28 Oct 2021 - 12:27:40 am। লগিন

Default Ad Banner

তিস্তার দুর্গম চরে ইউপি সদস্য কর্তৃক বিধবা ধর্ষন বিচার না পেয়ে বিধবার আত্মাহত্যা

Published on Sunday, October 20, 2019 at 6:27 pm 104 Views

শাহিনুর রহমানঃ  ইউপি সদস্য কর্তৃক এক বিধবা নারী ধর্ষনের শিকার হয়ে মামলা করতে না পারায় আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকার বেশ কিছু প্রভাবশালী ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেস্টা করলে পুলিশের ৯৯৯ কল সেন্টারে মোবাইল করে এলাকাবাসী অভিযোগ করলে শনিবার বিকালে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাঁপানী ইউনিয়নের তিস্তা নদীর পূর্ব ছাতুনামা চরগ্রাম হতে ওই বিধার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে ধর্ষক ওই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও পূর্ব ছাতুনামা গ্রামের মৃত আব্দুল আমিনের পুত্র সাইফুল ইসলাম (৪৮)। এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃস্টি করেছে। অভিযোগে জানা যায় ওই গ্রামের আব্দুল জলিল দেড় বছর আগে অসুখে ভুগে মারা যায়।
তার বিধবা স্ত্রী ৫ কন্যা সন্তানের জননী জাহানারা বেগম (৪৫) ওই চর গ্রামে বসবাস করত। ৫টি মেয়ের বিয়ে হওয়ায় বাড়িতে একাই থাকত বিধবা। ওই বিধবার দুই ছোট বোন চর গ্রামের অর্ধ কিলোমিটার অদুরে স্বামীর বাড়িতে থাকেন। ওই দুই বোন নাসিমা ও নাজমাসহ এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানায় ১৬ অক্টোবর রাতে উক্ত ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বিধবা ভাতার কার্ড করে দেবার নামে ওই বিধবার বাড়িতে যায়। এ পর্যায়ে ইউপি সদস্য ওই বিধবাকে জোড়পূর্বক ধর্ষন করতে থাকলে ওই বিধবা চিৎকার দিলে লোকজন ছুটে এসে ইউপি সদস্যকে হাতে নাতে আটক করে। এরপর ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলামের পক্ষ নিয়ে কিছু প্রভাবশালী ইউপি সদস্যকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ওই বিধবা ঘটনার পর দিন থানায় মামলা করার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে থানায় যেতে চাইলে পথে প্রভাবশালীরা তাকে বাধা দিয়ে ফিরিয়ে দেয়। পাশাপাশি মামলা না করার জন্য হুমকী দিতে থাকে। শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে চর গ্রামের লোকজন ওই বিধবার খবর নিতে গেলে দেখতে যায় তার মৃত দেহ গলায় ফাস লাগানো অবস্থায় ঘরে ঝুলছে। নিমিষে ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে প্রভাবশালীরা পুলিশকে খবর না দেয়ার জন্য হুমকী দিতে থাকে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ওই বিধবার দুই ছোট বোন এলাকাবাসীর সহযোগীতায় পুলিশের ৯৯৯ কল সেন্টারে মোবাইল করে বিস্তারিত জানায়। এরপর সেখানে ডিমলা থানা পুলিশ ছুটে এলে প্রভাবশালীরা সহ ধর্ষক ইউপি সদস্য পালিয়ে যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ ওই বিধবা ধর্ষনের মামলা করতে ব্যর্থ হওয়ায় আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে।
ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলামের ধর্ষনের বিচার না পেয়ে বিধবা জাহানারা বেগম আত্বহত্যা করেছেন। একাধিক বার চেষ্টা করেও ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলামের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় পাওয়া যায়নি। উক্ত ইউপি সদস্যের বাড়ী গেলে স্ত্রী পারভিন আক্তার বলেন, সকালে তার স্বামী ( সাইফুল ইসলাম) বাড়ী থেকে বের হয়েছে তারপর আর বাড়ী ফেরত আসেনি। তবে জাহানারা বেগম নামে বিধবার মৃত্যুর সাথে তার স্বামী জড়িত নয় মর্মে দাবী করেন। ডিমলা থানার ওসি মফিজ উদ্দিন শেখ জানান ঘটনাটি মর্মান্তিক। আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় বিধবার মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য উদ্ধার করে নিয়ে এসেছে। রবিবার জেলার মর্গে লাশের ময়না তদন্ত করা হবে। ওসি জানান ওই বিধবার ছেলেকে ও তার দুই বোনকে থানায় ডাকা হয়েছে। তারা ধর্ষন ও আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দিলে তা গ্রহন করা হবে। সেই সঙ্গে আমরা ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলামসহ অন্য যারা জড়িত তাদের আটকের চেস্টা করছি।

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *