শিরোনাম

14 Apr 2021 - 04:58:32 am। লগিন

Default Ad Banner

বিরামপুরে শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে স্বামী হত্যার অভিযোগ

Published on Wednesday, August 5, 2020 at 9:58 pm 119 Views

জালাল উদ্দিন রুমি :  দিনাজপুরের বিরামপুরে স্বামীকে বিষজাতীয় ইনজেকশন পুশ করে হত্যার অভিযোগ এনে শিক্ষকদম্পতি আব্দুল কাফী ও রোকসানা বেগমসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন মোছা. লিলুফা ইয়াছমিন (রনি) নামের এক গৃহবধূ। তিনি বিরামপুর পৌর এলাকার ৯নং ওয়ার্ডের পারভবানীপুর (মুন্সিপাড়া) মহল্লার মৃত মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী।

মামলার বাদী লিলুফা ইয়াছমিন (রনি) গত ১৯ জুলাই ২০২০ তারিখে দিনাজপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আমলী আদালত-৬ (বিরামপুর)-এ মামলা দায়ের করেন। যাহার নম্বর-সি/২০। অপরদিকে একই ঘটনায় পিতা হত্যার অভিযোগ এনে গত ১৪.০৪.২০২০ তারিখে বিরামপুর থানায় বাদী মো. কামরুজ্জামান কর্তৃক দায়েরকৃত হত্যা মামলায় লিলুফা ইয়াছমিন (রনি)‘র স্বামী মোস্তাফিজুর রহমান ও প্রতিবেশি রহিম উদ্দিন মুন্সির ছেলে আব্দুল বাকি হত্যার এজাহারে থাকা ২নং আসামী এনামুল হক ওরফে বাবু (৩৫), ৩ নং আসামী নূর আলম সিদ্দিক নাইম (২২), ৪ নং আসামী মামুনুর রশিদ (৪৫) ও ১৯ নং আসামী মো. মাসুদ (৩৫) উক্ত হত্যার সাথে জড়িত নহে উল্লেখ করে তিনি (লিলুফা ইয়াছমিন রনি) গত ১৯.০৭.২০২০ তারিখে দিনাজপুর জেলা নোটারী পাবলিকে একটি এ্যাফিডেভিট করেন।

বাদী লিলুফা ইয়াছমিন (রনি) মামলার আর্জিসূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন (১৩.৪.২০২০) জমিজমা সংক্রান্তের জের ধরে গ্রামে প্রতিবেশি এমদাদুল হক গং ও তার মামলার ১ নং আসামী আব্দুল কাফী গং এর মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া হয়। এরই এক পর্যায়ে আব্দুল কাফীর হুকুমে আসামীগণ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে এমদাদুল গং এর উপরে আক্রমণ চালায়। এসময় সাক্ষী ও স্থানীয় লোকজনের সহিত আব্দুল বাকি ও মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলে মারপিট নিবৃত করার জন্য এগিয়ে আসার চেষ্টা করলে আসামীগণের এলোপাতাড়ি আঘাতের ফলে তারা দুজন গুরুতর আহত হয়। পরে আব্দুল কাফী আহত আব্দুল বাকি ও মোস্তাফিজুর রহমানকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য পরিকল্পনা করে এবং আব্দুল কাফীর নির্দেশে আহত দুজনকে চিকিৎসার নামে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। পরে সেখানে ভালো চিকিৎসা হবে না এই অজুহাতে আব্দুল কাফীর নির্দেশে আহত দুজনকে সরকারি এ্যাম্বুলেন্সে করে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বাদী ও তার বাবা ইয়াছিন আলী মন্ডল পাবলিক বাস যোগে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছার ১ ঘণ্টা পরে তার আহত স্বামীসহ ওই এ্যাম্বুলেন্স না পৌঁছলেও বাদীর নিকট বিষয়টি রহস্যজনক মনে হয়। পরে এ বিষয়ে আব্দুল কাফীর নিকট জানতে চাইলে তিনি বাদী ও বাদীর বাবাকে বলেন, ‘চিন্তা করার কারণ নাই, মোস্তাফিজুর মারা গেলে তোমাকে ৫ বিঘা জমি দেয়া হবে। এইবার সুযোগ পেয়েছি, প্রয়োজনে মেরে ফেলে তাদের প্রতি প্রতিশোধ নেব। আর মোস্তাফিজুর মারা গেলে তোমাদেরই বেশি লাভ হবে।’ এরপর আসামী আব্দুল কাফী আমাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন এবং আমার বাবা আমার স্বামীর যথাযথ চিকিৎসার জন্য আব্দুল কাফীকে অনুরোধ করলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, “এটা তোমার ভারনা নয়, আমার বড়ভাই আব্দুল বাকী মারা গেছে, মোস্তাফিজুর মারা গেলে ডাবল মার্ডারের কেস আরো শক্তিশালী হবে।”

মামলার আর্জিতে বাদী আরো উল্লেখ করেন, গত ১৫.৪.২০২০ তারিখ সন্ধা ৭টায় আব্দুল কাফী ও তার স্ত্রী রোকসানা বেগম হাসপাতালে চিকিৎসাপোশাক ও সরঞ্জামহীন একজন অপরিচিত ব্যক্তিকে নিয়ে আসেন। অপরিচিত ওই ব্যক্তি আমার স্বামীর শরীরে ইনজেকশন পুশ করতে চাইলে আমার বাবা তাকে বাধা দেন। ওই অপরিচিত ব্যক্তি আমার বাবার বাধা উপেক্ষা করে আব্দুল কাফী আমার স্বামীর বামহাত চেপে ধরেন এবং অপরিচিত ওই ব্যক্তি ইনজেকশন পুশ করেন। এর কিছুক্ষণ পরেই আমার স্বামীর শরীরে খিঁচুনি ও ঝাঁকুনি শুরু হয়। আমার স্বামীর শরীরে বিষজাতীয় ইনজেকশন পুশ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় আরেক মামলার বাদী মো. কামরুজ্জামানের দায়েরকৃত জোড়াখুন মামলার জামিনপ্রাপ্ত ৪ নং আসামী মামনুর রশিদ জানান, ‘গত ১৭.৬.২০২০ তারিখে আদালত থেকে জামিনে মুক্তির পর থেকেই বাদী পক্ষের লোকজনের হুমকির কারণে অদ্যাবধি আমরা বাড়িতে প্রবেশ করতে পারি নাই। আমরা বাড়িতে না থাকায় বাদীপক্ষের লোকজন আমাদের বাড়ি থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্রসহ কৃষিপণ্য লুট করেছে। এছাড়া চলতি আমন মৌসুমে আমরা এখনও জমিতে ফসল লাগাতে পারি নাই। পরিবার-পরিজন নিয়ে পালিয়ে পালিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।’

এ বিষয়ে উক্ত মামলার ১নং আসামী আব্দুল কাফী জানান, ‘তাদের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আসামী পক্ষের আত্মীয়রাই তাদের জমির ফসল ও বাড়ির কিছুকিছু জিনিসপত্র আমাদের সবার সামনে থেকে নিয়ে চলে গেছে।’

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *