21 Oct 2021 - 04:40:02 am। লগিন

Default Ad Banner

দিনাজপুরে বিনম্র শ্রদ্ধায় ভাষা শহীদদের স্মরণ

Published on Tuesday, February 21, 2017 at 10:36 pm 348 Views

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি’- যাদের প্রাণের বিনিময়ে আমার আজ মাতৃভাষা বাংলায় এই গানটি গাইতে পারছি, কথা বলতে পারছি পুরো জাতি তাদের বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে। শুধু বাংলাদেশের মানুষই না, সারা বিশ্বের মানুষ আজ মাতৃভাষা দিবস পালন করছে।
একুশের প্রথম প্রহর থেকেই ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নেমেছে শহীদ মিনারে। সব পথ যেন আজ মিশেছে শহীদ মিনারে। শহীদ মিনারের বেদি এরই মধ্যে ভরে উঠেছে রঙ-বেরঙের ফুলে।
একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রিপরিষদ, তিন বাহিনীপ্রধান, পুলিশপ্রধান, কূটনীতিকবৃন্দ। এরপর শহীদ মিনারের বেদিমূল বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।
একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে প্রথমে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ এবং পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় অমর একুশের কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ বাজানো হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২টা বাজার কিছু সময় আগেই শহীদ মিনারে পৌঁছান। প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ ১২টা বাজার পূর্ব মুহূর্তে শহীদ মিনারে পৌঁছান। এরপর প্রথমে প্রেসিডেন্ট ও তার পর প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থেকে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
দিবসটি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, ‘অমর একুশের চেতনা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে। বাঙালির শহিদ দিবস এখন বিশ্বজুড়ে নিজস্ব ভাষা ও স্বকীয়তা রক্ষার চেতনার অবিরাম উৎস।’
তিনি বলেন, ‘মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বিশ্বের সকল জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় ঐক্য ও বিজয়ের প্রতীক হয়ে উঠুক।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, ‘আসুন, সকল ভেদাভেদ ভুলে একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখি। সবাই মিলে একটি অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি। প্রতিষ্ঠা করি জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা।’
মঙ্গলবার সরকারি ছুটির দিন। দিবসটি উপলক্ষে রেডিও, টেলিভিশন বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে। জাতীয় দৈনিকগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র।
মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষায় ১৯৫২ সালে জীবন দিয়েছিল সালাম, বরকত, জব্বার, রফিক, শফিউরসহ নাম না জানা অনেকে। তাদের রক্তের বিনিময়েই আজকে মুখে মুখে বাংলা ভাষা। বাংলায় রচিত হচ্ছে হাজারো গান, কবিতা, নাটক, উপন্যাস আর অজস্র কথামালা। আজকের দিনটি শুধু সেই বীর ভাষাসৈনিকের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর, যারা ভাষার জন্য অকাতরে নিজের প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছিলেন।
আজকের দিনটি কেবল বাংলাদেশে নয়। বিশ্বের সব প্রান্তে পালিত হবে বীরের রক্তস্রোত আর মায়ের অশ্রুভেজা অমর একুশে। বাঙালির রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের স্বীকৃতি দিয়ে জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। এরপর থেকেই যথাযোগ্য মর্যাদায় সারা বিশ্বে একযোগে পালিত হয়ে আসছে দিনটি।
Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *