শিরোনাম

13 Apr 2021 - 03:37:37 pm। লগিন

Default Ad Banner

বাবার চিকিৎসায় মেডেল বিক্রি করেছেন মাহফুজা

Published on Tuesday, February 16, 2016 at 11:15 am 182 Views

মাহফুজাসিসি ডেস্ক: সাঁতারে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চারটি স্বর্ণ জিতেছেন বাংলাদেশে সাঁতারু মাহফুজা আক্তার শিলা। এর মধ্যে সম্প্রতি সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসে সাঁতারে দুইটি সোনা জিতেছেন তিনি। কিন্তু বাবার চিকিৎসার জন্য স্বর্ণের দুটি মেডেল বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছেন ‘স্বর্ণকন্যা’ মাহফুজা।

বুধবার এই ‘স্বর্ণকণ্যা’কে নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম গালফ-টাইমস ।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, যশোরের অভয়নগর উপজেলার দরিদ্র পরিবারের সন্তান মাহফুজা এ বছর সাউথ এশিয়ান গেমসে ১০০ মিটার এবং ৫০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে সোনার মেডেল জেতেন। এর মধ্যে ৫০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকে ভেঙেছেন পুরনো রেকর্ড।

হৃদরোগে আক্রান্ত মাহফুজার বাবা আলী মোহাম্মদ গাজী বর্গাচাষ এবং গরুর দুধ বিক্রি করে চালাতেন সংসার। আলী মোহাম্মদ গালফ-টাইমস -কে বলেন, ‘এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গরু কিনে তার দুধ বিক্রি করে এবং অন্যের জমি চাষ করে সংসারের খরচ চালাতাম আমি। কিন্তু সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়েছে’।

আলী বলেন, ‘আমার হৃদরোগের চিকিৎসা করানোর জন্য টাকা সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হলে দুটি স্বর্ণের মেডেল বিক্রি করে দেয় মাহফুজা।’ মেয়ের মেডেল বিক্রির কথা বলার সময় চোখ দিয়ে পানি ঝরছিল তার।

মাহফুজার মা করিমুন্নেসা বলেন, ‘গরুর দুধ বিক্রি করে এবং এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মাহফুজার পড়াশুনা এবং খেলাধুলার খরচ মেটাতাম। আমার মেয়ে বিদেশে খেলে মেডেল জিতে দেশের জন্য সম্মান বয়ে নিয়ে এসেছে, কিন্তু আমাদের দুর্দশা কেউই বোঝেনি, কীভাবে আমাদের সংসার চলে এবং কীভাবে আমরা মাহফুজার খরচ বহন করি।’

চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কমিউনিকেশন এন্ড জার্নালিজম বিভাগ থেকে অনার্স এবং মাস্টার্স শেষ করেছেন মাহফুজা। পার্ট টাইমার হিসেবে কাজ করছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে।

সাঁতারে এ পর্যন্ত ৫২টি মেডেল জিতেছেন মাহফুজা যার মধ্যে আন্তর্জাতিক ইভেন্টে জিতেছেন চারটি স্বর্ণ।

তিন ভাইবোনসহ একটি টিনশেড বাড়িতে থাকেন মাহফুজা, যেখানে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ।

মাহফুজার বড়বোন আফরোজা বেগম বলেন, ‘তৃতীয় শ্রেণীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় জেলা পর্যায়ের সাঁতার প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার জিতেন মাহফুজা। পরবর্তীতে আবদুল মান্নান নামের জেলার এক সাঁতারের শিক্ষক তাকে প্রশিক্ষণ দেন এবং জাতীয় পর্যায়ে খেলার জন্য তৈরি করেন’।

‘এরপর বিকেএসপিতে খেলার সময় লোকজনের সহায়তায় চলে মাহফুজার পড়াশুনার খরচ’, জানান আফরোজা।

মাহফুজার মা বলেন, ‘এখন আমি আশা করছি সরকার স্বর্ণ বালিকার পরিবারকে সহায়তার জন্য এগিয়ে আসবে’।

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *