16 Sep 2021 - 04:54:58 pm। লগিন

Default Ad Banner

কেউ ক্ষুধার্ত থাকবে না, বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না, উন্নত জীবন পাবে

Published on Sunday, March 17, 2019 at 1:59 pm 279 Views

এমসি ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু নিজের সবকিছু বিলিয়ে দিয়েছেন মানুষের জন্য। মানুষের অধিকারের কথা বলতে গিয়েই বারবার কারাবরণ করেছেন। সবার জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। জাতিসংঘের আগেই ১৯৭৪ সালে শিশু অধিকার রক্ষায় শিশু আইন করেন বঙ্গবন্ধু।
তিনি বলেন, ৭৫ এর পর বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিলো। আর সেই ভাষণ আজ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ভাষণের একটি। তিনি আরোও বলেন, শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার কাজ করছে সরকার। বঙ্গবন্ধু যে সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছিলেন। সেটি বাস্তবায়ন করাই এখন লক্ষ্য।
প্রধামন্ত্রী আরও বলেন, দেশে ফিরে এসেছিলাম প্রতিজ্ঞা নিয়ে, জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব। দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। দেশে যখন ফিরে আসি জানতাম, যে কোন সময় আমাকেও এই পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে। 
দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। কেউ ক্ষুধার্ত থাকবে না, বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না, উন্নত জীবন পাবে। এটা নিশ্চিত করাই এখন লক্ষ্য।
সেখ হাসিনা বলেন, ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালন করা হবে। ২০২০ সাল থেকে ২১ সাল পর্যন্ত মুজিব বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্মদিন উপলক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন আয়োজিত শিশু সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, শিশু জীবন করো রঙিন’ এ প্রতিপাদ্যে আলোচনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন শিশু প্রতিনিধি লামিয়া সিকদার। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।
এর আগে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার সকাল ১০ টা ১৯ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ গোটা জাতির পক্ষ থেকে স্বাধীনতার রূপকার বঙ্গবন্ধুর প্রতি ৯৯ তম জন্ম বার্ষিকীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ বেদীর পাশে নিরবে দাঁড়িয়ে থাকার পর পবিত্র ফাতেহা সুরা পাঠ করেন। 
তারা বঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করেন। পরে রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ সমাধি সৌধে রক্ষিত পরিদর্শন বইতে মন্তব্য লিখে স্বাক্ষর করেন।
এরপর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বঙ্গবন্ধু সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রী পরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সহযোগী, অঙ্গ, ভাতৃপ্রতিম সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক পেশাজীবী ও শ্রমজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতি জন্ম দিনের শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
বাঙ্গালী জাতির মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি জন্ম দিনের শ্রদ্ধা জানাতে রবিবার সকাল ৯ টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়া বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে আসেন। 
১০ টার কিছুপর রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে স্বাগত জানান। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ধীর পায়ে বঙ্গবন্ধু সমাধিসৌধের বেদীর দিকে এগিয়ে যান।
শিশু সমাবেশের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে গোপালগঞ্জ জেলা ব্র্যান্ডিং এর লোগোর রেপ্লিকা প্রদান করা হয়। এসময় বঙ্গবন্ধুকে লেখা চিঠি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। এর পর আমার কথা শোন শীর্ষক ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।
 সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার প্রদান ও সেলাই মেশিন বিতরণ করেন শেখ হাসিনা। পরে দর্শক সারিতে বসে গোপালগঞ্জের শিশু শিল্পীদের অংশগ্রহেন কাব্যনৃত্যগীতি আলেখ্যানুষ্ঠান উপভোগ করেন প্রধান অতিথি। 
শিশু শিল্পীদের সাথে একান্তে কিছু সময় কাটিয়ে সমাধি সৌধ কমপ্লেক্সে জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্র আয়োজিত বই মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
মধ্যাহ্ন ভোজের পর হেলিকপ্টার যোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে টুঙ্গিপাড়া ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *