15 Jun 2021 - 10:14:13 am। লগিন

Default Ad Banner

বিরামপুরে যমুনা নদীর বুকজুড়ে বোরোধান চাষ হচ্ছে

Published on Monday, April 29, 2019 at 2:25 pm 232 Views

জালাল উদ্দীন রুমী: দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার শাখা যমুনা নদীর বুকচিরে একসময় ছুটে চলত বড় বড় পালতোলা নৌকা। সত্তরের দশকে এই নদীতে মাঝিরা ভাটিয়ালী গানের সুরে পাল তোলা নৌকা নিয়ে ছুটে চলত যে যার গন্তব্যে। কালের স্রোতে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদী নাব্যতা হারিয়ে আবাদি জমিতে পরিনত হয়েছে। ভরা যৌবনা উত্তাল শাখা যমুনা নদীর বুকে এখন দোল খাচ্ছে সবুজ ধানক্ষেত।
এলাকার প্রবীণরা জানিয়েছেন,ব্রিটিশ আমল থেকেই জেলার হাকিমপুর উপজেলার কাটলা বাজারের পাশে নদীতে পারাপারের খৈয়া ঘাট ছিল। আশির দশকে কাটলা ইউনিয়ন কেটে বিরামপুর উপজেলার মধ্য পড়ে। সেই থেকে বিরামপুর উপজেলার কাটলা, চৌঘরিয়া, শ্রীপুরসহ বেশ কয়েকটি স্থানে নদী পারাপারে সরকারি রাজস্ব আদায়ের জন্য ইজারা হত। কিন্ত নব্বই দশক থেকে ক্রমেই এই নদী তার  যৌবন ও নাব্যতা হারিয়ে এখন মরা নদীতে পরিনত হয়েছে । অতীতের শাখা যমুনা নদীতে ঢেউয়ের তালে তালে এখন আর পালতোলা বেপারী নৌকা চলেনা। মাঝিরা ভাটিয়ালী আর পল্লী গানের সুরে নৌকা তাড়িয়ে গন্তব্যে ছুটে না। গায়ের বধুরা কলসি কাঁকে জলনিতে নদীর ঘাটে আসেনা। রাখাল গরু মহিষ নিয়ে নদীর জলে গোসল করায় না। নদীর পাশে গড়ে উঠা গ্রামের নারী পুরুষরা নিত্যপ্রয়োজনে নদীর জল ব্যবহার করেনা। গায়ের দস্যি ছেলে মেয়েরা নদীর জলে সাতার কাটেনা। নদী পানি এখন বর্জে বিষাক্ত। নদীকে ঘিরে বিভিন্ন স্তানে গড়ে ওঠা বড় বড় হাটবাজার সমূহে ব্যবসায়ীরা কৃষিপণ্য ক্রয়করে নৌকার আশায় উজান আর ভাটির পথে তাকায় না। এক সময় অসংখ্য মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্যে ও জীবন জীবিকার মাধ্যম হিসেবে নদীপথকেই সহজ ও নিরাপদ মনে করত। কেননা সেই সময়ে ব্যবসা বানিজ্যের মুল কেন্দ্রবিন্দুই ছিল নদীর তীর। এলাকার সকল মানুষের দেশীয় মাছের চাহিদার প্রধান উৎস ছিল অত্র নদী। এলাকার অনেক জেলারা নদীতে মাছ শিকার করে কাটলা বিরামপুর ডাঙ্গাপাড়া সহ আশপাশের বাজারে বিক্রিকরে জীবিকা নির্বাহ করত। তাই নদী তীরেই গড়ে উঠেছিল অনেক জেলে পল্লী। নদীতে পানি না থাকায় জেলেরা তাদের মাছ শিকারের পেশা বাদ দিয়ে যেযার নতুন পেশায় জীবন যাপন করছেন।বহু যুগ ধরে নদীর পানি দিয়ে অত্র এলাকার নদীর দুইপারের কৃষকরা তাদের কৃষি জমিতে পানি সেচ দিয়ে উর্বরাতা বজায় রাখত। ফসল ফলিয়ে হাসিমুখে ঘরেতুলে পরিবার নিয়ে সুখে শান্তিতে বাস করত। নদীতে পানি না থাকায় আগেরমত আর সেচের শুবিধা তেনমটি নেই। পানি শুকিয়ে যাওয়ায় অত্র নদীর মাঝবুকেই বোরো ধানের আগায় বাতাসের দোল খাওনোর  নয়নাভিরাম দৃশ্য এখন কালের সাক্ষী মাত্র। নদী এলাকায় গড়েউঠা জেলেদের অসংখ্য বসতিগুলো যা জেলে পরিবার নামে পরিচিত ছিল সেগুলো এখন শুধুই নামে মাত্র জেলে পল্লী ।  জেলেদের ডিঙ্গি নৌকা জাল দড়ি এখন শুধুই স্মৃতি।

এলাকার অনেক প্রবীণদের চোখে দেখা সেই সোনালি দিন গুলো শেষে হয়ে গেছে অনেক আগেই। সময় গড়িয়ে চলার সাথে সাথে ভরা যৌবনা শাখা যমুনা নদী এখন মরাখালে পরিণত হওয়ায় নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অসংখ্য হাটবাজার এখন হয়েছে ভুতড়ে অঞ্চল। ঘাট হয়েছে অঘাট আর অঘাটই এখন ঘাটে পরিনত হয়েছে। কৃষি জমিগুলো পরিণত হয়েছে ধূ ধূ বালুময় প্রান্তরে।  আর সে সময়ের ব্যবসা-বাণিজ্যের উৎসগুলো হয়ে গেছে প্রায় বন্ধ। 

ভৌগোডলিকভাবে এই নদীটি ছিল চমৎকার অবস্থানে। নদীটি দীর্ঘদিন যাবৎ খনন ও ড্রেজিং করা হয়নি এমনকি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। সরকারের নজর না দেয়ার কারনে এক শ্রেণির দখলদার ও প্রভাভশালি মহল নদীটির অনেক স্থান দখলে নিয়ে যেযারমত কৃষি জমি হিসেবে ফসলের চাষ করছে। আবার অনেকেই অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র স্যালো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে গভির গর্তের সৃষ্টিকরে আশপাশের ফসলি জমির ক্ষতিসাধন করছে। যা বালুদস্যুদের নিত্যনৈমেত্তিক অপলকর্ম হিসেবে সচেতন মহলের কাছে পরিচিত। 

এ বিষয়ে নদী রক্ষাকমিটির সভাপতি বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তৌহিদুর রহমান জানান, আমরা সরকারের নিকট নদীখনন ও ড্রেজিং এর জন্য প্রয়োজনীয় কাজগপত্র পাঠিয়েছি। শীঘ্রই নদী খননের কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানিয়েছন।

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *