শিরোনাম

11 May 2021 - 02:09:49 pm। লগিন

Default Ad Banner

কয়লা কেলেঙ্গকারীর পর বন্ধ রয়েছে কয়লা বিক্রি, প্রভাব পড়েছে বড়পুকুরিয়া খনি এলাকায়

Published on Saturday, November 23, 2019 at 8:27 pm 103 Views

লিমন হায়দারঃ বড়পুুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প ২০১৮ সালের জুন মাসে জ্বালানী মন্ত্রনালয়ের কাছে কয়লা সরবরাহের ঘাটতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করলে বড়পুকুরিয়া খনি থেকে কয়লা চুরির কেলেঙ্গকারীর বিষয়টি সকলের নজরে আসে। সে সময় প্রাথমিক তদন্ত শেষে ১৯ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চুরি ও দূর্নীতির দায়ে মামলাও হয়। সেই মামলার পর থেকে এখন অব্দি বন্ধ রয়েছে দেশের একমাত্র বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লা বিক্রি । খনির শুরু থেকে এ যাবত এত লম্বা সময় ব্যাপি কখনো কয়লা বিক্রি বন্ধ থাকেনি । এবিষয় গুলি নিয়ে মুঠোফোনে কথা হয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার সাথে। তিনি জানালেন, তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৫২৫ মেগা. ওয়াটের তিনটি ইউনিটে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার ২শ ৫০ মেট্রিক টন কয়লার চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে বড়পুকুরিয়া খনি থেকে প্রতিদিন নতুন ফেস থেকে কয়লা উত্তোলন হচ্ছে গড়ে প্রায় ১ হাজার মেট্রিক টন। কয়লা মজুদ থাকার কারনে তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্পের চাহিদা পুরণ করা সম্ভব হচ্ছে। আশা করা যায়, খুব অল্প সময়ের মধ্যে এই ফেস থেকে প্রতিদিন সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মেট্রিক টন কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব হবে। যে পরিস্থিতি চলছে তাতে করে বড়পুকুরিয়ার কয়লা অন্যত্র বিক্রির কোনো সম্ভাবনা আপাতত আমি দেখছি না। তাছাড়াও এখন নতুন নিয়মে জ্বালানী মন্ত্রনালয় ও তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েই কয়লা বিক্রি করতে পারবে।
আর গুটি কয়েক কালপিটের এই কয়লা কেলেঙ্গকারীর কারণেই খেসারত দিতে হচ্ছে অত্র এলাকার খেটে খাওয়া মানুষজনদের । এমনটাই জানালেন অত্র এলাকার সচেতন সমাজ । অনুসন্ধানে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। সরে জমিনে গিয়ে দেখা মেলে লোড-আনলোড কুলি শ্রমিক ইউনিয়ন রেজি. নং: ১৯৮৭। এই শ্রমিক সংগঠনটির সহ-সভাপতি মেহেরুল ইসলাম ও ইয়াকিন আলী জানান, আমরা দীর্ঘ এক বছর ধরে এই সংগঠনের ৭৫ জন শ্রমিক অত্যন্ত মানবেতর জীবন-যাপন করছি । যখন কয়লা বিক্রি ছিল! আমরা গড়ে দৈনিক প্রত্যেকেই ৫শত থেকে ৭শত টাকা পর্যন্ত আয় করেছি। লোড-আনলোড করতে গিয়ে স্থানীয় শ্রমিক সবজাল হোসেন পিতা. মৃত হাসান মন্ডল ও আজাহার আলী পিতা. মৃত অছির উদ্দীন মৃত্যুবরণ করলেও আজ পযর্ন্ত তাদের কাউকেই এখনো ক্ষতি পূরণ দেয়া হয়নি। এসময় তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর দাবী জানান, যেন দ্রুত কয়লা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের রুটি-রুজির পথ সুগম করে দেয়া হয়। প্রাপ্ত তথ্যে আরও জানা গেছে, পার্টিকে কয়লা বিক্রিতে সহায়তা করা, একজন পার্টি কয়লা ক্রয় করছেন তার গাড়ির বন্দোবস্ত করা এমন মানুষের সংখ্যাও বড়পুকুরিয়ায় ছিল প্রায় ২’শ জন । তাদের অনেকেই এখন বেকার জীবন-যাপন করছেন। ফলে, কয়লা বিক্রি বন্ধে তাদেরও উপর প্রভাব পড়েছে।
বিশেষ পরিস্থিতিতে কয়লা বিক্রি বন্ধে প্রভাব পড়েছে অত্রাঞ্চলের ভাটা মালিকদের উপরও । কথা হয় ভাটা মালিক নুর আলম নুরুল্লার সাথে । তিনি মাইনিং সিটিকে জানান, এই পরিস্থিতিতে আমরা বড়পুকুরিয়ার কয়লা না পাবার কারণে ভারতের কয়লা দিয়ে ইট পোড়াতে বাধ্য হচ্ছি । ভারতের নিম্নমানের এই কয়লা দ্রুত পুড়িয়ে যায় । বড়পুকুরিয়ার কয়লা দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলে । ফলে ইটও পোড়ানো যায় বেশী । এক্ষেত্রে সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি অত্রাঞ্চলের ভাটা মালিকরা ।
সরকারি ভাবে কয়লা বিক্রি বন্ধ থাকলেও স্থানীয় দু-একজন ব্যবসায়ী কয়লা ঠিকই বিক্রি করছেন। সরেজমিনে গিয়ে এমনই দৃশ্য চোখে পড়েছে। তারা যেমনটি জানালেন, খনির ভুগর্ভে কয়লা কাটার সময় কয়লার সুক্ষ অংশগুলি ভুগর্ভের ড্রেন থেকে পাম্পের মাধ্যমে উপরে তুলে এনে ড্রেনের সাহায্যে বাহিরে ফেলানো হয়। কয়লার সেই সুক্ষ অংশগুলি উপরিভাগের ড্রেনে ছেঁকে সংগ্রহ করেন অত্রাঞ্চলের বেশ কিছু দরিদ্র নারী। যাদের সংখ্যাও নেহাতই কম না। আটটি দলে বিভক্ত এই নারীদের এক-একেকটি দলে রয়েছে ৩০ জন করে সদস্য। প্রতিদিন ৩০ সদস্যের একটি করে নারী দল ড্রেন থেকে কয়লা ছাকানোর কাজ করে । এভাবে পর্যায়ক্রমে ৮টি দলেই এই কাজটি করে আসছে। পরবর্তীতে তাদের সংগৃহীত কয়লা গুলি স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী ৩শত বা ৪শত টাকা মণ দরে ক্রয় করে থাকেন । এতে করে ওই নারীরা দিন শেষে ৪শত বা ৫শত টাকা গড়ে আয় করছেন। বলা যায়, কয়লা বিক্রি বন্ধের কারণে অনেকের উপর প্রভাব পড়লেও শুধু প্রভাব পড়েনি এদের উপর ।

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *