শিরোনাম

20 Jan 2021 - 01:52:19 pm। লগিন

Default Ad Banner

ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্হ্য   কেন্দ্রের বেহাল দসা অরক্ষিত অবস্থায় বারান্দায় পড়ে রয়েছে ঔষধের কার্টুন, দেখার যেন কেউ নেই!

Published on Monday, July 22, 2019 at 8:53 am 161 Views

খাজানুর হায়দার লিমন: দেশের নাগরিকের ৫টি মৌলিক চাহিদার অন্যতম বিষয়টি হলো চিকিৎসা। সেই চিকিৎসা সেক্টরে কিছু ব্যক্তির অনিয়ম-দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে সাধারন মানুষ আজ সেই মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। চিকিৎসকরা মফস্বল শহরে থাকতে চান না। তারা সব সময় শহর মুখী। যে যার দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করছে না। চিকিৎসক ছাড়াও  স্বাস্হ্য কেন্দ্রে কর্মরত অন্যান্য কর্মচারীরাও তাদের দায়িত্বের প্রতি উদাসীন। নেই তাদের কোন  সচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। অনুসন্ধানে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এমনই তথ্য উঠে এসেছে।
তথ্য নির্ভর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের মাঝামাঝিতে অত্র অঞ্চলের গুরত্বপূর্ন এই
স্বাস্থ্য কেন্দ্রের (ইউএইচ এন্ড এফপিও) উপজেলা  স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পদে ডাঃ নুরুল ইসলাম যোগদান করেন। এই পদে যোগদানের পূর্বে তিনি একই হাসপাতালে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বিভিন্ন পদে কর্মরত ছিলেন। বিশেষ করে (ইউএইচ এন্ড এফপিও) পদে যোগদানের পর প্রশাসনিক অবস্থা থেকে শুরু করে সর্ব সেক্টরে চরম অব্যবস্থাপনা ও নৈরাজের সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো কেন হচ্ছে? উত্তর সহজ! উদাহারণ হিসেবে আমরা বলতে পারি বাড়ির অভিভাবক যখন শক্ত হয় তখন সব ঠিক ঠাক মতো চলে। আর যে বাড়ির অভিভাবক অদশা, দুর্বল সে বাড়ির অবস্থা তো হজবরল হবেই। যেমনটি ঘটেছে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ক্ষেত্রে। আরো কিছু চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া গেছে ডাঃ নুরুল ইসলামের বিষয়ে। তিনি দায়িত্ব নেয়ার পরপরই  স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত চাকুরীজীবিদের দুটি গ্রপে বিভক্ত করেছেন। একটি গ্রপ রয়েছে, যারা তার (ডাঃ নুরুলের) কথা শুনেন ও মানেন। আরেকটি গ্রুপ আছেন, যারা তার (ডাঃ নুরুলের) কর্মকান্ড পছন্দ করেন না। অভিযোগ আছে, তারাই মুলত ডাঃ নুরুলের রোশানলে পড়েন।
এবার আসি অবস্থাপনার দিকে। চিকিৎসার অত্যন্ত— গুরত্বপূর্ন পাঠ হলো ঔষধ। সেই
ঔষধটি যদি নিয়ম মেনে সংরক্ষন করা না হয়, তবে ঔষধের কার্যক্ষমতা থাকবে না। গত ২০ জুলাই শনিবার বেলা ১২টা ২০মিনিটে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন ভবনের বারান্দায় গিয়ে দেখা মিললো বেশ কিছু পরিমাণ ঔষধের কাটুন অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অভিযোগ আছে এই ঔষধের কার্টুন গুলি প্রায় মাসকে মাস ধরে পড়ে থাকে বারান্দায়। ফলে বৃষ্টির পানির ছিটা সহ প্রখর তাপদাহের কারণে ঔষধের কার্যক্ষমতা থাকার কথা না বলে অনেক চিকিৎসক এমন অভিমত ব্যক্ত করেন। বিষয়টি নিয়ে ষ্টোর কিপার লাবুর সাথে কথা হলে তিনি জানান, এই ঔষধ গুলি কমিউনিটি ক্লিনিকের। আমাদের ফুলবাড়ীতে ২৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। নিচতলায় আমাদের জায়গা না থাকার কারণে কমিউনিটি ক্লিনিকদের কে বারংবার বলার পরও ঔষধ গুলি গ্রহণ না করার কারণে বাধ্য হয়েই ঔষধের কার্টুন গুলি এভাবেই ফেলে রাখতে হয়। নিচতলায় জায়গা নেই সেক্ষেত্রে আপাতত ঔষধ গুলি সংরক্ষনের জন্য ২য় তলায় কোন একটি কক্ষে সংরক্ষন করা তো যেত সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এক একটি কাটুনের ওজন অনেক। এগুলো উপরে তুলতে
অনেক কষ্ট হয়।

এ বিষয় গুলি নিয়ে (ইউএইচ এন্ড এফপিও) কক্ষে বেলা ১২টা ৪০মিনিটে
গেলে ডাঃ নুরুল ইসলামকে পাওয়া যায় নি। এসময় ভারপ্রাপ্ত আরএমও ডাঃসনজয় কুমার জানান তিনি ডায়বেটিকসের রোগী। স্যার ঔষধ খাবার জন্য বাড়িতে গেছেন। এখনই আসবেন। এরপর তেনার আসতে দেরি হওয়ায় মুঠোফোনে বেলা ১২টা ৫৭মিনিটে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করে বলেন, ঔষধ খাওয়ার জন্য এসেছি। আপনি অফিসে বসেন আমি আসছি বলে অপরপ্রান্ত  থেকে সংযোগটি বিচ্ছিন করেন। অবশেষে অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো! তিনি আসলেন, কথা হলো সার্বিক বিষয় নিয়ে। বারান্দায় ঔষধের কাটুন রাখার প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত জায়গা নেই। ফলে বাধ্য হয়েই আপাতত এভাবেই রাখতে হচ্ছ্ধেসঢ়;।
গ্রুপিং এর বিষয়ে তিনি বলেন, আমি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রধান, সবাইকে সমান ভাবেই
দেখি। গ্রুপিং এর প্রশ্নই আসেনা। আমার চাকুরী বেশি দিন নেই। বাকি সময়টা
ভালো ভাবেই শেষ করতে চাই। ফূলবাড়ী স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অনিয়ম-দুনীর্তি ও অব্যবস্থাপনার বিষয় গুলি নিয়ে সিভিল সার্জনের দপ্তরে গিয়ে কথা হয় সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুল কুদ্দুসের সাথে। ডাঃ নুরুলের বিষয়ে বিরক্ত হয়ে তিনি বললেন, মৌখিক ভাবে বলার পরেও না শুনলে পরবর্তীতে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অনিয়ম-দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে স¤প্রতি তাকে লিখিত ভাবে নোটও দিয়েছি। তবুও যখন কাজ হচ্ছে না তখন স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালককে সরজমিনে পাঠিয়েছিলাম। এরপরও সে ভাবে উন্নতি দেখছিনা। (পাঠক-চোখ রাখুন জাগো রংপুরে, আগামী পর্বে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অক্ষে—ঃ ও বহির বিভাগের উপর প্রতিবেদন থাকবে।)

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *