শিরোনাম

12 Apr 2021 - 10:53:23 am। লগিন

Default Ad Banner

বিরামপুরে নির্যাতনের শিকার গৃহবধু হাতপালে

Published on Saturday, October 31, 2020 at 10:51 pm 54 Views

জালাল উদ্দীন রুমী-: দিনাজপুরের বিরামপুরে রেজিনা বেগম (২৭) নামে এক গৃহবধু শশুর, ভাসুর, সতীন, জা ও সতীনের ছেলের নির্যাতনের শিকার হয়ে বিরামপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি এখন বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নারী ওয়ার্ডের ২৫ নং বেডে শুয়ে আঁঘাতের ব্যথায় কাতরাচ্ছেন। আহত নারী উপজেলার দিওড় ইউনিয়নের কোচ গ্রাম এলাকার আব্দুর রাজ্জাক মন্ডলের একমাত্র কন্যা। হাসপালে বেড থেকে উপজেলার দেবরপাড়া গ্রামের হাছেন আলির ছেলে আব্দুল খালেকের স্ত্রি রেজিনা বেগম জানান, ২৭ অক্টোবর বিকেলে বাড়ির পার্শ্বে জ্বালানি কাজের জন্য শুকনা পাতা সংগ্রহ করছিলাম। এ সময় আমার বড় সতীন ইসমোতারা আমার কাছে শয়ন ঘরের চাবী চায়। আমি আমার ঘরের চাবি দিতে অস্বীকার করলে আমার উপর চড়াও হয়ে উঠে। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে আমার শশুর হাছেন আলির নির্দেশে সতীন এসমোতারা তার ছেলে ইমরান হোসেন (২০), ভাসুর আব্দুল হাকিম, দেবর গোফ্ফারের স্ত্রী ফাতেমা বেগম পূর্বপরিকল্পিত ভাবে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ও কিলঘুষি মেরে অাহত করলে আমি এক সময় জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে যাই। প্রতিবেশিরা আমাকে তৎক্ষনাত ভ্যানগাড়িতে করে সন্ধ্যায় বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করিয়ে দেয়। রেজিনা আরো জানান, তার স্বামী এক জন নিয়মিত মাদক ব্যবসায়ী ও খোর। এবিষয়ে রেজিনার স্বামী অাব্দুল খালেকের নিকট মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তিনি ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন না। অাব্দুল খালেক আরো জানান, তার বড় স্ত্রী সন্তানসহ দির্ঘদিন স্ত্রীর বাবার বাড়ি ছোট তিতলে গ্রামে থাকতেন। তাই তিনি গত ৪ বছর আগে  রেজিনা বেগমকে বিবাহ করে ঘরসংসার করে আসছেন। ঘটনার বিষয়ে অাব্দুল খালেকের নিকটতম বন্ধু নূরে আরম মুঠফোনে জানান, এটা একটা পারিবারিক দন্দ।বিষয়টি দ্রুত মিমাংসা করে দেওয়া হবে। কিন্তুু ঘটনা ৫ দিন অতিবাহিত হলেও অদ্যাবদি কোন উদ্যোগ নূরে আলম নেয়নি বলে রেজিনা ও তার পরিবারের পক্ষথেকে জানিয়েছেন। রেজিনার বাবা আব্দুর রাজ্জাক জানান, খালেক আমার মেয়েকে আমার ইচ্ছার বিরিদ্ধে জোর করে বিবাহ করেছে। মেয়ের সাথে বিবাহ না দিলে আমাকে মাদক দিয়ে ফেসেদিবে বলে হুমকি দেয়। ভয়ে এ বিয়েতে রাজি ছিলাম। আমি এর শুবিচার চাই। রেজিনার মা তাহেরান বিবি ও ছোট ভাই তারেক বাবু জানান, আমরা বিবাহে রাজি না থাকায় খালেক প্রায় ভয়ভীতি প্রদর্শণ করে আসছিলেন। খালেক মাদকের ব্যবসায়ী। ঘটনার পর বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দিয়ে আসছেন। আমরা আইনের আশ্রয় চাই। বিরামপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান এর নিকট মুঠফোনে গৃহবধু রেজিনা বেগমের নির্যাতনের বিষয়ে কোন অভিযোগ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান,প্রতিদিন অনেক অভিযোগ অাসছে। অভিযোগ হলে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। গৃহবধু রেজিনা বেগমকে তাঁর স্বামীর  বাড়িতে শশুরের নির্দেশে বড় সতীন, সতীনের ছেলে, ভাসুর ও দেবরের স্ত্রী নির্যাতন করে আহত করার বিষয়টি এরাকার সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।।

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *