21 Jun 2021 - 01:55:25 pm। লগিন

Default Ad Banner

শস্য ভান্ডারের জেলা দিনাজপুর-খনিজ সম্পদে ভরপুর

Published on Sunday, August 11, 2019 at 11:14 am 235 Views

লিমন হায়দার: সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা আমাদেরই সোনার বাংলাদেশ। আমাদের গ্রাম বাংলার এমন দৃশ্য দেখলে মন ভরে যায়,পরান জুড়িয়ে যায়। আমাদের এই দেশটি সত্যি শস্য ভান্ডারে ভরপুর। সেই শস্য ভান্ডারের জেলা হিসেবে খ্যাত দিনাজপুর। সেই শস্য ভান্ডারের জেলাতে একের পর এক খনিজসম্পদের সন্ধান মিলছে।সর্বশেষ হাকিমপুরে লোহার খনির সন্ধানের পর দিনাজপুরের দক্ষিণ পূর্বাংশে ৪ টি উপজেলা মিলে মোট ৫টি খনিজসম্পদের সন্ধান পাওয়া গেল।যার ২টি ইতোমধ্যেই উত্তোলনে গেছে। আশাকরা যায়,আর কিছুদিনের মধ্যেই নবাবগঞ্জের দিঘিপাড়া প্রকল্পটিও উত্তোলনে যেতে পারে। আজ দিনাজপুরের খনিজসম্পদের তথ্য গুলি উপস্থাপন করলাম।

বড় পুকুরিয়া কয়লাখনি প্রকল্প: বড় পুকুরিয়া কয়লাখনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কয়লা খনি। এটি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত। এটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৫ সালে। এর আয়তন ৬.৬৮ বর্গ কিলোমিটার।[১] মজুদের পরিমান ৩৯০ মিলিয়ন মেট্রিক টন। এখানে বিটুমিনাস কয়লা পাওয়া যায়। বড় পুকুরিয়া কয়লা খনির প্রকল্প ব্যয় ২৫১.০৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। [২] এর থেকে প্রাপ্ত কয়লা দিয়ে বড় পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
মধ্যপাড়া কঠিন শীলা প্রকল্প: মধ্যপাড়া ভূগর্ভস্থ কঠিন শিলা ১৯৭৪-৭৫ সালে বাংলাদেশ ভূতাত্তি¡ক জরিপ অধিদপ্তর দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়া নামক স্থানে ও সংলগ্ন এলাকায় ছয়টি কূপ খনন করে এবং ভূ-পৃষ্ঠের অতি অল্প গভীরতায় পুরাজীবীয় যুগের কেলাসিত ভিত্তিস্তরে (Precambrian Crystalline Basement) কঠিন শিলার অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। এ সকল কূপে ভূ-পৃষ্ঠের ১২৮ মিটার থেকে ১৫৪ মিটার গভীরতায় পুরাজীবীয় কঠিন শিলা পাওয়া যায়। মধ্যপাড়ার জি.ডি.এইচ-২৪ নং (এবড়ষড়মরপধষ উৎরষষ ঐড়ষব ড়ৎ এউঐ) কূপে ১২৮ মিটার গভীরতার কঠিন শিলার অবস্থানটি চিহ্নিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনন ও উত্তোলন প্রকল্পের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করার লক্ষ্যে এস.এন.সি (ঝঁৎাবুড়ৎ ঘবহহরমবৎ ধহফ ঈযবহাবৎঃ) নামক কানাডীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করে। ১৯৭৭ সালে সমীক্ষা শেষে এস.এন.সি মত প্রকাশ করে যে, এ প্রকল্প কারিগরি এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে নিরাপদ এবং লাভজনক হবে। ১৯৭৮ সালে সরকার কঠিন শিলা উৎপাদনের লক্ষ্যে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি প্রকল্প অনুমোদন করে। প্রকল্পটিতে অর্থায়নের জন্য ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ সরকার উত্তর কোরিয়া সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ্যে পেট্রোবাংলা এবং উত্তর কোরিয়া সরকারের পক্ষ্যে ন্যাম ন্যাম (ঘঅগ ঘঅগ) নামক কোম্পানি চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর ১৯৯৪ সালের প্রথমদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয়।
দেশের প্রথম লোহার খনি আবিষ্কার এক লোহার খনিতেই পাল্টে যেতে চলেছে দিনাজপুরের অজপাড়াগাঁয়ের বাসিন্দাদের জীবনমান। দেশের উত্তরাঞ্চলের এই জেলার হাকিমপুরের এক গ্রাম ইসবপুর। এই গ্রামেই খোঁজ মিলল লোহার আকরিকের (ম্যাগনেটাইট) খনি। এটি আবিষ্কার করেছে বাংলাদেশ ভূতাত্তি¡ক জরিপ অধিদফতর (জিএসবি)। দুই মাসের খনন শেষে অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এই সুখবর এলো।
এদিকে নিজেদের গ্রামে লোহার খনি আবিষ্কারে আশার আলো ফুটে উঠেছে ইসবপুরের বাসিন্দাদের চোখেমুখে। তারা বলছেন, এখান থেকে লোহা উত্তোলন করা হলে মানুষের জীবনমান পাল্টে যাবে। কর্মসংস্থান হবে। খনির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গত ১৯ এপ্রিল দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। ভূতাত্তি¡ক জরিপ অধিদফতরের ২২ সদস্যের একটি দল এই খনন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মঙ্গলবার এসব তথ্য সাংবাদিকদের জানালেন জিএসবির কর্মকর্তারা। তারা জানান, ভূপৃষ্ঠের এত কাছে লোহার খনি আবিষ্কার দেশে এটাই প্রথম এবং বিশ্বের মধ্যেও প্রথম ১০টির একটি। প্রথম পর্যায়ে এখান থেকে লোহা ও চুম্বকজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে, যা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য জয়পুরহাট পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। এলাকাবাসী মনে করছেন, সীমান্ত এলাকায় কারখানা না থাকায় এখানকার বেশির ভাগ মানুষ বেকার। খনন কাজ শুরু হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। পাশাপাশি দেশও অনেকটা এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। দেশে এ-ই প্রথম লোহার খনির সন্ধান পাওয়ায় এর মাধ্যমে দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা।
দিঘী পাড়া খনি প্রকল্প : নবাবগঞ্জ উপজেলার পুটিমারা ইউনিয়নের অন্তর্গত দিঘিপাড়া কয়লা ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা জরিপ কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। তৈরী করছে রাস্তা। ভাড়া করে আসছে থাকার জন্য বাসা। প্রকল্প পরিচালক জাফর সাদিক জানান দিঘিপাড়া কয়লা ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা জরিপ কাজ শুরু করা হয়েছে। এখানে কি আছে কি নাই, থাকলে কতটুকু আছে, সেটাকে তুলতে হলে কিভাবে এলাকার মানুষকে সাথে নিয়ে ভাল ভাবে করা যাবে এসব বিষয় নিয়েই কাজ চালানো হচ্ছে। জরিপ চলাকালীন সময়ে কয়লা ক্ষেত্র এলাকায় ৫০/৬০ টি স্থানে বোরিং করা হবে। সব কিছু জানার জন্যই এই সম্ভাবতা জরিপ। জরিপ কাজ শুরু করায় এলাকার গ্রামগুলোসহ রাস্তার মোড়ে, হাট-বাজারের চা দোকানে কয়লা উত্তোলনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। কেউ বলছে এলাকায় থাকা যাবে কি না। কেউ বলছে জমির মূল্য কি পরিমান দিবে এসব বিষয় নিয়ে। উল্লেখ্য উক্ত কয়লা ক্ষেত্র থেকে কয়লার অনুসন্ধান ও কয়লা উত্তোলনের ব্যাপারে ২০১৫ সালের ২১ অক্টোবর বাংলাদেশ খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি) ও বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড (বিসিএমসিএল) এর মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সূত্র মতে দেশের অব্যাহত জ্বালানী চাহিদা মেটাতে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দীঘিপাড়া কয়লা ক্ষেত্র উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়েছেন। এই কয়লা ক্ষেত্রের উন্নয়ন করা হলে এখান থেকে বছরে ৪ মিলিয়ন টন কয়লা উৎপাদন সম্ভব হবে। যা দিয়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা যাবে।  সব বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানী বিভাগ দিঘীপাড়া কোল বেসিনের ২৪ বর্গ কি:মি: এলাকার মোট কয়লার পরিমাণ নির্ণয় এবং বেসিনের কেন্দ্রীয় অংশে (১০-১১ বর্গ কি.মি.) ভূগর্ভস্থ পদ্ধতি ব্যবহার করে বছরে ৪ মিলিয়ন টন কয়লা উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন খনি উন্নয়নের জন্য বড়পুকুরিয়া খনি কর্তৃপক্ষকে অনুসন্ধান ও সম্ভাবতা যাচাইয়ের অনুমোদন দেয়।

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *