17 Jan 2021 - 08:45:57 am। লগিন

Default Ad Banner

মিঠাপুকুরে আওয়ামীলীগ নেতা কর্তৃক গৃহবধুকে অন্তসত্ত্বা

Published on Saturday, November 9, 2019 at 5:09 pm 135 Views

রংপুরের মিঠাপুকুর থেকে বাসেত আখন্দ:  রংপুরের মিঠাপুকুরে আওয়ামীলীগ নেতা কর্তৃক এক গৃহবধুকে অন্তসত্ত্বা করার অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের মৃত আব্দুল করিম ওরফে নসিমনের মেয়ে কহিনুর (৩৫) এর ১৫ বছর পূর্বে একই উপজেলার শালটি গোপালপুর ইউপি’র শালটি পাড়া গ্রামের বাটুল এর সাথে বিয়ে হয়। দুই সন্তানের জনক বাটুল সংসারে বিভিন্ন সমস্যা, আর্থিক অনটনের কারণে প্রায় সময় ঝগড়া লেগেই থাকতো তাদের পরিবারে। এরই এক পর্যায়ে প্রায় ৪ বছর পূর্বে কহিনুরকে ও তার দুই অবুঝ সন্তানকে ছেড়ে অজানার উদ্দেশ্যে চলে যায় বাটুল । কহিনুরের বাবা ছিল ভুমিহীন ।একই গ্রামের মুক্তার হোসেনের ২ শতাংশ জমিতে একটি কুড়ে ঘর তুলে বসবাস করতেন আব্দুল করিম । তিনি ছিলেন একজন বেহালা-বাদক । এই বেহালা বাজিয়েই গ্রামে-গ্রামে গান গেয়ে ভিক্ষা করে কোনো রকমে জীবিকা নির্বাহ করতেন । তার মৃত্যুর পর ওই কুড়ে ঘরেই অসহায় দুই সন্তানকে নিয়ে এবাড়ি-ওবাড়ি ঝিয়ের কাজ করে সেও (কহিনুর) কোনো রকমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। এদিকে কহিনুরের কুড়ে ঘরের সামনের জমির মালিক একই গ্রামের আজিজুলের ছেলে এনামুল হক ওরফে মামুন । সে ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক । মামুন তার ঐ জমিতে ফসল ফলানোর জন্য কাজ করতে গিয়ে কহিনুরের হালহকিকত জানতে পারে । এসময় কহিনুরের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে এনামুল ওরফে মামুনের কামনা জাগে কহিনুরকে সে ভোগ করবে । এরই ধারাবাহিকতায় এনামুল তার জমিতে কাজ করতে এসে কখনো পানি পান করা, কখনো বা দিয়েশালইয়ের অজুহাতে কহিনুরের ঘরে প্রবেশ করে কহিনুরের সাথে ভাব জমানোর চেষ্টা করে । যেহেতু, মামুন সরকার দলীয় লোক অপরদিকে কহিনুর হতদরিদ্র তাই মামুন তাকে দলীয় ভাবে আর্থিক সাহায্য পাইয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভাব জমাতে সক্ষম হয় । প্রায় এক বছর পূর্বে মামুন-কহিনুরকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ভোগ করতে চাইলে কহিনুর তাতে অসম্মতি জানায়। কারণ হিসেবে কহিনুর ব্যাখ্যা করেন, মামুন বিবাহিত । তিনি আরও বলেন, এদিকে মামুন হাল ছাড়তে নারাজ। একদিন আমাকে  বাড়িতে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে মামুন বলে, এই কথা কাউকে বললে সে আমাকে মেরে ফেলবে অথবা এলাকা থেকে বিতাড়িত করবে। অসহায় কহিনুর মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। এরপর থেকে মামুন দিনে ও রাতে সুযোগ পেলেই কহিনুর কে ভোগ করে আসছে। প্রায় ৫ মাস পূর্বে কহিনুর বুঝতে পারে সে অন্তসত্ত্বা। সে মামুনকে বিষয়টি জানায়। মামুন তাকে চিকিৎসকের কাছে যেতে বললে কহিনুর বলে তার কাছে টাকা নেই। লম্পট মামুন তাকে ৫০ টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক হান্নানের কাছে পাঠায়। ওই পল্লী চিকিৎসক কহিনুরকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার অন্তসত্ত্বার বিষয়টি নিশ্চিত করেন । কহিনুর এই বিষয়টি মামুনকে জানালে মামুন আবারো ক্ষিপ্ত হয়ে কহিনুর কে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে । এর কয়দিন পর পল্লী চিকিৎসক হান্নান উক্ত গ্রামে রোগী দেখতে এসে আনিছুরের স্ত্রী’র নিকট কহিনুরের অন্তসত্ত্বার বিষয়টি প্রকাশ করলে গ্রামে হইচই পড়ে যায়। কহিনুরের গর্ভে মামুনের সন্তান বেড়ে উঠতে থাকে । পাশাপাশি কহিনুরেরও টেনশন বাড়তে থাকে এই সন্তানকে সে কার পরিচয়ে জন্ম দিবে? কারণ, মামুন তার গর্ভের সন্তানের পরিচয় দিতে নারাজ। এমনি এক পরিস্থিতির মধ্যে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিবেশী মিজানুর চাঁদপাড়া চাতাল বাজারে মামুনের কাছে গিয়ে জানতে চাইলে মামুন তা অস্বীকার করে। কহিনুর জানায়, ওই দিন সন্ধায় মামুন কহিনুরের ঘরে প্রবেশ করে কহিনুরের পা জড়িয়ে ধরে বলে বোন তুই আমাকে বাঁচা। ধর্মের কল বাতাসে নড়ে! ঠিক ওই সময়েই মিজানুরের মা কহিনুরের উনুনের আগুন আনতে গেলে ঘরের ভিতরে পুরুষ মানুষের উপস্থিতি বুঝতে পেরে দরজায় দাড়িয়ে উকি মারে। এসময় মামুন বেকায়দা দেখে মিজানুরের মাকে পাশ কাটিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। কহিনুর এখন ৬ মাসের অন্তসত্ত্বা । পরিবারের সদস্যরা ও প্রতিবেশীরা জানান, কহিনুরের স্বামী বাটুল গত ৩ মাস পূর্বে দিনের বেলায় তার বড় ছেলে কবিরুল কে মোবাইল ফোন দেয়ার জন্য একবারই এসেছিলেন। সে সময় তিনি এক ঘন্টাও থাকেননি। এ বিষয়টি নিয়ে গত ৮ নভেম্বর সন্ধায় মুঠোফোনে বাটুলের সাথে কথা হলে সে জানায়, অসম্ভব! কহিনুরের ওই সন্তান আমার নয়। তার সাথে আমার দৈহিক সম্পর্ক ৪ বছর থেকে নেই। আমিও এই ঘটনার সুষ্ঠ সমাধান চাই।
অবশেষে, কহিনুর গত সপ্তাহে স্থানীয় সচেতন সমাজের কাছে ঘটনাটির বিচার দাবী করলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ৪ নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য সাজু মিয়া’র কাছে বিষয়টি সমাধান চান। ইউপি সদস্য সাজু মিয়া বাদীনি’র বাড়ীর পাশে উজির আলীর উঠোনে একটি গ্রাম্য শালিসের ডাক দেন। উক্ত শালীসে স্থানীয় শতশত মানুষ উপস্থিত হলেও বিবাদী এনামুল ওরফে মামুন সেখানে উপস্থিত হননি। ফলে উপস্থিত সকলের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্ঠি হলে ওই ইউপি সদস্য ৫ নভেম্বর-১৯ তারিখে পুনরায় শালিস ডাকেন। উক্ত শালিসে বাদী-বিবাদী এবং স্বাক্ষী গণের উপস্থিতিতে বিবাদী মামুনকে দোষী সাব্যস্থ করা হয়। অপরদিকে শালিস বোর্ডের প্রকাশের আগেই বিবাদী মামুন জনগনের মাঝে প্রচার করে যে সে এই পাপ কাজ করেননি। তাই কহিনুর কে বিয়ে বাদে শালিস বোর্ড যে শাস্তি দিবে তাই মেনে নিবে নতুবা নয়। এইদিকে এই ঘটনায় এলাকার শালিসকারীরা দফায়-দফায় বৈঠক করে সমাধান টানতে ব্যর্থ হয় ।

প্রাপ্ত তথ্য আরও জানা গেছে, এতোদিন অতিবাহিত হলেও এখনো কেউ এই অসহায় গৃহবধুকে আইনের আশ্রয় পাইতে সহযোগীতা করতে এগিয়ে আসেনি। ফলে বলাই যায়, প্রভাবশালীদের চাপে এই অসহায় মহিলাটি একাই সাহস পাচ্ছেন না থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে। সচেতন মহল মনে করে এখনেই উচিৎ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়টিতে নজর দেয়া।

বিষয়টি নিয়ে মুঠোফোনে কথা হয় অভিযুক্ত মামুনের সাথে তিনি জানান, এই ঘটনার সাথে আমি কোনো ভাবেই জড়িত নয়।আওয়ামীলীগের একটি গ্রুপ আমাকে হয়রান করতেই এই অপপ্রচারটি চালাচ্ছে। তবে আমি আশা করি বিষয়টি অল্প সময়ের মধ্যে মিমাংসা হবে।

 

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *