শিরোনাম

17 Apr 2021 - 08:58:06 am। লগিন

Default Ad Banner

চলন্ত ট্রেনে সন্তান জন্ম, নাম রাখলেন ‘লালমনি’

Published on Sunday, December 1, 2019 at 1:46 pm 90 Views

এমসি ডেস্কঃ ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা লালমনিরহাটগামী আন্তঃনগর ‘লালমনি এক্সপ্রেস’ ট্রেনে এক ফুটফুটে শিশুর জন্ম দিয়েছেন প্রসূতি মা নবিয়া বেগম। ট্রেনের সঙ্গে মিলিয়ে শিশুটির নাম রেখেছেন ‘লালমনি’।

শনিবার দুপুরে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামে তার বাড়িতে শিশুটির খোঁজ নিতে গেলে এ কথা জানান প্রসূতি নবিয়া বেগম।

জানা গেছে, অভাবের থাকায় কাজের খোঁজে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের ছকমাল মিয়া-স্ত্রী নবিয়া বেগমকে নিয়ে প্রায় ২ বছর আগে ঢাকায় যান। স্ত্রী নবিয়া নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করেন। স্বামী দিনমজুরের কাজ করেন। তারা ঢাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকেন।

তবে ঢাকার ক্লিনিকে সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর অপারেশন করার মতো স্বামীর সামর্থ্য না থাকায় স্বামী সিদ্ধান্ত নেন গ্রামে গিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করবেন স্ত্রীকে।

গভীর রাতে আশপাশে ট্রেন থামার মতো কোনো রেলস্টেশন ছিল না। ফলে নবিয়া ট্রেনেই সন্তানের জন্ম দেন।

ট্রেনটিতে কোনো চিকিৎসক ছিলেন না। ট্রেনের অন্য নারী যাত্রীদের সহায়তায় নবিয়া সন্তানের জন্ম দিলেও তার রক্তক্ষরণ বন্ধ হচ্ছিল না। তাই সকাল ৭টার দিকে ট্রেনটি বগুড়া স্টেশনে থামলে নবিয়া ও তার স্বামী সেখানে নামেন।

৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে সেখান থেকে বিষয়টি বগুড়া ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়া হয়।

পরে স্টেশন অফিসার আকরামুল হাসানের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল রেলস্টেশন থেকে প্রসূতি ও নবজাতককে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দেন।

প্রসূতি নবিয়ার স্বামী ছকমাল মিয়া পেশায় দিনমজুর। রাজধানীতে রাজমিস্ত্রির জোগালির কাজ করেন। পোশাকশ্রমিক নবিয়া সন্তান পেটে আসার পর আর কাজে যাননি। এই দম্পতির আগেও তিনটি ছেলে সন্তান আছে। নবিয়া অন্তঃসত্ত্বা হলেও চিকিৎসকের কাছে যাননি। কবে সন্তান ভূমিষ্ঠ হবে সেটিও অজানা ছিল এই দম্পতির।

নবিয়া জানান, সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর রক্তক্ষরণ বন্ধ না হলে অন্য যাত্রীরা বগুড়া রেলস্টেশনে নামার পরামর্শ দেন। ট্রেনের সঙ্গে মিল রেখে নবজাতকের নাম ইব্রাহীম হোসেন (লালমনি) রাখা হয়েছে।

প্রসূতি নবিয়ার স্বামী ছকমাল হোসেন জানান, ছেলে ‘লালমনিকে’ সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে রেলের চাকরিতে যোগদান করাতে চাই। সবার কাছে আমার সন্তান ‘লালমনির’ জন্য দোয়া চাইছি।

চলবলা ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজু বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। প্রসূতি নবিয়া ও তার নবজাতক সুস্থ আছেন।

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *