16 Jun 2021 - 02:51:12 pm। লগিন

Default Ad Banner

জাতীর পিতা ও জাতীয় কবি

Published on Wednesday, August 28, 2019 at 4:17 pm 139 Views


কৈলাশ প্রসাদ গুপ্ত: জাতীর পিতা ও জাতীয় কবি। এ দু’জনেরই আকাক্ষা গরীব দুখী মেহনতি মানুষের মুখে হাসি ফুটানো।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ১৮৯৯ ইং সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ববঙ্গে ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
দু’জনেই পরাধীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ রাজের অধীনে জন্মগ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের ২৭টি বছর ব্রিটিশের অধীনে লালিত পালিত হন। পক্ষান্তরে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ৪৮টি বছর জীবনকাল অতিবাহিত করেন। দু’জনেই যৌবনে ব্রিটিশদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠেন। একজনের প্রতিবাদের ভাষা হয়ে ওঠে লেখনী। অন্যজনের রাজনীতি।
দুর্ভাগ্য জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মাত্র ৪৩ বছর বয়সে ১৯৪২ সালে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে যান।
দুর্ভাগ্য জাতীর পিতা ৫৫ বছর বয়সে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে একদল বিপথগামী সেনাদের হাতে সপরিবারে নিহত হন।
আমি সেই দিন হব শান্ত,
যবে উৎপীড়তের ক্রন্দন রোল
আকাশে বাতাসে ধ্বনিবেনা
অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ
ভীম রণভূমে রণিবেনা \ কাজী নজরুল
আমার অবস্থা চিলির আলেন্দের মত হলেও আমি সা¤্রাজ্যবাদের কাছে মাথা নত করব না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

দু’জনেই চেয়েছিলেন জাতীকে মুক্তি দিতে। দু’জনেই ছিলেন মানবতা বাদী কবি। একজন কবিতার বরপুত্র। আর একজন রাজনৈতিক কবি। এবারে সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। কবিতার ভাষায় স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন নেতা।
দু’জনেই অসাম্প্রদায়িক। ধর্মনিরপেক্ষ, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, সমাজততন্ত্রের অনুসারী।
জাতীকে পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য, স্বাধীনতার জন্য, আজীবন লড়াই সংগ্রাম করেছেন, জেল খেটেছেন। অন্যায় অত্যাচার, নিপীড়ন, নির্যাতন ভোগ করেছেন। কিন্তু তাদের অভীষ্ট লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হন নি।
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ জাতীকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রেরণা যুগিয়েছিল। বাঙ্গালী জাতি স্বাধীনতার জন্য শপথ নিয়েছিল।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা, গান মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা যুগিয়েছিল। তার গান-
চল চল চল
ঊর্ধ্ব গগণে বাজে মাদল ..................
আমাদের মুক্তিযুদ্ধের রণসংগীত।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর এক সাগর এক রক্তের বিনিময়ে বাঙ্গালী জাতি বিজয় লাভ করল। মুক্ত হল, স্বাধীন হল বাংলাদেশ।
জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করলেন। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু বিদ্রোহী কবি, সাম্যের কবি, দ্রোহের কবি, প্রেমের কবি নজরুলকে বাংলাদেশে নিয়ে আসলেন। বাংলাদেশে নাগরিকত্ব দিলেন। দিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মান সূচক ডি.লিট উপাধি প্রদান করেন।
সেই থেকে তিনি আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
২৯ আগস্ট ১৯৭৬ সালে কবি ঢাকায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। তার ইচ্ছা- মসজিদের পাশে কবর দিও ভাই, কবর থেকে যেন মুয়াজ্জিনের আযান শুনতে পাই। বন্ধবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চের কাল রাত্রিতে গ্রেফতার হয়ে পাকিস্তানের কারাগারে প্রায় ৯ মাস বন্দী অবস্থায় থেকে তাঁর মনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন- তাঁর কবর যেন বাংলার মাটিতে হয়।
যে দেশের মাটির তলে, ঘুমিয়ে আছে লক্ষ মুক্তি সেনা, সে মাটি আমার অঙ্গে মাখিয়ে দেনা।
জাতীর পিতারও শেষ ইচ্ছে পূরণ হয়েছে বাংলার মাটিতে ,বাংলা মায়ের কোলে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়ে।

কৈলাশ প্রসাদ গুপ্ত

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও শিক্ষক

ফুলবাড়ী দিনাজপুর

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *