20 Sep 2021 - 10:13:04 am। লগিন

Default Ad Banner

ঈদুল আযহার গুরুত্ব, তাৎপর্য ও শিক্ষা

Published on Wednesday, August 7, 2019 at 7:32 am 266 Views

আবদুল্লাহ আল ফারুকঃ মুসলমানদের বছরে দুটি উৎসব একটি হলো ঈদুল ফিতর যা আমাদের মাঝে অতিবাহিত হয়ে গেছে। আর দ্বিতীয়টি হলো ঈদুল আযহা বা কুরবানীর ঈদ। আযহা বা কুরবানী অর্থ ত্যাগ আর ঈদ, অর্থ খুশী। অতএব ঈদুল আযহা অর্থ কুরবানীর খুশী। এই কুরবানীর দিনে আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু জবাই করা হয়। এর মাধ্যমে মালের ত্যাগ  স্বীকার করা হয়। মালের কুরবানী দেয়া হয়। এই মালের কুরবানী দিতে পারার মধ্যে মু’মিনের একটি আনন্দ বোধ থাকে। এ জন্যেই একে কুরবানীর ঈদ বলা হয়। আরবীতে একে কুরবানীর ঈদ বলা হয়। আরবীতে বলা হয় ঈদুল-আযহা। যিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে এই ইবাদত পালন করতে হয়। বক্ষ্যমান প্রবন্ধে আমরা ঈদুল আযহার গুরুত্ব, তাৎপর্য ও শিক্ষার উপর সংক্ষিপ্ত আলোচনার প্রয়াস পাব ইনশাআল্লাহ।
ঈদুল আযহার গুরুত্বঃ- মু’মিন জীবনে ঈদুল আযহার গুরুত্ব অপরিসীম। কুরআন ও হাদীস এ ব্যাপারে যথেষ্ট তাকীদ দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন-“কা’বার জন্য উৎসর্গকৃত উটকে আমি তোমাদের জন্যে আল্লাহর অন্যতম নিদর্শন করেছি। এতে তোমাদের জন্যে মঙ্গল রয়েছে। (সূরা হজ্জ-৩৬) আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন-আমি তার পরিবর্তে দিলাম যবেহ করার জন্যে এক মহান জন্তু। আমি তার জন্যে এ বিষয়টি পরবর্তীদের মধ্যে রেখে দিয়েছি। (সুরা আস-সাকফাত-১০৭-১০৮)আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন-আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামায পড়–ন এবং কুরবানী করুন (সূরা কাওসার-২) মহানবী (সাঃ) বলেছেন সামর্থ থাকা সত্তে¡ও যে ব্যক্তি কুরবানী করলে না সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়। নামায শারীরিক ইবাদত সমূহের মধ্যে সর্ববৃহৎ ইবাদত এবং কোরবানী আর্থিক ইবাদত সমূহের মধ্যে বিশেষ স্বতন্ত্র্য ও গুরুত্বের অধিকারী, কেননা আল্লাহ তায়ালার নামে কোরবানী করা প্রতিমা পুজারীদের রীতিনীতির বিরুদ্ধে একটি জেহাদ বটে। এ কারনেই অন্য এক আয়াতে ও নামাযের সাথে কোরবানীর উল্লেখ আছে। “আপনি বলুনঃ আমার নামায, আমার কুরবানী এবং আমার জীবন ও মরন বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহরই জন্য।” (সূরা আনযাম-১৬২)

এটি ইসলামের একটি মহান নিদর্শন যা সুন্নাতে ইব্রাহিম (আঃ) হিসাবে রাসুল (সাঃ) নিজে মদীনায় প্রতি বছর আদায় করেছেন এবং সাহাবী গণও নিয়মিতভাবে কুরবানী করেছেন। অতঃপর অবিরত ধারায় মুসলিম উম্মাহ সামর্থ বানদের মধ্যে এটি চালু আছে। এটি কিতাব ও সুন্নাহ এবং ইজমায় উম্মত দ্বারা সুপ্রমাণিত।

ঈদুল আযহার তাৎপর্যঃ- হয়রত ইবরাহীম (আঃ) এর কাছে আদেশ এল, পুত্রকে যবাই করো। তাও এসে স্বপ্নের মাধ্যমে। অহীর মাধ্যমে এলে তো একটা ব্যাপার ছিল। কিন্তু আল্লাহ তা করলেন না। বরং স্বপ্নে দেখালেন, তোমার পুত্রকে যবাই করো। আমরা হলে তো বলে দিতাম, এটি  স্বপ্নের ব্যাপারে এর উপর আমল করার আবশ্যকতা কি?
কিন্তু এটিও মূলত একটি পরীক্ষা ছিল। নবীদের স্বপ্নও অহী। নবীগণ স্বপ্নে প্রাপ্ত আদেশের উপরও অহীর মতো আমল করতেন। হয়রত ইবরাহীম (আঃ) আল্লাহর নিকট এই আদেশটির সার্থকতা ও যৌক্তিকতা জিজ্ঞাস করেননি। তবে পরীক্ষা নিতে পুত্রকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “প্রিয় পুত্র আমার! স্বপ্ন দেখেছি আমি তোমাকে যবাই করছি। ভেবে দেখো তোমার মতামত কী? (সূরা আস-সাফফাত-১০২) হয়রত ইবরাহীম (আঃ) পুত্রের মতামত এই জন্য জিজ্ঞেস করেননি সে, যদি তিনি সম্মতি না দেন, তাহলে যবাই করবেন না। বরং এর জন্য জিজ্ঞেস করেছেন, পুত্রকে পরীক্ষা করবেন। তিনি কি পরিমান পানির মধ্যে আছেন এবং আল্লাহর আদেশ নিষেধের ব্যাপারে তার ধারণা কী? পুত্র ও তো হয়রত ইবরাহীম (আঃ) এর ঔরসজাত সন্তান। এমন এক সন্তান, যার ঔরষে শেষ নবী ওবিশ্বনবী হয়রত মুহাম্মদ (সাঃ) জন্মলাভ করার ছিলেন। তিনিও পাল্টা প্রশ্ন তোলেন নি। আব্বাজান আমি কী অপরাধ করেছি যে, আমাকে যবাই করতে হবে? এর মাঝে যৌক্তিকতা বা রহস্য কী?
বরং কোনো ভাবনা-চিন্তা ছাড়াই তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন। “আব্বাজান! আপনি যে কাজের জন্য আদিষ্ট হয়েছেন, তা করে ফেলুন। আল্লাহ চাহেন তো আপনি অবশ্যই আমাকে ধৈর্যশীলদের একজন পাবেন”। আমি কাঁদব না, চিৎকার করব না এবং এ কাজে আপনাকে কোনো বাধা দিব না। আপনি কাজটা করে ফেলুন। পিতা মহান ব্যক্তিত্ব পুত্র ও মহান ব্যক্তিত্ব। দুজন আল্লাহ পাকের আদেশটি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতি হয়েগেছেন। পিতা পুত্রকে মাটিতে শুইয়ে দিলেন। পুত্র ইসমাইল (আঃ) বললেন, আমাকে উপুড় করে শোওয়ান। কারন চিৎ করে শোওয়ালে আমার চেহারা আপনার সামনে থাকবে। ফলে এমনটি হতে পারে যে, আপনার হৃদয়ে পুত্র স্বহের জোয়ার শুরু হয়ে যাবে আর আপনি ছুরি চালাতে ব্যর্থ হবেন। পিতা-পুত্রের অনুগত্যের এই মহড়া আল্লাহর এত ভালো লাগল যে, তাদের এই নীতি চরিত্রের কথা পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন। যেমন-আল্লাহ পাক বলেন-আমি তাকে ডাকে বললাম, ওহে ইবরাহীম! তুমি স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ” (সূরা আল সাফফাত ১০৪-১০৫)
এবার আমার কুদরতের তামাশা দেখো। যবাই পর্ব সম্পন্ন করে হয়রত ইবরাহীম (আঃ) চোখ খুললেন। দেখলেন হয়রত ইসমাইল (আঃ) এর স্থানে মিটিমিটি হাসছেন। আর যবাইয়ের স্থলে একটি যবাইকৃত দুম্পা পড়ে
আছে।

এই পুরো ঘটনাটি যেটি মূলত কুরবানীর আমলের ভিত্তি প্রথম দিনথেকেই জানান দিয়ে আসছে যে, কুরবানীর বিধান এজন্যই দেওয়া হয়েছে যাতে মানুষের অন্তরে এই অনুভ‚তি এই জ্ঞান ও প্রজ্ঞা জন্ম দিক যে, আল্লাহর বিধানের অবস্থানই সব কিছুর উপরে। দ্বীন মূলত অনুগত্যের নাম এবং যখন তাঁর আদেশ এসে পড়বে, তখন যুক্তির ঘোড়া দাবড়ানোর তত্ত¡ রহস্য অনুসন্ধানের কোনো সুযোগ থাকবে না। মহান আল্লাহ কুরবানী ওয়াজিব করেছেন, আজ ঠিক তার বিপরীত একদল লোক বলছে জনাব! কুরবানী জিনিসটা কী? তারা বোঝাতে চাচ্ছে, কুরবানী একটি অর্থহীন কাজ এবং এর কোনো তাৎপর্য বা উপকারিতা নেই। কোটি কোটি টাকা রক্ত আকারে নালা-নর্দমায় ভেসে যায় এবং বিশ্বের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্থ করে। বিপুল সংখ্যক পশু কমে যায় এবং অমুক তমুক অর্থনিতিক ক্ষতি সাধিত হয় ইত্যাদি। কুরবানী না করে যদি এই অর্থ ভুখা লাঙ্গা অসহায় মানুষদের মাঝে বন্টন করে দেওয়া হতো, তাহলে মানবতাও উপকৃত হতো, আবার পশুদের জীবন রক্ষা পেত। এক সময় বিশেষ একটি শ্রেণী এসব কথা বলত। এখন অনেকেই বলে। ইসলাম বিরোধী এই প্রোপাগান্ডা এখন অনেক বিস্তৃত হয়েছে। এখন এমন কোনো মত দিচ্ছে না যে, অন্তত দু- চারজন মানুষ জিজ্ঞেস করছে, আমার আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে অনেক গরীব মানুষ আছে, আমি যদি কুরবানী না করে তার অর্থ তাদেরকে দিয়ে দেই তাহলে কোনো ক্ষতি আছে কি? ব্যাপার হলো প্রতিটি ইবাদতের একটি ক্ষেত্র আছে। যেমন কেউ যদি চিন্তা করে যে আমি নামায পড়ব না বরং তার স্থলে গরীবদের সাহায্য করব, তাহলে এর দ্বারা নামাজের ফরজীয়াত আদায় হবে না। গরীবকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে এক নামাজেয ক্ষেত্র আরেক। কাজেই দান অনুদান দ্বারা নামায বা অন্য কোনো ইবাদতের দায়িত্ব আদায় হবে না।কুরবানী বিরোধী একটি প্রোপাগান্ডা হলো এই কাজটি যুক্তির পরিপন্থী এবং আর্থিক ক্ষতির কারন। অর্থনীতির বিচারে এর কোন যৌক্তিকতা নেই। এই বক্তব্য মূলত কুরবানীর সমস্ত দর্শন ও তার প্রাণ সত্তাকে অস্বীকার করার নামান্তর।
কুরবানীর শিক্ষাঃ-কুরবানী নামক ইবাদতটির পুরো দর্শনই এটি যে কুরবানী অর্থ হলো, আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের বস্তু। আর এই কুরবানী শব্দটি “কুরবান” থেকে এসেছে। তো কুরবানী অর্থ হলো সেই বস্তু যার দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা যায়। কুরবানীর পুরো আমলটিতে এই শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে,

আমার আদেশ-নিষেধের আনুগত্যের নাম দ্বীন। যখন আমার আদেশ এসে যাবে। তখন আর না যুক্তি ঘোড়া দারড়ানোর সুযোগ থাকবে, না তার মধ্যকার রহস্য ও সার্থকতা খুজে বেড়ানোর সুযোগ থাকবে না কী কারনে প্রশ্ন তুলবার সুযোগ থাকবে। একজন মুমিনের কাজ হলো আল্লাহর বিধানের কাছে মাথাটা ঝুকিয়ে দেওয়া এবং তার বিধানের আনুগত্য করা।

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *