শিরোনাম

13 Apr 2021 - 04:25:29 pm। লগিন

Default Ad Banner

দিনাজপুর পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান অব্যাহত

Published on Wednesday, February 5, 2020 at 6:55 pm 103 Views

এ টি এম গোলাম রসুল - সংগৃহীত ছবি

জাহিদ হোসেন, দিনাজপুরঃ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সীমান্তবর্তী জেলা দিনাজপুর যা ১৩টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। সীমান্তবর্তী দিনাজপুরে স্পর্শকাতর মাদক সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে প্রকৃত চি‎হ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের সনাক্ত করে ঘন ঘন অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত ১৮ নভে’ ১৯ তারিখে দিনাজপুর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) এর ওসি এ টি এম গোলাম রসুল যোগদান করেন। তিনি যোগদানের পর ডিসেম্বর মাসের ২৬টি মাদক মামলায় ৪৪ জন গ্রেপ্তার করেন। এ সময় ৫৯৯ বোতল ফেন্সিডিল, ১১৮৫ পিস ইয়াবা, ১ কেজি ২০০গ্রাম গাঁজা, ৫৫ গ্রাম হিরোইন ও ৩টি ব্যবহৃত মোবাইল সেট উদ্ধার করেন। জানুয়ারি’২০ মাসে ৫৮ টি মাদক মামলায় ৮৫ জন গ্রেপ্তার করেন। এ সময় ৬১৮ বোতল ফেন্সিডিল, ১৬৫১ পিস ইয়াবা, ২ কেজি ৮০০ গ্রাম গাঁজা, ২টি পুরাতন মটর সাইকেল ১টি ওয়ান সুটার গান তৎসহ ২ রাউন্ড গুলি এবং দুটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেন। পুলিশ সপ্তাহ ’১৯ সালে সাহসিকতা ও ভালো কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ এটিএম গোলাম রসুল পুলিশ বাহিনীর প্রধান আইজি ব্যাজ প্রাপ্ত হন।

এছাড়াও এটিএম গোলাম রসুল রংপুর বিভাগের শ্রেষ্ঠ ওসি, দিনাজপুর জেলার শ্রেষ্ঠ ওসিসহ অজ্ঞাতনামা ৫টি হত্যা মামলার রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে উদঘাটনে সক্ষম হওয়ায় একাধিকবার বিশেষ পুরস্কারে পুরুস্কৃত হয়েছেন। জানুয়ারি মাসে একজন ভিকটিম অপহরন হওয়ার ২ ঘণ্টা ব্যবধানে উদ্ধার এবং ঐ মামলায় ৬ জন আসামীকে গ্রেপ্তারের মধ্যে ৩ জন ১৬৪ ধারার জবানবন্দীতে বিজ্ঞ আদালতে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। এছাড়াও জানুয়ারি মাসে কুখ্যাত দুইজন মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের বন্দুক যুদ্ধে দুইজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। মাদক ব্যবসায়ী ও পুলিশের গোলাগুলির এক পর্যায়ে কুখ্যাত দুই মাদক ব্যবসায়ী গুরুত্বর জখম হলে এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল হাসাপাতালে চিকিৎসার জন্য নিলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত বলে ঘোষণা করে। কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীরা যথাক্রমে আবুল কাশেম ওরফে কাইসা এর নামে ১৬টি মাদক মামলা এবং রহমত আলীর বিরুদ্ধে ১৮টি মাদক মামলা ছিল। উক্ত মাদক ব্যবসায়ী নিহত হওয়ায় জেলায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। এদিকে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের গডফাদার নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ থানার পাড়া গ্রাম ইউনিয়নের পূর্ব দলিরাম গ্রামের বদির উদ্দীনের পুত্র নুর আলম ওরফে রিপন নিজেকে কখনও ডিবি পুলিশ, পুলিশের এসপি, ডিআইজি ও সচিবালয়ের সচিব পরিচয়ে সরকারী চাকুরী দেওয়ার কথা বলে ও বিভিন্ন ধরনের প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে সাধারণ মানুষের নিকট মোটা অংকের অর্থ গ্রহণ করতঃ ভুয়া নিয়োগপত্র প্রদান করে আত্মসাৎ করে আসছিল। দিনাজপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) এর তৎপরতায় ৩ ফেব্র“য়ারি’২০ রাতে দিনাজপুর শহরের সুইহারী এলাকায় সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য শাহিন পারভেজ এর বাসায় জনৈক আরশী আক্তারকে রংপুর ডিআইজি অফিসের চাকুরী দেওয়ার নিয়োগপত্র প্রদান করে। কিন্তু তাকে ডিআইজি অফিসে চাকুরীর নিয়োগ পত্র না দিয়ে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অফিস সহকারী পদে চাকুরীর ভুয়া নিয়োগপত্র প্রদান করা অবস্থায় ডিবি পুলিশ প্রতারক চক্রের ময়মনসিংহ জেলা সদরের বর্তমানে উপশহর ২নং ব্লকের বসবাসরত মোছাঃ শাকিলা আক্তার বন্যা ওরফে কাজলী ওরফে কাজল, শাহীন পারভেজ, রানীশংকৈল উপজেলার সুব্রত বিহারী রায়, শহরের রামনগর গোলাপবাগ এলাকার রুমা বেগম ওরফে চাদনী ও রংপুর সদর উপজেলার আঞ্জুমান আক্তার ওরফে শিউলীকে গ্রেপ্তার করে। এরা প্রতারনা ছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কাজের লক্ষ্যে মাদকসহ খারাপ প্রকৃতির মেয়েদের সরবরাহ করত। তারা অনেককে ফাঁদে ফেলে মুক্তিপন দাবী করে বিকাশের মাধ্যমে এবং নগদ লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। তারা সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় পৃথক পৃথক দুটি মামলা রুজু হয়, যার মামলা নং-০৯, তারিখ-০৩/০২/২০২০ খ্রি:, অপরটি মামলা নং-১০, তারিখ-০৪/০২/২০২০ ইং। শুধু তাই নয়, শাকিলা আক্তার বন্যা ওরফে কাজলী, সুব্রত বিহারী রায়, শাহীন পারভেজ ও আঞ্জুমান আক্তার শিউলী প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। জেলায় চলমান সমস্যা সম্পর্কে এটিএম গোলাম রসুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মাদককে প্রধান সমস্যা হিসাবে চি‎িহ্নত করে তিনি বলেন, আমাদের পুলিশ সুপার জনাব মোঃ আনোয়ার হোসেন বিপিএম, পিপিএম (বার) মহোদয় অত্র জেলায় যোগদান করে বলেছেন, হয় মাদক থাকবে নহে আমি থাকব। ওসি ডিবি হিসাবে আমিও এই চ্যালেঞ্জিং বক্তব্যের বাইরে নেই। তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী দিনাজপুর অঞ্চলে মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করতে হলে সর্বস্তরের প্রতিষ্ঠান ও জনগনকে আগ্রহের সাথে এগিয়ে আসতে হবে। এখানে বিজিবি, র‌্যাব, মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তথা সর্বস্তরের জনগণকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। তাহলেই মাদক নিয়ন্ত্রন সম্ভব হবে। যেহেতু সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশ করে সেহেতু সীমান্ত প্রহরীকে সবসময় সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, মূল মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করে তাদের শেকড় পর্যন্ত অনুসন্ধান করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করার পরে যাতে সহজে জামিন না পায় সেক্ষেত্রে মাসিক আইন শৃঙ্খলা মিটিং তথা পুলিশ – ম্যাজিস্ট্রেসি সভায় এতদসংক্রান্ত আলোচনা করে সাজার হার বৃদ্ধি করতে হবে। যারা স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পন করে স্বাভাবিক জীনব যাপনে আগ্রহী তাদেরকে বিধি মোতাবেক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে নিবিড় নজরদারীতে রাখতে হবে এবং তাদের দৈনন্দিন হাজিরায় সংশ্লিষ্ট থানা বা ডিবি অফিসে এসে নিশ্চিত করতে হবে। সেখানে আত্মসমর্পনকারীরা তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করবে। তিনি আমাদের প্রতিনিধিকে জোর গলায় বলেন আমি মাদক, জঙ্গী, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস এর জমদূত। এসব বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়ার লোক আমি নই। এরা যতই শক্তিশালী হোক না কেন আমি তাদেরকে আইনের আওতায় আনবই। এটা আমার চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরও বলেন, দেশে দ্বিতীয় বৃহত্তম সীমান্তবর্তী জেলা দিনাজপুর যা ১৩টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই ১৩টি উপজেলার মধ্যে ৬টি উপজেলা এলাকা সীমান্তঘেষা। যার কারণেই মাদকের প্রবাহ বেশি। তাই সীমান্তবর্তী দিনাজপুরে স্পর্শকাতর মাদক এলাকাগুলি সনাক্ত করে চি‎িহ্নত মাদক ব্যবসায়ীদের খুঁজে বের করতে আমাদের ঘন ঘন অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *