21 Jan 2021 - 11:51:37 pm। লগিন

Default Ad Banner

বাংলাদেশ কখনই কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের কাছে মাথা নত করবে না

Published on Friday, March 24, 2017 at 9:30 am 204 Views

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে কখনই কোনো বিদেশি রাষ্ট্র বা দাতাগোষ্ঠীর কাছে মাথা নত করবে না। কারণ বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের জন্য কারো ওপর নির্ভরশীল  নয়। গতকাল সকালে রাজধানীর ওসমানী।

স্মৃতি মিলনায়তনে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০১৭’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। এ বছর ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে স্বাধীনতা পদক ২০১৭তে ভূষিত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং উন্নয়নসহ জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য এই পদক প্রদান করা হয়। পুরস্কার হিসেবে প্রত্যেকে ৩ লাখ টাকার চেক, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের একটি পদক ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবছর স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হয়েছেন- গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) শামসুল আলম-বীরউত্তম, স্বাধীন বাংলা বেতারের কর্মকর্তা আশরাফুল আলম, শহীদ মো. নাজমুল হক, প্রয়াত মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী (মরণোত্তর), শহীদ এন এম নাজমুল আহসান (মরণোত্তর), শহীদ ফয়জুর রহমান আহমেদ (মরণোত্তর), চিকিৎসা শাস্ত্রে অধ্যাপক ডা. এএইচএম তৌহিদুল আনোয়ার চৌধুরী, সাহিত্যে রাবেয়া খাতুন ও মরহুম গোলাম সামদানী কোরায়শী (মরণোত্তর), সংস্কৃতি ক্ষেত্রে প্রফেসর ড. এনামুল হক ও নৃত্যকলায় ওস্তাদ বজলুর রহমান বাদল, সমাজকল্যাণে খলিল কাজী (ওবিই), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান এবং প্রয়াত অধ্যাপক ড. ললিত মোহন নাথ (মরণোত্তর) এবং জনপ্রশাসনে প্রফেসর মো. আসাদুজ্জামান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম স্বাধীনতা পদক প্রদান অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এবং স্বাধীনতা পদক বিজয়ীদের সাইটেশন পাঠ করেন। স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্তদের পক্ষে অধ্যাপক ড. এনামুল হক নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তব্য রাখেন। পদকপ্রাপ্তরা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক গ্রহণ করেন। আর বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্বাধীনতা পদক গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত, চিফ হুইপ ও হুইপবৃন্দ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারকগণ, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ, তিন বাহিনী প্রধানগণ, ডিপ্লোমেটিক কোরের ডিন, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকবৃন্দ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় পুরস্কার। আমি মনে করি স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তারা পুরস্কার পেয়েছেন। যারা পুরস্কার অর্জন করেছেন, আপনারা সমাজের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। আমাদের সমাজে যারা নিজেদের জীবনকে উন্নত করে গড়ে তুলতে চায়-তারা আপনাদের পথ অনুসরণ করবে। আপনাদের মেধা-মনন দিয়ে একটি প্রগতিশীল সমাজ আমরা গড়ে তুলতে চাই। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এভাবে একটি আদর্শ নিয়ে গড়ে উঠবে এবং স্ব-স্ব কর্মক্ষেত্রে কৃতিত্বের সঙ্গে অবদান রাখবে। একইসঙ্গে আপনাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দেশকে উন্নত সমৃদ্ধশালী করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরাজিত প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির ষড়যন্ত্রে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা হয় এবং তখন থেকেই এদেশে হত্যা, ক্যু এবং ষড়যন্ত্রের রাজনীতির গোড়াপত্তন করে ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে দেশকে পিছিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্রের শুরু হয়।

 

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *