শিরোনাম

13 May 2021 - 08:46:45 am। লগিন

Default Ad Banner

দিনাজপুরে লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত ১৫ হাজার গরু

Published on Saturday, November 30, 2019 at 7:58 pm 97 Views

নিউজ ডেস্কঃ দিনাজপুরের বিরামপুর ও নবাবগঞ্জ এই দুই উপজেলায় গবাদিপশুর মধ্যে লাম্পি স্কিন রোগ দেখা দিয়েছে। কৃষদের অভিযোগ রোগ নিরাময়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কোনো সহযোগিতা পাচ্ছে না। তবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ লাম্পি স্কিন রোগের যে পরিমাণ তথ্য দিচ্ছে বাস্তবে মাঠ পর্যায়ে তা অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, এই দুই উপজেলাতে গবাদিপশুর সংখ্যা ৩ লক্ষ ১৬ হাজার ৪২৫টি। এর মধ্যে বিরামপুর উপজেলায় লাম্পি স্কিন আক্রান্ত গরুর সংখ্যা ১ হাজার এবং নবাবগঞ্জ উপজেলায় ৫ হাজার। তবে নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নাসিরুল ইসলাম দাবি, বর্তামানে এই রোগের সংখ্যা কমে এসেছে।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের শৈলান, বেণীপুর, দক্ষিণ দাউদপুর, বেপারী পাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামঘুরে দেখা যায় এই রোগের প্রাদুর্ভাব। কথা হয় বেশ কয়েক জন কৃষকের সঙ্গে।

তারা জানান, প্রথমে আক্রান্ত গরুর শরীরের বিভিন্ন স্থান ফুলে গুটির মতো চাকা চাকা হচ্ছে। তিন-চার দিন পর গুটিগুলো ফেটে কষ (পুঁজ) ঝরতে থাকে। আবার কিছু গরুর সামনে গলার নিচে এবং সামনে পায়ের মাংস খসে যাচ্ছে। এতে আক্রান্ত গরু আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে পড়ে।

শৈলান গ্রামের কৃষক ফেরদৌসুর রহমান বলেন, গত ১ মাস আগে আমার একটি গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। গরুর অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। সামনে বাম পায়ে পচন ধরেছে।

তিনি বলেন, ঔষধে কোনো কাজ না হওয়ায় উপজেলার বিজুল বাজারের ডা. সেকেন্দার আলী নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে হোমিও ঔষধ ব্যবহার করে কিছুটা নিরাময় হয়েছে। ওই কৃষক বলেন, শৈলান গ্রামের প্রায় ৪ শতাধিক গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

দক্ষিণ দাউদপুর গ্রামের কৃষক বাতেন আলী কালের কণ্ঠকে জানান, তার মোট ১৫টি গরুর মধ্যে ১২টি গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি গরু মারা গিয়েছে। ৪টি গরুর অবস্থা খুব খারাপ।

তিনি বলেন, দামোদরপুর, দামারপাড়া, বেপারীপাড়া, হরিহরপুর গ্রামে প্রায় প্রতিটি বাড়িতে এই রোগের আক্রান্ত গরু রয়েছে। কাটলা ইউনিয়নে প্রায় ২০০০ হাজার গরু আক্রান্ত রয়েছে।

বিরামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. ইদ্রিস আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, এ রোগের কারণে কৃষকদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ভাইরাস নামে পরিচিত। মশা ও মাছির মাধ্যমে এই ভাইরাস বেশি ছড়ায়। এ ছাড়া ব্যবহৃত ইনজেকশনের সিরিঞ্জের মাধ্যমে এ রোগ ছড়াতে পারে। লাম্পি স্কিন ডিজিজ ভাইরাসের এখনো পর্যন্ত কোনো ভ্যাকসিন তৈরি হয়নি বলেও তিনি জানান।

তিনি আরো বলেন, লাম্পি স্কিন রোগটি গত ৫ থেকে ৬ মাস আগে এই এলাকায় ধরা পড়েছে। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ জন কৃষক তাদের রোগাক্রান্ত গরু নিয়ে হাসপাতালে আসে। তাতে গড়ে প্রায় ১ হাজার গরু আক্রান্ত হতে পারে।

জানতে চাইলে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো.শাহিনুর আলম কালের কণ্ঠকে মুঠোফোনে বলেন, লাম্পি স্কিন ডিজিজ ভাইরাসের কোনো প্রতিষেধক এখনো আমাদের দেশে তৈরি হয়নি। সচেতনতার মাধ্যমে এ ভাইরাস থেকে বাঁচা সম্ভব। এ জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উপর জোর দিতে হবে।

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *