শিরোনাম

17 Apr 2021 - 09:19:13 am। লগিন

Default Ad Banner

সিনহা হত্যা: প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান শুনলো তদন্ত দল

Published on Sunday, August 16, 2020 at 11:23 pm 92 Views

এমসি ডেস্ক :  অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান নিহতের ঘটনা তদন্তের অংশ হিসেবে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য শুনেছে এ সংক্রান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি। এর মাধ্যমে প্রত্যক্ষদর্শীদের গণশুনানি শেষ হয়েছে। রোববার অনুষ্ঠিত এ গণশুনানিতে ৯ জন প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য শোনে তদন্ত কমিটি।

mejor sinha rashedসিনহা রাশেদ

এর আগে রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে টেকনাফের বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী একটি ক্যাম্পে গণশুনানি শুরু হয়। এতে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মিজানুর রহমান। গণশুনানি শেষ হয় বিকেল পৌনে ৫টার দিকে।

তদন্ত কমিটির প্রধান মিজানুর রহমান শুনানি শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ১১ জন গণশুনানিতে সাক্ষ্য দিতে নাম নিবন্ধন করেছিলেন। তবে তার মধ্যে ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। বাকি দুই জনকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মনে না হওয়ায় তাদের শুনানি গ্রহণ করা হয়নি।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত কমিশনার আরো বলেন, তার নেতৃত্বাধীন কমিটিকে সাত কর্ম দিবস সময় দেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন দুঃখজনক ঘটনা না ঘটতে পারে- সেজন্য কাজ শুরু করেছে কমিটি।

sinha incident mass hearingসিনহা হত্যার ঘটনায় গণশুনানি অনুষ্ঠিত

তিনি বলেন, ‘তথ্যানুসন্ধানে আমাদের যেখানে যেখানে যাওয়া প্রয়োজন, তার প্রত্যেকটা জায়গায় গিয়েছি। আমরা তিনবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। জায়গাগুলো রেকি করেছি। বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্য, টেকনাফ থানার পুলিশ, ফাড়িঁর পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীসহ ঘটনার সঙ্গে বিভিন্নভাবে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৬০ জনের সঙ্গে কথা বলেছি আমরা। তাদের কাছ থেকে ঘটনার বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছি।’

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীরা তাদের বক্তব্যে যে তথ্য দিয়েছেন, সেই অনুযায়ী প্রতিবেদন তৈরি করে তা দাখিল করা হবে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাইলে সেই প্রতিবেদনের সাহায্য নিতে পারেন।

এ ছাড়া গণশুনানিতে আরো উপস্থিত ছিলেন রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মনোনীত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লে. কির্নেল সাজ্জাদ, চট্টগ্রামের ডিআইজি মনোনীত অতিরিক্ত ডিআইজি জাকির হোসেন প্রমুখ।

গণশুনানি উপলক্ষে মেরনি ড্রাইভের শাপলাপুর এলাকা, ক্যাম্পস্থল এবং আশপাশের এলাকায় সেনাবাহিনী ও অন্যান্য শৃঙ্খলাবাহিনী কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে। গণমাধ্যমকর্মীদেরও ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। তবে শুনানি কক্ষে তাদের কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা রাশেদ। পুলিশের পক্ষ থেকে ওই সময় বলা হয়, রাশেদ সিনহা তার পরিচয় দিয়ে ‘তল্লাশিতে বাধা দেন’। এর পর তিনি ‘পিস্তল বের করলে’ দায়িত্বরত পুলিশ তাকে গুলি করে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের কথাও জানায় পুলিশ। এ নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকেও মামলা করা হয়েছে।

এ ঘটনার বিচার চেয়ে টেকনাফ উপজেলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারহার আদালতে ৯ পুলিশ সদস্যকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন মেজর সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।

মামলার আসামিরা হলেন- প্রত্যাহার হওয়া ওসি প্রদীপ দাশ, বাহারছরা শামলাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের প্রত্যাহারকৃত পরিদর্শক লিয়াকত আলী, উপ-পরিদর্শক নন্দলাল রক্ষিত, উপ-পরিদর্শক টুটুল, সহকারী উপ-পরিদর্শক লিটন মিয়া এবং কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন ও মো. মোস্তফা। এদের মধ্যে সাত আসামির জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *