শিরোনাম

17 Apr 2021 - 08:13:54 am। লগিন

Default Ad Banner

শিরোপা জিতে বছর শুরু রিয়াল মাদ্রিদের

Published on Monday, January 13, 2020 at 11:50 am 99 Views

এমসি ডেস্কঃ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্প্যানিশ লা লিগায় হরহামেশা রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়েছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। অর্ধ যুগ আগে স্প্যানিশ সুপার কাপেও তাই। এরপর মাদ্রিদ ডার্বি যতবারই শিরোপা লড়াইয়ের মঞ্চ সাজিয়েছে ততবারই জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদ। পুনরাবৃত্তি হলো বদলে যাওয়া স্প্যানিশ সুপার কাপেও।

real madrid lift the spanish super cup

সৌদি আরবের জেদ্দায় আরো একটা ফাইনালে নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে হেরে গেল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। রোববার রাতে স্প্যানিশ সুপার কাপের নাটকীয় ফাইনালে নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য ড্র হয়। মাদ্রিদ ডার্বি গড়ায় অতিরিক্ত ত্রিশ মিনিটে। তবু কাটল না গোলখরা। শিরোপা নির্ধারণের চূড়ান্ত আশ্রয়স্থল হলো টাইব্রেকার।

সেখানেই বাজিমাত। পেনাল্টি শ্যুট আউটে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে ৪-১ গোলে হারিয়ে দিল রিয়াল মাদ্রিদ। নাটকীয় এই জয়ে প্রায় ছয় বছর আগের হারের মধুর প্রতিশোধ নিল লস ব্ল্যাঙ্কোসরা। ২০১৪ সালে দুই লেগ মিলিয়ে রিয়ালের বিরুদ্ধে ২-১ ব্যবধানে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। কাল নিরপেক্ষ ভেন্যুতে সেই হারটা ফিরিয়ে দিল দিলেন রামোসরা।

এনিয়ে তিন বছর পর স্প্যানিশ সুপার কাপের স্বাদ পেল লস ব্ল্যাঙ্কোসরা। স্প্যানিশ সুপার কাপে এটা রিয়াল মাদ্রিদের ১১তম শিরোপা। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল বার্সেলোনা ট্রফি জিতেছে ১৩বার। তৃতীয় সফল দল দিপোর্তিভো লা করুনা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তিনবার। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ দুবার এই টুর্নামেন্ট জিতেছে।

এবারের আসরের মাহাত্ম্যটা একটু আলাদা। প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্ট হলো স্পেনের বাইরে। ১৯৮২ সালে জন্মলগ্নের পর ৩৫টি আসরেই অংশ নিয়েছে দুটি দল। এ বছর বাড়ানো হয়েছে দলের সংখ্যাও। নতুন মোড়কের স্প্যানিশ ‍সুপার কাপে প্রতিনিধিত্ব করেছে চারটি দল- বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ, ভ্যালেন্সিয়া ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ।

টুর্নামেন্টে বদল এসেছে আরো একটি। প্রথম ৩৪টি আসরে শিরোপার মীমাংসা হয়েছে দুই লেগ মিলিয়ে। ২০১৮ সালে সবশেষ ট্রফির নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র এক ম্যাচেই। যেখানে সেভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে ট্রফি জিতেছিল বার্সেলোনা। নতুনরূপের এই টুর্নামেন্টে বার্সা ফাইনালে উঠতে পারেনি। সেমিফাইনালে জিততে জিততে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে ৩-২ গোলে হেরেছে কাতালানরা।

বার্সার হার ও অ্যাটলেটিকোর শক্তিমত্তা টিভিতে বসেই দেখেছে রিয়াল মাদ্রিদ। স্বাভাবিকভাবেই নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিয়ে ভয় ছিল রিয়ালের। দলটির কোচ জিনেদিন জিদানের দুশ্চিন্তা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল গ্যারেথ বেল, করিম বেনজেমা ও ইডেন হ্যাজার্ডের ইনজুরি। কাল এই ত্রয়ীর অনুপস্থিতিতেই শিরোপা জিতে নিল রিয়াল মাদ্রিদ।

সৌদি আরবের কিং আব্দুল্লাহ স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে এই জয়ে নিজের স্বভাবসুলভ বৈশিষ্ট্য ধরে রাখলেন রিয়াল কোচ জিদান। এই দলটার হয়ে কখনো ফাইনালে হারের না তিনি। এ পর্যন্ত নয়টি ফাইনালের প্রতিটিতেই জিতলেন জিজু। এ জন্য তিন ধন্যবাদ দিতে পারেন গোলরক্ষক থিবাউট কোর্তোয়াকে। এদিন গোলপোস্টের নিচে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন তিনি।

প্রথম দুই ঘণ্টায় অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে কয়েকবারই গোলবঞ্চিত করেছেন বেলজিয়ান গোলরক্ষক। পরে টাইব্রেকারেও প্রতিবেশি ক্লাবটিকে ভুগিয়েছেন কোর্তোয়া। থমাসের পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন তিনি। তার আগে সাউল নিগেস অ্যাটলেটিকোর প্রথম শট মারেন পোস্টে। পরে ত্রিপিয়ের গোল করলেও স্বপ্ন বাঁচাতে পারেননি।

পেনাল্টি থেকে রিয়ালের হয়ে গোলগুলো করেছেন দানি কারভাহাল, রদ্রিগো, লুকা মডরিচ ও সার্জিও রামোস। চারটি শটের সবকটিতে গোল করে ট্রফি জিতে নেয় রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু তাদের উৎসব কিছুটা হলেও ফিকে হয়ে গেছে অতিরিক্ত সময়ে ভালভার্দে লাল কার্ড দেখলে। রিয়ালেরই সাবেক ফুটবলার আলভারো মোরাটাকে পেছন থেকে ফাউল করায় মাঠ ছাড়তে হয় ভালভার্দেকে।

এনিয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের ফুটবলাররা। ঘটনার জের ধরে হলুদ কার্ড দেখলেন রিয়াল ডিফেন্ডার কারভাহাল। সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে অ্যাটলেটিকোর অ্যাঙ্গেল কোররেয়া, স্টিফান সাভিচকেও। কিন্তু দশজনের রিয়াল মাদ্রিদকে হারাতে পারেনি ডিয়েগো সিমনের দল। দ্বিতীয় মেয়াদে রিয়ালে এসে জিদান পেলেন প্রথম শিরোপার স্বাদ। তবে জিজুর অধীনে এটা রিয়ালের দশম শিরোপা।

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *