18 Jan 2021 - 07:56:17 am। লগিন

Default Ad Banner

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত চলবে আরও দুই মাস

Published on Tuesday, May 23, 2017 at 2:09 pm 176 Views

http://www.jugantor.com/old/assets/images/news_images/2015/07/07/thumbnails/high%20court_290417.jpg

 নিউজ ডেস্ক- নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনার বিধান অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ১৮ মে পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়েছে। আপাতত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই।’
এর আগে ১১ মে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনার ধারাসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের ১১টি ধারা ও উপধারাকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের ওই রায়ে বলা হয়, ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের (মোবাইল কোর্ট অ্যাক্ট-২০০৯) ধারা ৫, ৬(১), ৬(২), ৬(৪), ৭, ৮(১), ৯, ১০, ১১, ১৩ ও ১৫ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ধারাগুলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে (নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগ) ক্ষমতার পৃথকীকরণ-সংক্রান্ত সংবিধানের মৌলিক কাঠামোবিরোধী। জটিলতা ও বিতর্ক এড়াতে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়া বিষয়গুলো ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেয়া সব আদেশ, সাজা ও দণ্ডাদেশ অতীত বিবেচনায় সমাপ্ত বলে মার্জনা করা হয়েছে।
রায়ে বলা হয়, আইনের ওই বিধানের মাধ্যমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের বিচারিক ক্ষমতা দেয়া সংবিধানের লঙ্ঘন এবং তা বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় সম্মুখ আঘাত এবং ক্ষমতার পৃথকীকরণের নীতিবিরোধী। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রশাসনিক নির্বাহী। প্রশাসনিক নির্বাহী হিসেবে তারা প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌম বিচারিক ক্ষমতা চর্চা করতে পারেন না। মাসদার হোসেন মামলার রায়ে এ বিষয়ে পরিষ্কারভাবে বলা আছে। এতে আরও বলা হয়, মোবাইল কোর্ট অ্যাক্ট-২০০৯’র ধারা ৫, ৬(১), ৬(২), ৬(৪), ৭, ৮(১), ৯, ১০, ১১ ও ১৩ ‘কালারেবল প্রভিশন’। ধারাগুলো সরাসরি মাসদার হোসেন মামলার রায়ের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ রোববার সকালে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন দাখিল করেন। আবেদনটির ওপর এদিন দুপুরেই চেম্বার বিচারপতির আদালতে শুনানি হয়। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং রিটকারীদের পক্ষে ব্যারিস্টার হাসান এমএস আজিম।
জানা গেছে, ভবন নির্মাণ আইনের কয়েকটি ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০১১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর এসথেটিক প্রপার্টিজ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান খানকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। সে বছরের ২০ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পান তিনি। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের (মোবাইল কোর্ট অ্যাক্ট-২০০৯) কয়েকটি ধারা ও উপধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ১১ অক্টোবর কামারুজ্জামান হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে রিট আবেদনকারীর (কামরুজ্জামান) সাজা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি সাজার আদেশ স্থগিত করা হয়। এরপর আরও দুটি রিট হয়। তিনটি রিটেই ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের ধারা ৫, ৬ (১), ৬ (২), ৬ (৪), ৭, ৮ (১), ৯, ১০, ১১, ১৩, ১৫ কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। পরে রিট আবেদন তিনটি একসঙ্গে শুনানি করে বৃহস্পতিবার রায় দেন বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *