্রনয়ণ কমিটির সদস্য সচিব ও ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আহসান হাবিবের সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি তালিকা সম্পর্কে কোন তথ্য দিতে পারেননি। কারণ হিসেবে তিনি জানান, তালিকাটি তার কাছে নেই। চেয়ারম্যানের কাছেই তালিকাটি থাকে।

তবে ইউপি সদস্যরাই তালিকা প্রনয়ণ করেছে এবং তাদের স্বাক্ষরিত তালিকা আমার কাছে রয়েছে বলে জানান কামারপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ভুলভ্রান্তি হতে পারে তা অবশ্যই সংশোধন করে নেবো।

কথা হয় তালিকা প্রনয়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মশিউর রহমানের সাথে। তিনি জানান, স্বচ্ছল পরিবারকে কার্ড প্রদান করার অভিযোগ এলে তা অবশ্যই বাতিল করা হবে। যাচাই-বাছাই কমিটির অবহেলায় স্বচ্ছল পরিবারের লোকজনকে কার্ড প্রদান করে চাল উত্তোলন করেছে- তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি।

কামারপুকুর ইউনিয়নে স্বচ্ছল ব্যাক্তিরা তালিকায় স্থান পেয়েছে এমন অভিযোগ পাননি বলে জানান সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. মূসা জঙ্গী। তিনি জানান, এমন অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *