শিরোনাম

17 Apr 2021 - 07:29:24 am। লগিন

Default Ad Banner

দুশ্চিন্তায় পড়লে আমাদের হাত ঘামে কেন?

Published on Tuesday, November 20, 2018 at 5:58 pm 260 Views

এমসি ডেস্ক : হাত ঘামাটা খুবই স্বাভাবিক, জানান বিশেষজ্ঞরা। মানসিক চাপ তৈরি করে এমন পরিস্থিতির একটি সাধারণ প্রতিক্রিয়া এটি। কিন্তু এর পেছনে কারণটা কী? আর তা কমানোই যাবে কী করে?

হাত ঘামার সমস্যাটা অনেকেরই দেখা যায়। মানসিক চাপে থাকলে বা দুশ্চিন্তার মুহূর্তে তাদের হাত ঘামতে শুরু করে। বড় কোনো পরীক্ষা দিতে গিয়ে, বা অফিসে মিটিং এর আগে হাত ঘামাটা খুবই বিব্রতকর। হাত ঘামার কারণে তারা কলম ধরতে পারেন না, কাগজ ভিজে যায়, এমনকি কারও সাথে করমর্দন করতে গেলেও লজ্জিত হন তারা।

হাত ঘামাটা খুবই স্বাভাবিক, জানান বিশেষজ্ঞরা। মানসিক চাপ তৈরি করে এমন পরিস্থিতির একটি সাধারণ প্রতিক্রিয়া এটি। কিন্তু এর পেছনে কারণটা কী? আর তা কমানোই যাবে কী করে?

হাত কেন ঘামে?

ঘাম হওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো শরীরের তাপমাত্রা কমিয়ে আনা। এ কারণে ভারী কাজ করলে, ব্যায়াম করলে বা মোটা কাপড় পড়লে ঘাম হয়। কিন্তু আমরা বেশি স্ট্রেসে থাকলেও ঘাম হতে পারে।  যেমন, কর্মক্ষেত্রে বসের সাথে কথা বলার স্ট্রেস থেকে ঘাম হয়।  কিন্তু হাতের তালুতে ঘাম হয় কেন?

এর পেছনে আদিমকালের কারণ থাকতে পারে।  আদিম মানুষ অনেক সময়েই বেঁচে থাকার তাগিদে হিংস্র প্রাণীর সাথে লড়াই করত, গাছ বা পাহাড় বেয়ে উঠত। সে সময়ে হাত ঘামলে হাতের মুঠোয় অস্ত্র বা গাছের ডাল ধরা সহজ হতো। এ কারণে বর্তমানেও স্ট্রেসে থাকলে হাত ঘামে।  শুধু হাত নয়, পায়ের পাতা, মুখ এবং বগলও ঘেমে যায়।

মূলত ভয় ও দুশ্চিন্তার অনুভূতি থেকে হাত ঘামে।  এটাকে ‘স্ট্রেস সোয়েট’ বলা হয়ে থাকে।  বক্তৃতা দেওয়ার সময়, মিটিংয়ে কথা বলার সময়, প্রথম ডেটে, বা হুট করে ভয় পেলে যেমন কোনো ডেডলাইন মিস করলে এভাবে ঘাম হয়।  শুধু তাই নয়, কফি, ধূমপান ও ঝাল খাবার খেলেও এমনটা হতে পারে।

হাত ঘামা কমাবেন কী করে?

হুট করে হাত ঘামা শুরু করলে আসলে কিছু করার থাকে না। কারণ মানসিক চাপের ওপর কারোই নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে কিছু কাজের মাধ্যমে তা কমানো যেতে পারে।

গভীর করে নিঃশ্বাস নিতে থাকুন যদি আপনি খুব স্ট্রেসে থাকেন। এটা খুব সাধারণ মনে হতে পারে। কিন্তু গভীর নিঃশ্বাস নিয়ে কয়েক সেকেন্ড ধরে রেখে আবার ছেড়ে দিলে আসলেই স্ট্রেস কমতে পারে।

আপনি যদি জানেন যে মিটিং বা এধরণের কোনো কারণে স্ট্রেসের চোটে হাত ঘামা শুরু করবে, তাহলে আগেরদিন রাতে হাতে অল্প করে অ্যান্টিপার্স্পিরেন্ট ডিওডোরেন্ট মেখে রাখতে পারেন।

ব্যাগে বা ব্রিফকেসে রাখতে পারেন অল্প পরিমাণে বেকিং পাউডার বা কর্নস্টার্চ।  স্ট্রেস বাড়ার আগে অল্প পরিমাণে হাতের তালুতে মেখে নিন। তা ঘাম কম রাখবে।

হাত খুব বেশি ঘামলে কী করবেন?

স্ট্রেসের কারণে হাত ঘেমে যাওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।  কিন্তু তা যদি প্রতিনিয়ত আপনার জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে তাহলে ডাক্তারের সাথে আপনার কথা বলা উচিত। কারণ পালমার হাইপারহাইড্রোসিস নামের একটি সমস্যা থাকতে পারে আপনার, যাতে মানুষের অকারণেই অতিরিক্ত ঘাম হয়। এ সমস্যাটির চিকিৎসা আছে। এ চিকিৎসায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ঘাম কমিয়ে আনা যায়।

সূত্র: হাফিংটন পোস্ট

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *