শিরোনাম

13 Apr 2021 - 03:54:58 pm। লগিন

Default Ad Banner

দিনাজপুর সদরে সীমান্ত এলাকায় ফেন্সিডিলের রমরমা ব্যবসা, বিএসএফ এর হাতে ১ জনের মৃত্যু অপরজন গুরুত্বর আহত

Published on Sunday, May 31, 2020 at 4:41 pm 187 Views

সরকার মো: কামরুজ্জামান :   দিনাজপুর সদরে সীমান্ত এলাকায় ৫ দিনের ব্যবধানে পৃথক পৃথক ২টি ঘটনায়  বিএসএফ এর হাতে ১ জনের মৃত্যু অপরজন গুরুত্বর আহত হয়ে এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল হাসপাতালে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৯ মে দিবাগত গভীর রাতে দিনাজপুর সদর উপজেলার ১০ নং কমলপুর ইউনিয়নের আইহাই গ্রামের কৃষ্ণ রায়ের পুত্র রিপন রায় (২০) দাইনুর বিওপি সীমান্ত ক্যাম্পে ৩১৪ নং পিলার সংলগ্ন ধান ক্ষেতে বিএসএফ এর রাবার বুলেটের আঘাতে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল।

আইহাই গ্রামের মাহফুজুল ইসলাম মাফিজ বিজিবি’র সহযোগিতায় অজ্ঞান অবস্থায় রিপনকে উদ্ধার করে দাইনুর বিওপি ক্যাম্পে নিয়ে আসে। অবস্থা বেগতিক পরিস্থিতি দেখে বিজিবি’র পাহারায় এ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। এ ব্যাপারে পাহারারত বিজিবি’র সদস্যের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অপরাগতা প্রকাশ করে বলেন, সিও স্যারের অনুমতি পেলে তথ্য দিতে রাজি আছি। আপনারা সিও স্যারের সাথে যোগাযোগ করেন। বিজিবি’র রাঙ্গামাটি ক্যাম্পের সিও’র সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সরেজমিনে আমাদের প্রতিনিধি এলাকায় বিভিন্ন লোকজনের সাথে আলাপকালে জানায়, আইহাই গ্রামের মাহাফিজুল ইসলাম মাফি দীর্ঘদিন ধরে দাইনুর বিওপি ক্যাম্পের বিজিবি’র সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করে এলাকার যুব সমাজকে ফেন্সিডিল আসক্ত করে চলেছে। এ ব্যাপারে এলাকার কেউ কোন প্রতিবাদ করলে তাকে ফেন্সিডিলের মামলা দিয়ে হয়রানী করার হুমকি দিচ্ছে। এলাকাবাসী আরও জানায় আইহাই গ্রামের কৃষ্ণের পুত্র রিপন দিনাজপুরে বিরল ডিগ্রী কলেজের অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্র। করোনা ভাইরাসের কারণে সে বাড়ীতে অবস্থান করলে তাকে অত্যন্ত সু-কৌশলে মাফি আয়ত্বে নেয়। সেই হিসেবে ঘটনার দিনগত রাতে তার লোক দিয়ে রিপনকে ডেকে সীমান্তের ৩১৪ নং পিলারের সন্নিকটে ফেন্সিডিল বহনের জন্য নিয়ে যায়। এ সময় বিএসএফ এর রাবাট বুলেটের আঘাতে রিপন গুলিবিদ্ধ হয়ে সংজ্ঞা হারিয়ে জমির ক্ষেতে  পড়ে থাকে। অত্র ওয়ার্ডের ইউ’পি সদস্য সামসুল হক জানান, ফেন্সিডিল ব্যবসায়ীদের গডফাদার মাহাফিজুর ইসলাম মাফির কারণে এলাকার যুব সমাজ এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। এ বিষয়ে এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল হাসপাতালে রিপনের বাবা কৃষ্ণ রায় জানায়, তার পুত্র রাতে খাওয়া-দাওয়া করে বাড়ী থেকে নিখোঁজ হয়।অপরদিকে গত ২৭ মে সদরের বড়গ্রাম সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় বিএসএফ সদস্যের গ্রেনেডে রাজু  (২৪) নামে এক ফেন্সিডিল বহনকারীর মৃত্যু হয়েছে। জানা গেছে, দিনাজপুর সদর উপজেলার ১০ নং কমলপুর ইউ’পির বড়গ্রাম ছাইতনকুড়ি গ্রামের ফেন্সিডিল বহনকারী গুরুত্বর আহত রাজু (২৪) কে সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে জীবিত অবস্থায় বিজিবি’র সহায়তায় ইউ’পি সদস্যসহ গ্রামবাসীরা উদ্ধার করে। মাথায় জখম ও রক্তক্ষরণ দেখে রাজুর দূর সম্পর্কের ভাই একই গ্রামের আব্দুর রহমান তার নিজ উদ্যোগে চিকিৎসা করানোর কথা বলে ইউ’পির মেম্বার ও গ্রামবাসীর কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তিন চাকার ভ্যানে করে এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে গগনপুর কুসুম্বী গ্রামে তার বোনের বাসায় অবস্থান নেয়। তৎপর স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক মোঃ আপনকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ডেকে নেয়। ঐ চিকিৎসক দিয়ে রাজুর মাথায় দুটি ক্ষতস্থানে সেলাই করে বাড়ীতে রাখে। ইউ’পি সদস্য পরিবারসহ এলাকাবাসীরা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল হাসপাতালে রাজুকে না পেয়ে আব্দুর রহমানকে চাপ সৃষ্টি করে। উপায় অন্ত না পেয়ে বিপাকে পড়ে আব্দুর রহমান তার লোকজন নিয়ে রাত প্রায় সোয়া ১০ টায় এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে পালিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসকগণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রাজুকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরদিন ২৮ মে লোক মারফত খবর পেয়ে ইউ’পি সদস্য মকবুল হোসেন নিহতের পিতা আব্দুর রহিমসহ গ্রামের লোকজন মেডিকেল হাসপাতালে আসে। আব্দুর রহিম তার তৃতীয় পুত্র রাজুর লাশ সনাক্ত করে কোতয়ালী পুলিশ রাজুর লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। এই সময়কে কাজে লাগিয়ে ফেন্সিডিল ব্যবসায়ীদের একটি পক্ষ আব্দুর রহিমকে সু-কৌশলে কোতয়ালী থানায় নিয়ে গিয়ে তাদের বিপক্ষ গ্র“পের লোকদের আসামী বানিয়ে রাজু হত্যা মামলার একটি অভিযোগ দেয়। এরপর মর্গ থেকে এ্যাম্বুলেন্সে রাজুর লাশ উঠিয়ে তার বাবা আব্দুর রহিমের জিম্মায় দিয়ে তারা সটকে পড়ে। এ বিষয়ে পল্লী চিকিৎসক আপন কে বার বার মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এলাকার লোকজন জানায়, আব্দুর রহমান ও  পল্লী চিকিৎসকের কারণে মাথায় গুরুত্বর জখমপ্রাপ্ত রাজুর অধিক রক্তকরণ হয়। ফলে রক্ত শূন্যতায় রাজু মারা যায়। বর্তমানে এ দুটি ঘটনা নিয়ে অত্র ইউনিয়নে বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের ব্যাপক জল্পনা কল্পনার গুঞ্জন শুরু হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় ফেন্সিডিলের রমরমাভাবে ব্যবসা চলায়  আতঙ্ক বিরাজ করছে।

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *