26 Jan 2021 - 06:03:52 am। লগিন

Default Ad Banner

দিনাজপুরে এইচ কে মাদার কেয়ার হাসাপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসুতি মাতার মৃত্যুর অভিযোগ

Published on Tuesday, October 22, 2019 at 7:21 pm 114 Views

জাহিদ হোসেনঃ দিনাজপুর শহরের কালিতলায় এইচ কে মাদার কেয়ার হাসাপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে চিকিৎসকের অবহেলায় এক প্রসুতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ঐ হাসাপাতালে রোগীর স্বজনেরা অভিযোগ করলে হট্রগল শুরু হয়। এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডাঃ হযরত আলী আত্মগোপনে রয়েছে। নিহত রোগীর নাম মনতাহীনা (২৫)। তিনি সদর উপজেলার ৩ নং ফাজিলপুর ইউনিয়নের উত্তর হরিরামপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের স্ত্রী।

সোমাবার রাত ৮ টার সময় কোতয়ালী সামনে এইচ কে মাদার কেয়ার হাসাপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে এই ঘটনা ঘটে। রোগীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর মনতাহীনা-আব্দুল মান্নান দম্পতিকে সন্তানের জন্য ১১ বছর অপেক্ষা করতে হয়। তাই প্রথম সন্তানের বেলায় কোন ঝুঁকি নিতে চাননি এই দম্পতি। প্রসব ব্যথা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গত ১৭ অক্টোবর দুপুর ১২ টার সময় শহরের কালিতলায় কোতয়ালী থানার সামনে এইচ কে মাদার কেয়ার হাসাপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে ভর্তি করানো হয়। সেদিন রাত ১০ টায় প্রসুতি মাতা মনতাহীনার সিজার করা হয়। এ সময় একটি কন্যা সন্তানের মা হন মনতাহীনা। প্রথম সন্তান হওয়ায় পরিবারে বইছিল আনন্দের বন্যা। গত ২০ অক্টোবর মনতাহীনাকে রিলিজ দেয়া হয়। রোগীর স্বজনরা না চাইলেও এক প্রকার জোর করেই রিলিজ দেয়া হয় মনতাহীনাকে।

কারণ চুক্তিতে সিজার করা হয়েছিল। পরের দিন ২১ অক্টোবর অসুস্থ্য হয়ে পড়লে মনতাহীনাকে আবারো এইচ কে মাদার কেয়ার হাসাপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নিয়ে আসা হয়। এ সময় রোগীর পেট অম্ভাভাবিক ভাবে ফুলছিল ও শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু একাধীকবার বলার পরও এইচ কে মাদার কেয়ার হাসাপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের পরিচালক ডাঃ হযরত আলী রোগীকে দেখতে আসেননি। তার ছেলে মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ তারিফ-উল-ইসলাম রোগীকে দেখে চিকিৎসা দেন। রাত ৮ টার সময় প্রসুতি মাতা মনতাহীনা মারা যায়। এ সময় রোগীর স্বজনেরা আহাজারি শুরু করলে আশে পাশের লোকজন ছুটে আসে। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশকে খবর দেয়া হলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। নিহত মনতাহীনার মামা শশুড় আব্দুল জলিল বলেন, ভূল অপারেশন হয়েছিল নাকি পেটের ভিতরে কোন অঙ্গ প্রতঙ্গ কেঁটে ফেলেছিল তা চিকিৎসকই বলতে পারবেন। তবে ইচ্ছার বিরুদ্ধে রোগীকে রিলিজ দেয়া হয়। এরআগে রোগীকে পেটে বাচ্চার অবস্থা ভাল নয় বলে জোর করে সিজার করানো হয়।

আবার চুক্তিতে সিজার করায় ঠিকমত কেয়ার নেয়া হয়নি এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ দেয়া হয়নি। চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরো জানান, সিজারের আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরিক্ষা করা হয়নি। ৬ মাস আগের রিপোর্ট দেখে সিজার করা হয়েছে। এ ব্যাপরে জানতে চাইলে মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ তারিফ-উল-ইসলাম জানান, রোগীকে সুস্থ্য অবস্থায় রিলিজ দেয়া হয়েছিল। পরে কি হয়েছে আমরা তা জানিনা । আজ (সোমাবার) রোগীকে যখন নিয়ে আসা হয় তখন আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। কাজেই কি হয়েচিল তা জানা সম্ভব হয়নি । কিন্তু যে চিকিৎসক সিজার করেছিলেন সেই চিকিৎসক ডাঃ হযরত আলীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাকে পাওয়া যায়নি। ঐ হাসপাতালের নাম জানাতে অনিচ্ছুক এক ষ্টাফ জানান, ঘটনার পর থেকে ডাঃ হযরত আলী হাসাপাতালে আসেননি। তিনি আত্মগোপানে রয়েছেন। জানতে চাইলে দিনাজপুর জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুছ কুদ্দুছ, এইচ কে মাদার কেয়ার হাসাপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের অনুমোদন আছে কিনা তা জানাতে পারেননি। এমন কি ঘটনাও তিনি জানেনা বলে জানান। কোতয়ালীর থানার ওসি মোঃ রেদওয়ানুর রহিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান নিহত মনতাহীনার পরিবার থেকে আমাদেরকে মৌখিক ভাবে জানানো হলেও লিখিত কোন অভিযোগ করা হয়নি। উল্লেখ্য, এইচ কে মাদার কেয়ার হাসাপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের পরিচালক ডাঃ হযরত আলী বোচাগঞ্জে একটি অবৈধ গর্ভপাত ঘটানোর মামলায় তার ৭ বছর সাজা হয়। দীর্ঘদিন জেল হাজতে থাকার পর হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পান। এছাড়াও প্রায়সই তার এই হাসাপাতালে রোগীর অনাকাক্সখীত মৃত্যু নিয়ে ঝামেলা হতে দেখা যায়।

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *