02 Dec 2021 - 04:32:01 am। লগিন

Default Ad Banner

পাইলস রোগে সচেতনতা প্রয়োজন

Published on Monday, February 25, 2019 at 6:28 pm 564 Views

বৃহদান্ত্রের শেষাংশে রেকটামের ভেতরে ও বাইরে থাকা কুশনের মতো একটি রক্তশিরার জালিকা- যা প্রয়োজন সাপেক্ষে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়; এর নাম হেমোরয়েড (Hemorrhoids) বা পাইলস (Piles)।

যখন পায়ুপথের এসব শিরার সংক্রমণ এবং প্রদাহ হয়, চাপ পড়ে তখন হেমোরয়েড বা পাইলসে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। যাকে সাধারণ কথায় অর্শরোগ বলা হয়।

হেমোরয়েড বা অর্শরোগের অবস্থান সাধারণত দুই ধরনের যথা :

পায়ুপথের বহিঃঅর্শরোগ

পায়ুপথের অন্ত বা ভেতরের অর্শরোগ

আবার কখনও দুই অবস্থা একসঙ্গেও থাকতে পারে।

পায়ুপথের ভেতরের অর্শরোগ বা পাইলস ফুলে মলদ্বারের বাইরে বের হয়ে আসাকে ৪টি পর্যায় ভাগ করা হয়।

প্রথম পর্যায় (পাইলস ফুলে বাইরে বের হয়ে আসে না বা প্রলেপস হয় না)

দ্বিতীয় পর্যায় (পায়খানার পর পাইলস ফুলে বাইরে বের হয়ে আসে এবং তারপর আপনা-আপনি ঠিক হয়ে যায়)

তৃতীয় পর্যায় (পাইলস ফুলে বাইরে বের হয়ে আসে এবং নিজে ঠিক করতে হয়)

চতুর্থ পযার্য় (পাইলস ফুলে বাইরে বের হয়ে আসে বা প্রলেপস হয়ে এবং তা আর নিজে ঠিক করা যায় না)

পাইলসের প্রধান কারণগুলো হচ্ছে দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগা, বহু পুরনো
ডায়রিয়া, মলত্যাগে দীর্ঘক্ষণ টয়লেটে বসে থাকা ও দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা।
এছাড়া পারিবারিক ইতিহাস, আঁশযুক্ত খাবার কম খাওয়া, ভারি মালপত্র বহন করা,
স্থূলতা, কায়িক শ্রম কম করা। গর্ভকালীন সময়ে, পায়ুপথে যৌনক্রিয়া, যকৃত রোগ
বা লিভার সিরোসিস ইত্যাদি কারণে রোগের আশঙ্কা বেড়ে যায়। সর্বোপুরি পোর্টাল
ভেনাস সিস্টেমে কোনো ভাল্ব না থাকায় উপরিউক্ত যে কোনো কারণে পায়ু অঞ্চলে
শিরাগুলোতে চাপ ফলে পাইলস সৃষ্টি হয়।

অর্শরোগে যেসব লক্ষণ দেখা যায় তা হচ্ছে- পায়ুপথের অন্ত্র বা ভেতরের
অর্শরোগে সাধারণত তেমন কোনো ব্যথা বেদনা, অস্বস্তি থাকে না, অন্যদিকে
পায়ুপথের বহিঃঅর্শরোগে পায়ুপথ চুলকায়, বসলে ব্যথা করে, পায়খানার সঙ্গে
টকটকে লাল রক্ত দেখা যায় বা শৌচ করা টিস্যুতে তাজা রক্ত লেগে থাকে,
মলত্যাগে ব্যথা লাগা, পায়ুর চারপাশে এক বা একের অধিক থোকা থোকা ফোলা থাকে।

চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা করে ও রোগীর উপসর্গ শুনেই অর্শরোগ শনাক্ত করতে
পারবে। এছাড়া পায়ুনালীর সমস্যাগুলো খুব খারাপ কি না বা অন্য কোনো রোগ আছে
কিনা তা জানতে অ্যানডোস্কপি বা সিগময়েডস্কপি বা কলোনেস্কপি পরীক্ষা, মলের
লুকায়িত রক্ত নির্ণয় পরীক্ষা (ওবিটি), মলের আণুবীক্ষণিক পরীক্ষা করাতে
পারেন।

একটা কথা আমরা সবাই জানি, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম, অর্শরোগ
যেহেতু জীবনধারা ও খাদ্যাভ্যাস এর সঙ্গে অনেকাংশে জড়িত, তাই শৃঙ্খলিত
জীবনযাপনই এ রোগ প্রতিরোধের একমাত্র উপায়। তাই নিয়ম করে অতিরিক্ত কোথ না
দিয়ে সাবলীলভাবে মলত্যাগ করা, যেগুলো ফল খোসাসহ খাওয়া যায়, তা খোসাসহ
খাওয়া, আঁশযুক্ত খাবার পেঁপে তরকারিসহ সব ধরনের শাকসবজি বেশি খাওয়া,
পর্যাপ্ত পানি পান করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, লালমাংস পরিহার করা, প্রাথমিক
অবস্থায় উষ্ণ পানি এবং ক্রনিক বা রোগ পুরনো হলে শীতল পানিতে নিতম্ব স্নান
করতে পারেন।

একটা কথা না বললেই নয় রোগীদের সচেতন ও সাবধান হতে হবে যে এর চিকিৎসায়
রাস্তার ধারের চটকদার ক্যানভাসারের খপ্পড়ে পড়বেন না। এ ধরনের চটকদার হাতুড়ে
চিকিৎসক থেকে এ রোগে আরও বেশি জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

লেখক : বৃহদান্ত্র ও পায়ুপথ সার্জারি বিশেষজ্ঞ, ইডেন মাল্টিকেয়ার হাসপাতাল, সাতমসজিদ রোড, ঢাকা

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *