শিরোনাম

05 Aug 2021 - 01:19:28 am। লগিন

Default Ad Banner

তিস্তায় পানির দাবিতে বাসদের রোডমার্চ

Published on Tuesday, February 16, 2016 at 11:33 am 305 Views

134735_1রংপুর: তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিতে রংপুর-তিস্তা ব্যারেজ অভিমুখে রোডমার্চ করেছে বাসদ।

সোমবার দুপুরে রংপুর প্রেসক্লাব চত্বরে থেকে যাত্রা শুরু করে রংপুর মেডিকেল মোড়, পাগলাপীর, গঞ্জিপুর, চন্দনের হাট, মাগুড়া, গাড়াগ্রাম, অবিলের বাজারে হয়ে বিকাল ৩টায় বড়ভিটায় পৌঁছে।

রংপুর জেলা শাখার সমন্বয়ক কমরেড আনোয়ার হোসেন বাবলুর সভাপতিত্বে রোডমার্চ করা হয়।

রোডমার্চ যাত্রা শুরুর আগে সেখানে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন- দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড শুভাংশু চক্রবর্ত্রী, জয়পুরহাট জেলা সমন্বয়ক ওবায়দুল্লাহ মুসা, গাইবান্ধা জেলা আহবায়ক কমরেড আহসানুল হাবীব সাঈদ, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড মঞ্জুর আলম মিঠু, দলের রংপুর জেলা কমিটির সদস্য পলাশ কান্তি নাগ।

বক্তারা বলেন, সকল আন্তর্জাতিক আইন ও রীতি-নীতি লংঘন করে ভারত  উজানে একতরফা পানি প্রত্যাহার করে বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম নদী তিস্তাকে শুকিয়ে মারছে।

গত তিন বছরে ৩ জেলার ১২ উপজেলার কৃষক-ক্ষেতমজুর ও কৃষি জমি চরম বিপর্যয়ের মুখে। হাজার হাজার মৎস্যজীবী ও মাঝি পরিবার বেকার কৃষক-জনতার মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হাহাকার।

বাংলাদেশের পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব মতে, তিস্তায় একসময় শুল্ক মৌসুমে ১৪ হাজার কিউসেক পানি প্রবাহিত হতো। ভারতের (গজলডোবা ব্যারেজ) পানি প্রত্যাহারের পর বাংলাদেশ অংশে তা কম  ৪,০০০ কিউসেকে দাঁড়ায়। খরা মৌসুমে তা ২৫০-৩০০ কিউসেকে নেমে এসেছে।

বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুর, নীলফামারী ও বগুড়া জেলার সেচ কাজে ব্যবহারের জন্য ১৯৯৩ সালে তিস্তা সেচ প্রকল্প চালু হয়। যার সেচ লক্ষ্যমাত্রা ৭,৫০,০০০ হেক্টর হলেও সেচ সুবিধা দেওয়া যেত ১,১১,৪৬০ হেক্টর জমিতে।

ভারতের কাছে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের ব্যর্থতার এমন ভয়াবহ পরিণতি যে, চলতি মৌসুমে ১০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সরবাহের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

তিস্তার পানি না পাওয়ায় প্রতিবছর ফসলহানির কারণে সর্বশান্ত হচ্ছে কৃষক। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারি সহায়তা না পেয়ে মহাজনী ও এনজিও ঋণের দ্বারস্থ হয়।

এই ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে মধ্যচাষি জমিজমা বিক্রি করে গরিব ক্ষেতমজুর, দিনমজুরে পরিণত হয়। তিস্তার গজলডোবা বাঁধ একদিকে শুল্ক মৌসুমে শুকিয়ে মারে আবার বর্ষা মৌসুমে প্রবল পানির স্রোত ফসল-বাড়িঘর ডুবিয়ে মারে। ফসলী জমি বালু চরে পরিণত হয়। নদী ভাঙ্গনে সর্বশান্ত হয় মানুষ।

বক্তারা আরো বলেন, আমাদের শাসকগোষ্ঠীর নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে স্বাধীনতার ৪৪ বছরেও তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় হয়নি বরং সকল সরকারই ক্ষমতায় টিকে থাকার স্বার্থে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে সাম্রাজ্যবাদী ভারতের স্বার্থে একের পর এক গণবিরোধী চুক্তি করেছে।

শুধু তিস্তা নয় দু’’দেশের অভিন্ন ৫৪টি নদীর ৫১টি নদীতে আন্তর্জাতিক নদী আইন অমান্য করে ভারত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য উজানে অসংখ্য বাঁধ, ব্যারেজ দিয়ে এবং ভিন্নখাতে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার করছে। ভারতের এই পানি আগ্রাসনের কারণে মরুকরণের দিকে গোটা বাংলাদেশ।

ভারতের পানি আগ্রাসন ও সরকারের নতজানু নীতির বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণকে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান।

রোডমার্চের সমাপনী সমাবেশ থেকে মার্চ মাসজুড়ে মিছিল, সমাবেশ, মানববন্ধন, মতবিনিময় শেষে আগামী ৭ এপ্রিল রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *