শিরোনাম

14 Apr 2021 - 04:21:30 am। লগিন

Default Ad Banner

যে কারণে এখনো সুরক্ষিত পদ্মা সেতু এলাকা

Published on Thursday, May 7, 2020 at 5:07 pm 104 Views

এমসি ডেস্ক :   মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও বন্ধ হয়নি স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ। বরং শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে কাজ করার মাধ্যমে আস্তে আস্তে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে সেতুটি। এটির পেছনে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ। তাদের করোনাভাইরাসের কবল থেকে রক্ষা করতে সেখানে কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের সংশ্লিষ্টদের বড় একটি অংশ চীনের নাগরিক। এ ছাড়া আরো ২২টি দেশের নাগরিক এই প্রকল্পে কাজ করছেন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকসহ মোট ৪ হাজার ৮১২ জন পদ্মা সেতুর প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত আছেন। এর মধ্যে চীনা নাগরিকদের বড় একটি অংশ গত জানুয়ারিতে নিজ দেশে নববর্ষ উদযাপন করতে গিয়ে আটকা পড়েন।

তাদের মধ্যে ৬৭ জন কর্মকর্তা করোনা ছড়িয়ে পড়ার আগে নববর্ষ পালন না করেই ২২ জানুয়ারি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। কিন্তু তখন ১৯৮ জন চীনা দক্ষ শ্রমিক নিজ দেশে আটকা পড়েন। পরবর্তীতে ফেব্রুয়ারি মাসের বিভিন্ন সময়ে এদের মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশে আসেন। ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে আসেন আরো ৪২ জন। বাকি ১৩০ জন মার্চ মাসে বাংলাদেশে ফেরত আসেন। আসার পর সবাইকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশে আসার আগে চীনেও তারা ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন।

প্রকল্পের সংশ্লিষ্টদের করোনাভাইরাসের কবল থেকে রক্ষা করতে আশপাশের এলাকা সম্পূর্ণ ঘিরে রাখা হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে মাওয়া ও জাজিরায় দুই পাশের ১৩২ একর এবং দুই পাশের ৪০০ একর কনস্ট্রাকশন এলাকায় বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। সব শ্রমিককে কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের ভেতরে আনা হয়েছে। তাদের কাউকেই বাইরে যেতে দেয়া হয় না। সেখানে আইসোলেশন সেন্টার ও ১২ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। চার জন চিকিৎসক ও চার জন নার্স সর্বদা নিয়োজিত আছেন।

জরুরি প্রয়োজনে কেউ বাইরে থেকে প্রকল্প এলাকায় আসলে কিংবা এখান থেকে বাইরে গিয়ে আবার ফিরে আসলে তা বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। এর পরই তিনি কাজে যোগ দিতে পারবেন। ঠিকাদাররা সবার খাবার সরবরাহ করেন। এ জন্য নির্দিষ্ট গাড়িতে করে খাদ্যপণ্য এনে সেগুলো প্রকল্পের গেটে রেখে জীবাণুমুক্ত করে তারপর তা ভেতরে আনা হয়। প্রকল্প এলাকার ভেতরেই খাবার রান্না করে পরিবেশন করা হয়।

এ বিষয়ে প্রকল্পের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আইইডিসিআরের পরামর্শ ও নির্দেশনায় শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল-বিকেল সবার তাপমাত্রা মাপা হয়। কারো কোনো সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী মুন্সিগঞ্জের লৌহজং ও শ্রীনগর এবং শরীয়তপুরের জাজিরা ও মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ আছে। ওই এলাকাগুলোতে কেউ আক্রান্ত হলে তা সেতু কর্তৃপক্ষকে জানানো হয় এবং সেই অনুযায়ী স্বাস্থ্য সুরক্ষার পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হয়।

নিয়ম মেনে চলায় এখন পর্যন্ত কেউ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হননি জানিয়ে প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রকল্প এলাকায় বাইরের লোকের প্রবেশ নিষিদ্ধ। ভেতর থেকেও কেউ বাইরে যেতে পারেন না। সবার জন্য প্রকল্প এলাকার ভেতরেই থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *