শিরোনাম

14 Apr 2021 - 05:28:22 am। লগিন

Default Ad Banner

মৃৎশিল্প বিলীন হওয়ার পথে কর্মহীন শিল্পীরা অন্য পেশায় ধাবিত হচ্ছে

Published on Friday, September 18, 2020 at 8:01 pm 60 Views

 মোঃ আবেদ আলী, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দুঃখ-কষ্টের মাঝে দিন কাটলেও মৃৎ শিল্পীরা এখনও ¯^প্ন দেখেন কোনো একদিন আবারও কদর বাড়বে মাটির পণ্যের। ঐতিহ্যবাহী মৃৎ শিল্পের কদর কমছে উপজেলার হাট-বাজার
গুলোতে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় ও চাহিদার ¯^ল্পতাসহ নানা কারণে বিলুপ্তের পথে এ শিল্প। এর মধ্যে মহামারি আকার ধারণ করেছে করোনা ভাইরাস তাই মৃৎশিল্পীরা
এখন অনেক কষ্টে আছে। উপজেলার সাতোর ইউনিয়নের প্রাণনগর গ্রামের গোয়ালপাড়া ও মোহনপুর ইউনিয়নের কুমোরপাড়া গ্রামের বেশির ভাগ পরিবারই মাটির জিনিস তৈরির কাজ করতেন। মাটির হাড়ি, মাটির খেলনা সামগ্রী, ফুলের টব, ভাত রান্নার পাতিল, ডেসকি, কলস, কড়াই, দইয়ের বাটিসহ বিভিন্ন ধরণের মাটির
জিনিসপত্রে ফুটে ওঠে কারিগরের হাতের অপরূপ কারুকার্য। জানা গেছে পলাত, দিলিপ, পতি, হেমতা, সাবিত্রি, কাঁচা মালের দাম বাড়তি হওয়ায় কারিগররা মাটির জিনিস তৈরি করে আশানুরূপ লাভও করতে পারছে না। তাই জীবন ও জীবিকার তাগিদে অনেকে পরিবর্তন করছে পূর্ব পুরুষের ঐতিহ্য ‘কুমার পেশা’। বর্তমান বাজারে এখন আর আগের মতো মাটির জিনিসপত্রের চাহিদা না  থাকায় এর স্থান দখল করে নিয়েছে দস্তা, অ্যালুমিনিয়াম ও পাস্টিকের তৈজষপত্র। ফলে বিক্রেতারা মাটির জিনিসপত্র
আগের মতো আগ্রহের সঙ্গে নিচ্ছে না। তাদের চাহিদা নির্ভর করে ক্রেতাদের ওপর। সে কারণে অনেক পুরোনো শিল্পীরাও পেশা বদল করতে বাধ্য হচ্ছে। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মাটির জিনিসপত্র তার পুরোনো ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলছে। ফলে এ পেশায় যারা
জড়িত এবং যাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন মৃৎ শিল্প তাদের জীবন যাপন একেবারেই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। মৃৎশিল্পীরা জানায়, বর্তমানে এই গ্রামে মাত্র ১০/১৫টি
পরিবার যুক্ত আছে এই পেশায়। আগের মতো লাভ না হওয়ায় এই ব্যবসা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে কারিগররা। ঠিকমতো ভরণ-পোষণ দিতে পারছেনা কর্মীদের। এতে
একদিকে কারিগরেরা সংকটে পড়ছে পরিবার নিয়ে, অন্যদিকে দেশ হারাতে বসেছে নিজ স্ব ঐতিহ্য। তাই মৃৎশিল্পকে বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে সরকারি সহায়তার দাবি সংশিষ্টদের। মৃৎশিল্পীদের মধ্যে আন্ধারু কুমার পাল বলেন, “সবাই নাম নিয়া যাছে বাহে! কিন্তু কিছুই ফের দেয়না হামাক; বেলে করোনা ভাইরাস নাকি আইছে, কি করিমো আর কি খামো হামরা আর কোনঠে না যামো”। মৃৎশিল্প বাঁচাতে এবং এর সাথে সংযুক্ত কয়েটি পরিবারের জীবিকা রাস্বায় এগিয়ে আসবে কর্তৃপক্ষ এমনটাই প্রত্যাশা সবার। এ ব্যাপারে অত্র গ্রামের কুমোর সমিতির সভাপতি রাজেশ কুমার পাল
বলেন, বাপ-দাদার কাছে শেখা আমাদের এই জাত ব্যবসা আজও আমরা ধরে রেখেছি। এই কুমোরপাড়ার আশপাশের এলাকায় এক সময় মাটির তৈরি জিনিসের ব্যাপক চাহিদা ছিল কিন্তু বর্তমানে বহুমুখী সমস্যা আর পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে আজ সংকটের মুখে পড়েছে এই মৃৎশিল্পটি। বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল কাদের বলেন, “আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিল্পীদের প্রশক্ষি ত করে তুলতে পারলে মৃৎশিল্পের বিদেশে বাজার তৈরি করা সম্ভব। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃৎশিল্পের প্রসারে জন্য প্রশিক্ষনের  ব্যবস্থা করা হবে।”

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *