16 Sep 2021 - 04:18:48 pm। লগিন

Default Ad Banner

বিরামপুরে চা চাষ!

Published on Wednesday, August 28, 2019 at 11:07 am 216 Views

এমসি ডেস্ক: সমতলেও চা চাষের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে দিনাজপুরের বিরামপুরে। ধানের পাশাপাশি চা-চাষে বেশি লাভ হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে চা চাষ শুরু করেছে দিনাজপুরের অনেক কৃষক।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দিনাজপুরের বিরামপুর-ফুলবাড়ী সড়কের ধানজুড়ি থেকে তিন-চার কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে গেলেই সোনাজুড়ি গ্রাম। গ্রামটির বিস্তৃত এলাকাজুড়ে সবুজ বেষ্টনির মধ্যে আলো-ছায়ায় গড়ে ওঠা মো. মুক্তার হোসেনের চা বাগানটি দেখলে আর চোখ ফেরানো যায় না।

তিনি পেশায় একজন সরকারি চাকরিজীবী। বর্তমানে তিনি ঢাকায় প্রধান হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে সুপারিনটেনডেন্ট পদে কর্মরত আছেন।

মো. মুক্তার হোসেন জানান, নয় বিঘা জমি লিজ নিয়ে প্রায় চার লাখ টাকা খরচ করে তিনি পাঁচ বছর আগে চা চাষ শুরু করেন। প্রতিটি চারা সাড়ে চার টাকা দরে কিনেন। তিনি মোট সাড়ে ১৭ হাজার চারা রোপণ করেন।

তিনি আরো জানান, এক মাস আগে বাণিজ্যিকভাবে গাছ থেকে পাতা তুলে পঞ্চগড়ের করতোয়া ‘টি ফার্মে’ বিক্রি করছেন। প্রতি কেজি পাতা ২৪-২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চা বাগান পরিচর্যায় দুইজন শ্রমিক সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। প্রতি ৩৫-৪০ দিন পর পর গাছ থেকে পাতা তোলা হয়। এ সময় ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়।

স্থানীয় চা শ্রমিক মতিন ও আশরাফুল জানান, বর্ষা মৌসুমে বাগানে যেন পানি না জমে, সে জন্য গাছের গোড়া উঁচু করে দিতে হয়। আবার চা গাছে ছায়া দিতে মাঝে-মাঝে পেঁয়ারা ও আম গাছ লাগানো হয়েছে। খরার সময় পানি ছিটিয়ে গাছ সতেজ রাখতে হয়। মাঝে মাঝে জীবানুনাশক ওষুধও স্প্রে করতে হয়।

তারা জানান, চা পাতার তোলার সময় প্রতিদিন ২৫০ টাকা হারে কাজ করেন। এর ফলে স্থানীয় অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিখছন চন্দ্র পাল জানান, বিরামপুরের মাটি চা চাষের উপযোগী। বছরে দুই থেকে তিনবার জৈব সারের পাশাপাশি ইউরিয়া, পটাশ, টিএসপি সার প্রয়োগ করলেই চলে। গাছ যত বড় হবে, পাতার পরিমাণ ততই বাড়বে। তবে লাল মাকড়সা ও মশা চা পাতা যেন না খেয়ে ফেলে, তার জন্য কিছু ওষুধ ছিটাতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বিরামপুরে চা চাষ একটি সম্ভবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মুক্তার হোসেনের মতো অনেকেই বিরামপুরসহ আশপাশের অঞ্চলে চা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠবে। ফলে চা শিল্পে দেশে আমদানি নির্ভরতা কমবে। চা চাষকে আরো সম্প্রসারিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব প্রকার সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *