03 Dec 2021 - 09:26:37 pm। লগিন

Default Ad Banner

দিনাজপুরের লাখ লাখ চামড়া ভারতে পাচার

Published on Saturday, August 17, 2019 at 7:30 am 317 Views

দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরে চামড়া ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারনে এবারের ঈদ-উল-আযহায় পশুর চামড়া নিয়ে চরম বিপাকে ছিল কোরবানিদাতারা। বিগত বছরগুলোর মতো পাড়া-মহল্লায় ছিলনা মৌসুমি চামড়া ক্রেতাদের প্রতিযোগিতা। তারপরেও ক্ষুদ্র মৌসুমি ব্যবসায়ী যারা চামড়া কিনেছে তারাও হয়েছেন সর্বস্বান্ত। আর যারা ক্রেতার দেখা পাননি তারা নিজেই পশুর চামড়া বিক্রি করতে এসে পড়েছেন বিড়ম্বনায়। অনেকে চামড়া ফেলে দিয়েছেন। এলাকাভেদে এবার ৭০ হাজার থেকে লাখ টাকার ওপরে কেনা গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। আর ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়েছে ১৫ থেকে ৩০ টাকায়।
ঈদ উপলক্ষে দিনাজপুর প্রধান চামড়ার বাজার রামনগর এলাকায়। এখানে সারা বছরই চামড়া কেনা-বেচা হয়। ভালো দামের আশায় দূর-দূরান্ত থেকে দিনাজপুর এই চামড়ার আরতে চামড়া বিক্রি করতে এলেও অনেকেই গাড়ি ভাড়ার টাকাও তুলতে পারেননি। কম দামের বিষয়টি জানার পর মৌসুমি অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনতে বেরই হননি।
জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় মাঠ পর্যায়ে কোরবানির পশুর চামড়ার দর গত বছরেরটাই বহাল রেখেছে। এতে ঢাকার প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার কেনাবেচা হয় ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। আর ঢাকার বাইরে দাম নির্ধারিত হয় ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। সারাদেশে প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়ার দর নির্ধারণ হয় ১৮ থেকে ২০ টাকা। আর এদিকে গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়। ছাগলের চামড়া বিক্রি হচ্ছে নামমাত্র মূল্যে। অনেক এলাকায় খাসির চামড়া ফ্রিতেও দিতে দেখা গেছে।
স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বিগত কয়েক দশকের মধ্যে এবারই চামড়ার দাম সবচেয়ে কম। দাম কম হওয়ার কারণ হিসেবে আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের দায়ি করছেন এই বিক্রেতারা। এদিকে কম দরে বেচাকেনা হওয়ায় লাখ লাখ চামড়া পাচারের শঙ্কার কথাও বলছেন অনেকে। এছাড়াও চামড়া বিক্রির যে টাকা তা থেকেও বঞ্চিত হয়েছে দরিদ্র ও অসহায় মানুষসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ। এছাড়াও সরকার মোটা অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
মঙ্গলবার দিনাজপুরের প্রধান চামড়ার আড়ত রামনগরে চামড়া বিক্রি করতে আসা সদর উপজেলার তালেহিয়া লিল্লাহ বোডিং ও এলমুল কোরআন দ্বিনীয়া মাদ্রাসার সাধারন সম্পাদক মাওলানা মুসা কলিমুল্লাহ বাজারে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে এমন কষ্টের কথা জানাচ্ছিলেন এই প্রতিবেদকের কাছে।
মাওলানা কলিমুল্লাহ জানান, মানুষের দানকরা অর্থ দিয়েই লিল্লাহ বোডিং-এর ছাত্রদের লেখাপড়া ও ভরণ-পোষন নির্বাহ করা হয়। আর এর সিংহভাগ অর্থ যোগান দেয়া হয় কোরবানীতে মানুষের দানকরা চামড়া বিক্রির অর্থ দিয়ে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বেশকিছু চামড়া দান করেছে এলাকার মানুষ। ভ্যান ভাড়া করে বাজারে সেই চামড়া নিয়ে এসে বিক্রি হচ্ছে না। চামড়া বিক্রির টাকা তো দুরের কথা, ভ্যান ভাড়াটাই লস। চামড়া বিক্রি না হওয়ায় পরিশেষে চামড়া ফেলে দিয়ে ফিরে যান মাওঃ কলিমুল্লাহ। দিনাজপুর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি জুলফিকার আলী স্বপন বিক্রেতাদের চামড়া ফেলা দেয়ার কথা স্বীকার করে জানান, পশু জবাইয়ের ৭ ঘন্টার মধ্যে চামড়ায় লবন লাগাতে হবে তা না হলে চামড়া গুলি নষ্ট হয়ে যাবে। এদিকে সরকার নির্ধারিত চামড়ার যে দাম তার সাথে প্রতিটি চামড়ার প্রক্রিয়াকরণ খরচ হিসাব করলে চামড়ার বর্তমান দাম ঠিকই আছে। এছাড়া মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কারণেও চামড়ার বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অপর দিকে এক ব্যবসায়ী জানান চামড়া ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি জুলফিকার আলী স্বপন এর কথা সঠিক নয়। ঠান্ডা বাতাষে রাখলে ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত চামড়ার কোন ক্ষতি হবে না।
দিনাজপুর জেলায় এবার পশুর চামড়া কেনার প্রতিযোগিতামূলক ক্রেতা না থাকায় উপজেলার মানুষকে চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়তে দেখা গেছে। এখানে দেড় লাখ টাকা মূল্যের গরুর চামড়া ৬০০ টাকা উপর বিক্রি করতে পারেনি এবং সর্বনিম্ন ৩০০ টাকা বিক্রি করতে দেখা গেছে। এছাড়া ছাগলের চামড়ার দাম ছিল ১০ থেকে ২০ টাকা। এমনকি ক্রেতা না থাকায় গরুর চামড়ার সঙ্গে ছাগলের চামড়া ফ্রি দেয়া হয়েছে। চামড়ার এ দাম বিগত কয়েক বছরের তুলনায় একেবারেই কম। প্রতিবছর এ জেলায় স্থানীয় ভাবে দুই থেকে তিন কোটি টাকার চামড়া কেনাবেচা হলেও এবার দাম পড়ে যাওয়ায় একই পরিমাণ চামড়া মাত্র ৮০ লাখ থেকে এক কোটি টাকায় কেনাবেচা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী জানিয়েছেন। অনেক মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী অনেক সর্তকতার সঙ্গে কম দামে চামড়া কিনেও শহরে বিক্রি করতে এসে বিপাকে পড়েন। লাভের আশায় ঘন্টার পর ঘন্টা চামড়া নিয়ে বসে থাকলেও আশানুরূপ দাম না পেয়ে কেনার চেয়ে অর্ধেক দামে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন তারা।
কয়েকজন চামড়া ব্যবসায়ী জানান, এবার চামড়ার বাজারদর পড়ে যাওয়ার রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। দিনের প্রথমভাগ থেকে বিকেল পর্যন্ত চামড়ার বাজারে বেচা-কেনা চললেও সন্ধ্যার পর থেকে যেন বেচা-কেনা থমকে দাঁড়ায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চামড়ার বাজার ক্রমেই কমতির দিকে যায় বলে এসব ব্যবসায়ী জানান। এবার কোরবানির পশুর চামড়া নামমাত্র দামে বিক্রি হয়েছে। এ জেলার ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যবসায়ীক সিন্ডিকেটকে দায়ি করছেন। আর কোরবানিদাতারা বলছেন, এতে করে চামড়ার টাকার হকদার গরিব ও এতিমদের সুকৌশলে ঠকানো হচ্ছে। এ জেলা এবার বিপুল সংখ্যক পশু কুরবানি হলেও কোন পশুর চামড়াই সঠিক দামে বিক্রি হয়নি। অনেক এলাকায় বিগত বছরগুলোর মতো কোন ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ীকেই দেখা যায়নি। কোরবানি দাতারা গরুর চামড়া ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ছাগলের চামড়া ১০ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে। মোকামে চামড়ার দাম কম হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে অল্প দামে তা কিনতে হয়েছে। ফলে এবারও চামড়ার দাম খুবই কম।

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *