26 Jan 2021 - 05:47:44 am। লগিন

Default Ad Banner

বীরগঞ্জে কোটি-কোটি টাকার সম্পত্তি ৪৯ বছর ধরে পরিত্যাক্ত মোটা অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

Published on Saturday, August 31, 2019 at 7:40 pm 145 Views

 বীরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ ১৮৯০ইং সালে থানা গঠনকালে ১৮৭টি মৌজার জনগনের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তৎকালিন বৃটিশ সরকারের সময় জেলা পরিষদ থানা সংলগ্ন ২ দশমিক ৩৭ একর জমিতে একটি ডিস্পেনচারী, একটি ডাক্তার (এমবিবিএস) কোয়াটার, একটি কম্পাউন্ডার কোয়াটার নির্মানের মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হতো।
বাংলাদেশ স্বাধীনতা উত্তর আওয়ামী লীগ সরকার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স সহ ৩১ শয্যা হাসপাতাল নির্মান করে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স নির্মানের পর পুরাতন ডিস্পেনচারীটি পরিত্যাক্ত হয়। দীর্ঘদিন পরিত্যাক্ত থাকার পর রাতের অন্ধকারে ইট, কাঠ, টিন, লোহার পিলার সহ যাবতীয় মালামাল লুট ও ডিস্পেনচারীটি নিশ্চিহৃ হয়ে যায়। উপজেলা আওয়ামী লীগ পরিত্যাক্ত এমবিবিএস কোয়াটারটি কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার ও কুষ্ঠ চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে কম্পাউন্ডার কোয়াটার দীর্ঘ দিন ব্যাবহার করা হয়।
অবশিষ্ট ফাঁকা মাঠ পরিত্যাক্ত হওয়ায় এলাকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যাবসায়ী সরকারী কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির পূর্ব ও দক্ষিন বাহু দখল করে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসা-বাড়ি নির্মান করে ভোগ দখলে আছেন। স্বাধীনতার পর থেকে দেশে একর পর এক সরকার বদল হলেই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। বর্তমান সরকার এখন পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেনি। স্বাধীনতার পর ৭/৮ বার উচ্ছেদ অভিযানে হাজার হাজার ব্যাবসায়ীর ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের স্বীকার ও লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষতি গ্রস্থ হয়ে অনেকে পথে বসেছে।

বারংবার উচ্ছেদের সুযোগে একশ্রেণীর দালাল চক্র অসহায় ব্যাবসায়ীদের কাগজ করে দেওয়ার নাম করে জেলা পরিষদের ও স্বাস্থ্য বিভাগের কিছু অসৎ কর্মচারী মাকের্টে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বারবার। এলাকার হাজার হাজার মানুষ স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা পরিষদের কাছে বহুতল সুপার মার্কেট নির্মানের দাবী তোলেন বারংবার কিন্তু ২’বিভাগের মালিকানার রশি টানা টানিতে জনতার দাবী পুরন হয়নি ৪৯ বছরেও।

বর্তমান সরকারের সময়ে দিনাজপুর-১ আসনের জাতীয় সাংসদ মনোরঞ্জন শীল গোপালের হস্তক্ষেপে স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের দাবী প্রত্যাহার করে নেয়। জেলা পরিষদ
মালিকানা ফিরে পেয়ে বহুতল সুপার মার্কেট নির্মানের পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়। গত ২৬ অক্টোবর/২০১০ইং জেলা পরিষদের “বহুতল সুপার মার্কেট” নির্মানের জন্য ভিত্তি প্রস্তর আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্ধোধন করে মিষ্টি বিতরন করা হয়। প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যায়ে বহুতল সুপার মার্কেটের ডিজাইনের নকশা ও প্লান তৈরী করে পরিত্যাক্ত ডাক্তার খানার মাঠ পরিস্কারের জন্য হাজার বছরের পুরাতন আমগাছ গুলো কেটে ফেলা হয়। দিনাজপুর জেলা পরিষদ মার্চ/২০১০ইং মাসে ৩-তলা প্লান তৈরী করে।
১ম তলায় ১৮৯টি দোকান ঘর, ২য় তলায় ২০০টি দোকান ঘর ও ৩য় তলায় অফিস, বীমা, ব্যাংক ১২ হাজার বর্গফুট বরাদ্দ গ্রহনের জন্য র্নিধারিত ফরমে আগ্রহীদের কাছে দরখাস্ত আহবান করা হয়। প্রতিটি ফরমের মুল্য ১০০০/- (অফেরৎযোগ্য) নিধারন করে কয়েকশত ফরম নগদ মুল্যে বিক্রয় কর হয়। জেলা পরিষদের শর্ত মোতাবেক প্রথম কিস্তি ৫০ হাজার টাকা এককালিন জমানত হিসেবে গ্রহন করা হয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হচ্ছে যে ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও মার্কেট নিমার্নের টেন্ডার আহবান করা হচ্ছে না।

দিনাজপুর জেলা পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে প্রশাসক মোঃ আজিজুল ইমাম চৌধুরীর সাথে সাক্ষাত করা হলে তিনি জানান, টোটাল মার্কেট (১২হাজার বর্গফুট) এক ছাদের নকশা তৈরী করা হয়েছে কিন্তু পরর্বতীতে সেই কারনে পর্যাপ্ত আলো বাতাসের সমস্যার কথা বিবেচনা করে নতুন ভাবে ডিজাইন করতে সামান্য বিলম্ব হচ্ছে। তিনি বহুতল মার্কেট নির্মানের বিষয়ে নিশ্চত করে জানান, অবিলম্বে বহুতল সুপার মার্কেট নির্মান কাজ শুরু করা হবে বলে আস্বস্থ্য করেন।

 

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *