শিরোনাম

15 Apr 2021 - 01:53:13 am। লগিন

Default Ad Banner

দিনাজপুর সদরের পল্লীতে মাদরাসা ছাত্রী ধর্ষনে মামলা দায়েরের পরও প্রভাবশালী হওয়ায় গ্রেফতার হচ্ছে না আসামী

Published on Sunday, February 14, 2021 at 9:25 pm 83 Views

মো: জাহিদ হোসেন : আমার বিচার করার কেউ নাই। আমি যে দল করি সেখানে আমার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারো নাই। আমার কার্যকলাপের বিষয়ে কাউকে কিছু বললে তার এবং তার পরিবারের বড় ধরণের ক্ষতি হবে। শুধু তাই না, এমন সব ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ভাইরাল করবো তাতে জীবন শেষ হয়ে যাবে। কাজেই আমার সাথে কেউ লাগতে আসিও না। উর্দ্ধত্যপূর্ণ কথাগুলো কতিপয় ধর্ষকের। জোরপূর্বক ধর্ষণ করতে গিয়ে তারা এসব কথা বলে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় দায়েরকৃত এক এজাহার সূত্রে এসব কথা জানা যায়। নাবালক
ধর্ষিতা ময়নার (ছদ্ম নাম) বাবা মোঃ আলম হোসেন বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১০, তারিখ ০৭/০২/২০২১ইং। ধারা- ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (স:/০৩) এর ৭/৯(১)/৩০ তৎসহ ২০১২ সালের পর্ণগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৮(২)। মামলা দায়েরের বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোন আসামী গ্রেফতার হয়নি। উল্টো আসামীরা মামলা প্রত্যাহার করতে ধর্ষিতার বাবা আলমের উপর চাপ প্রয়োগসহ নানা ধরণের হুমকি-ধামকি প্রদান করছে। মূলত: আলমের দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে প্রভাবশালী ওই মহলটি এমন করছে বলে আলম
অভিযোগ করেছেন। তিনি এখন বিচারের দাবীতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। অবিলম্বে সুবিচার নিশ্চিত করতে আলম সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর আবেদন জানিয়েছেন।
দিনাজপুর কোতয়ালী থানার এজাহার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর সদর উপজেলার ২নং সুন্দরবন ইউনিয়নের রামডুবি মোড় সবরাশাহা পাড়া আলম হোসেনের কিশোরী কন্যা ময়না (ছদ্ম নাম) ফুলবন দাখিল ফাযিল মাদরাসায় দাখিল পরীক্ষার্থী। ময়না ৯ম শ্রেনীতে পড়াশোনার সময় হতে এলাকার সরকারী দলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত প্রভাবশালীর সন্তান শাহ্ধসঢ়; মমির উদ্দিনের পুত্র আনোয়ার হোসেন (৫০) মেয়েটিকে টার্গেট করে। এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ হিসেবে ময়না তাকে দাদু ডাকে। এই সুযোগে বিভিন্ন সময় রাস্তাঘাটে মাদরাসা যাওয়া পথে দুই বছর ধরে কু-প্রস্তাব
দিয়ে বিরক্ত করত। তাকে বিলাসিতার প্রলোভন দেখানো হতো। তাকে আয়ত্ব করার চেষ্টায় মাদরাসা যাওয়ার রাস্তা থেকে আনোয়ার হোসেন তার প্রাইভেট কার দাড় করিয়ে ছাত্রীকে তুলে নিতো এবং কারের ভিতরে পর্শ্বকাতর স্থানে হাত দেওয়ার চেষ্ঠা করত। এর মধ্যে আনোয়ার হোসেন ময়নাকে রাস্তা থেকে কারে তুলে নিয়ে বাড়িতে নিয়ে শয়ন ঘরে ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিক বার ধর্ষন করে। ধর্ষন শেষে  হুমকি ও বিবাহ করিব বলে শান্তনা দিয়ে বিদায় করে। গত ২৫ জানুয়ারি রাতে ধর্ষক তার বাড়িতে মোবাইলে ডেকে নিয়ে ধর্ষন করে। এমতাবস্থায় অত্যাচারের স্বীকার কিশোরী তার নিজ বাড়ি থেকে আর
কোথাও বাহির হয় না। তার মা শাহাজাদী বেগম মেয়েকে নিয়ে দু:চিন্তা গ্রস্থ দেখলে চাপ দিলে জিজ্ঞাসার মুখে তার ঘটনা তার মাকে জানায়। মেয়ের মা ঘটনাটি তাৎক্ষনিক তার স্বামী আলম হোসেনকে জানালে সে ধর্ষক আনোয়ারের মুখোমুখি হয়ে ঘটনা জানতে চায়। আনোয়ার তাকে পাল্টা হুমকি-ধামকি দিয়ে বিদায় করে। গত ২৮ জানুয়ারি দুপুরে আনোয়ার হোসেন ময়নার পিতা-মাতাকে রামডুমি মোড়স্থ তার অফিসে ডেকে
নিয়ে মোবাইলে ধারণ কৃত ধর্ষনের দৃশ্য তার দেখায় এবং এগুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভাইরাল করার হুমকি দেয়। এসময় মেয়ের বাবা-মার সাথে বিতর্ক  সৃষ্টি হলে শোরগোলে লোকজন তার অফিসে যেতে থাকলে আনোয়ার হোসেন ও তার ড্রাইভার মানিক অফিস থেকে সটকে পড়ে। দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় দায়েরকৃত মামলায় বাদী আলম হোসেন ধর্ষক আনোয়ার হোসেনকে ১ নম্বর আসামী ও সহযোগীতার জন্য তার ড্রাইভার মানিক ও মাদরাসার পিয়ন হাফেজ কে যথাক্রমে ২ ও ৩ নম্বর আসামী করে।

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *