শিরোনাম

12 Apr 2021 - 09:14:52 am। লগিন

Default Ad Banner

রাজধানীতে যুবদল নেতাকে পিটিয়ে হত্যা

Published on Monday, April 24, 2017 at 10:22 pm 167 Views
এমসি নিউজ ডেস্ক- রাজধানীর পরীবাগে পর্যটন কর্পোরেশন পরিচালিত সাকুরা বারে যুবদল নেতা জনি (৩৫) ওরফে বাবা জনিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত রবিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় একদল হামলাকারী জনিকে পেটাতে পেটাতে বার থেকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে বের করে। বারের সামনে ফাঁকা জায়গায় তাকে হত্যার পর ঘাতকরা পালিয়ে যায়। বারের ভিতরে এসব কার্যক্রমের দৃশ্য সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে ধরাও পড়েছে। পুলিশ ঐ বারের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ জব্দ করেছে। হত্যার ঘটনায় পুলিশ ঐ বারের ক্যাশিয়ার মাজহারুল ইসলাম নয়ন ও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ৫২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। পুলিশ সাকুরা বার সিলগালা করে দিয়েছে। নিহত জনি ঢাকার কল্যাণপুর এলাকার ২১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। এ ছাড়াও তিনি ওই ওয়ার্ডে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন। শাহবাগ এলাকায় ফুলের ব্যবসা করতেন তিনি। জনি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানের রাজনগরের আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে। কল্যাণপুরের ১১ নম্বর রোডের ৫২/এ নম্বর বাসাতে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। তার স্ত্রীর নাম মর্জিনা বেগম। মীম (১৫) ও আয়েশা মনি (৭) নামে দুই সন্তানের জনক তিনি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শাহবাগের ৪/২, পরীবাগ সুপার মার্কেটের দোতালায় সাকুরা রেস্টুরেন্ট এন্ড বারে মদ পান পান করতে যান জনি। এ সময় মদ সেবন করে টাকা না দেয়া এবং ক্যাশ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার সময় বারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। তখন হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এসময় জনি মদপানের টাকা না দিয়ে নিচে দ্রুত নেমে আসতে থাকেন। ঐ সময় বারের কয়েকজন কর্মচারী জনির পিছু নেয়। তারা গেটের কাছে মারধর শুরু করে। জনি তাদের হাত থেকে পালিয়ে যায়। এরপর সাকুরা বারের গলিতে অবস্থিত নিউ ভাই ভাই হোটেলের সামনে জনিকে পিটিয়ে আহত করে বারের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
জনির বিরুদ্ধে কয়েক বছর আগে পরীবাগ এলাকায় খুন হওয়া বিএনপির সাবেক ওয়ার্ড কাউনিন্সলর খাজা হাবিবের গাড়ি চালক সেলিম হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। ওই মামলায় জনি গ্রেফতার হওয়ার পর বর্তমানে জামিনে ছিলেন।
জনি হত্যার কারণ নিয়ে পরস্পর বিরোধি বক্তব্য পাওয়া গেছে। সাকুরা বার থেকে আটককৃতদের তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সর্দার বলেন, সাকুরা বারে চাঁদাবাজির অভিযোগে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
তবে এ অভিযোগে অস্বীকার করে নিহত জনির ভাই নয়ন আহমেদ দাবি করেন, জনি চাঁদাবাজ ছিল না। শাহবাগে ফুলের ব্যবসার পাশাপাশি যুবদলের রাজনীতি করত। আগামীতে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার চেষ্টা করছিল। এ কারণে জনিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। যুবদলের কোন্দলের জের ধরেই জনিকে খুন করা হয়ছে। হত্যাকাণ্ডে যুবদলের নেতাদের হাত থাকতে পারে। সাকুরা বারে যুবদল, ছাত্রদল ও বিএনপির লোকজনের আড্ডা চলত। রাজনৈতিক কারণেই সাকুরা গিয়েছিল জনি। সেখানে যুবদলের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। ওই সময় জনি সাকুরা থেকে বের হয়ে বাসায় যাওয়ার সময় তাকে ঘিরে ধরে যুবদল ও সাকুরা বারে আগে থেকেই অবস্থানকারী তাদের লোকজন। এরপর বার থেকে বের হওয়ার পর রাস্তায় তাকে পিটিয়ে হত্যা করে তারা। এ ঘটনায় অনেকেই জড়িত আছে। তিনি শতাধিক লোকজনকে আসামি করে মামলা করবেন।
সোমবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, পরিবাগ মার্কেটে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সাকুরা বারে মদপান করতে এসে যুবক নিহতের ঘটনার পর মার্কেটের অধিকাংশ দোকানগুলো বন্ধ দেখতে পাওয়া যায়। কয়েকটি দোকান খোলা থাকলেও ওইসব দোকানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে আতংঙ্ক বিরাজ করছে।
পরিবাগ মার্কেটের জেমস হোভেন জুয়েলার্সের কর্মচারী রাজু আহমেদ জানান, মার্কেটে রাত ৯ টার পরে সব দোকানগুলো বন্ধ হয়ে যায়। মার্কেটের পেছনের একটি গেট সবসময় খোলা থাকে। তিনি আরও জানান, গেটে একজন নিরাপত্তা রক্ষী থাকে। সকালে দোকানে এসে শুনতে পাই যে, রাতে এক যুবক মদপান করতে এসে কর্মকর্তা ও কর্মচারীর লাঠির আঘাতে মারা গেছেন। মার্কেটের এলিগ্যান্ট টেইলার্সের কর্মচারী মনিরুল ইসলাম জানান, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাকুরাও অনেক জমজমাট হয়ে উঠে। লোকজনের আনাগোনা বাড়ে। ঘটনাটি গভীর রাতে হওয়ার কারণে মার্কেটের লোকজন তখন কেউ ছিল না।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কেটের একজন কসমেটিকস দোকানদার জানান, এর আগেও সাকুরা বারে মদপান করে অনেকেই নিজেদের ক্ষমতাশালী দলের পরিচয় দিয়ে টাকা দিতে অস্বীকার করার কারণে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে হাতাহাতি হয়েছে। সাকুরা বারে যারা মদ পান করতে আসে তারা অধিকাংশ তরুণ ও তরুণী। বারে যেন বিশৃংখলা না হয় এজন্য মাঝে মাঝে রাতে পুলিশ এসে রেইড দিয়ে যায়।
শাহবাগ থানার  ওসি আবুল হাসান জানান, নিহত জনি সপ্তাহে প্রায় ৩ থেকে ৪ দিন সাকুরা বারে মদপান করতে যেতো। বারের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাকে চিনতো। তিনি আরও জানান, রাতে মদ পান করে জনি টাকা দিয়ে উল্টো বারের ক্যাশ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এতে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বাঁধা প্রদান করেন। তখন জনি দ্রুত নিচে নেমে আসলে কে বা কারা তাকে পিটিয়ে  মেরেছে। কারা তাকে মেরেছে তা পুলিশ জানার চেষ্টা করছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫২ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সর্দার বলেন, প্রকৃত ঘটনাটি তদন্তের জন্য ৫২ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে রেখে বাকিদের ছেড়ে দেয়া হবে।
Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *