08 Dec 2021 - 12:36:07 am। লগিন

Default Ad Banner

আরব আমিরাতের ফ্লাইট নিয়ে নাজেহাল বিমানবন্দর

Published on Wednesday, October 27, 2021 at 9:07 pm 25 Views

 

এমসি ডেস্ক :   বুধবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ১টা। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসেছেন সৌদিগামী মো. রাসেল। দুহাতে ভারী ব্যাগ। হন্যে হয়ে খুঁজেছেন একখানা ট্রলি। কিন্তু পাচ্ছেন না। তার মতো অনেকেই পড়েছেন ট্রলি সংকটে। বিমানবন্দরের প্রবেশপথটাও যেন মাছবাজার। স্বাস্থ্যবিধি তো দূরে থাক, সাধারণ শৃঙ্খলাও নেই। অতিমাত্রায় ভিড়ের কারণে ফ্লাইট বিলম্বের ঘটনাও ঘটছে। মূলত আরব আমিরাতগামী যাত্রীদের করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা টার্মিনালের ভেতরে করাতেই বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে বিমানবন্দর।

অতিরিক্ত ভিড় ও শব্দের কারণে এয়ারলাইন্সগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটছে। অন্য রুটের যাত্রীরাও পড়েছেন ভোগান্তিতে। টার্মিনালের ভেতর করোনার নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা সরানো না গেলে জটিলতা আরও বাড়বে বলে শঙ্কা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শর্তানুযায়ী দেশটিতে বাংলাদেশিদের প্রবেশ করতে হলে ফ্লাইটের ৬ ঘণ্টা আগে করোনা পরীক্ষা করাতে হবে। যে কারণে ফ্লাইটের অন্তত আট ঘণ্টা আগে বিমানবন্দেরে আসতে হচ্ছে যাত্রীদের। প্রবেশের সময় প্রত্যেকে একটি করে ট্রলি নিয়ে প্রবেশ করছেন। কিন্তু বোর্ডিংয়ের আগপর্যন্ত প্রায় সাত ঘণ্টা সেই ট্রলি আটকে রাখতে হচ্ছে তাদের। এতে অন্য যাত্রীরা পড়ছেন ট্রলি সংকটে।

বেশি জটিলতা দেখা দেয় সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার ভেতর। এ সময় অন্য গন্তব্যের যাত্রী ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী প্রায় ১২শ যাত্রী অবস্থান করেন। কারণ বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে এমিরেটস, ৬টা ১৫ মিনিটে এয়ার অ্যারাবিয়া আবুধাবি, ৭টায় ফ্লাই দুবাই, ইউএস বাংলা, সাড়ে ৭টায় এমিরেটস এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনের আরব আমিরাতগামী ৬টি ফ্লাইট রয়েছে।

অন্যরা বিরক্ত, আছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও

বিমানবন্দরের ১ নম্বর টার্মিনালের ১ নম্বর গেট দিয়ে উত্তর পাশে অবস্থান করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী যাত্রীরা। ফ্লাইটের আগে ৭-৮ ঘণ্টা সেখানেই থাকতে হয় তাদের। উড়োজাহাজে ওঠার আগপর্যন্ত কমপক্ষে ১০ বার লাইনে দাঁড়াতে হয়। লাইন সামলাতেও হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের হইচই তো আছেই, তাদের নির্দেশনা দিতে হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করায় হচ্ছে শব্দদূষণও। এতে প্রবল আপত্তি জানিয়েছেন এয়ারলাইন্সের কর্মী ও অন্য যাত্রীরা। শব্দদূষণের কারণে তাদের এক কথা গলা চড়িয়ে দু-তিনবার করেও বলতে হচ্ছে।

এদিকে বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষা করা হলেও, স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই হিমমিশ খাচ্ছেন কর্মীরা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের ফেলা আবর্জনাতে নোংরাও হচ্ছে বিমানবন্দর।

ঢাকা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স, এমিরেটস, ইতিহাদ, ফ্লাই দুবাই, এয়ার অ্যারাবিয়া, এয়ার অ্যারাবিয়া আবুধাবি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এসব এয়ারলাইনের ফ্লাইটে সপ্তাহে ১৮-২০ হাজার যাত্রী সংযুক্ত আরব আমিরাত যাচ্ছেন। আরও ছয়-সাতটি এয়ারলাইন্সটি আমিরাতগামী যাত্রী পরিবহন করছে।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষার জন্য ৬টি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় ১ হাজার ৬০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রবাসী কর্মীদের ফি দেবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য, ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষায় আরব আমিরাতগামী ৩১ যাত্রীর পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া যায়।

সমাধান কী?

নমুনা সংগ্রহে বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনের ২য় তলায় ১০টি বুথ আছে। পরীক্ষা হয় নিচতলার ল্যাবে। ৬টি প্রতিষ্ঠানের ২টি করে মোট ১২টি আরটি পিসিআর মেশিন আছে। একটি মেশিনে একসঙ্গে ৯৪টি নমুনা পরীক্ষা করা যায়। এতে সময় লাগে আড়াই ঘণ্টা। যে কারণে করোনা পরীক্ষাসহ যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতায় প্রায় সাত ঘণ্টা লেগে যায় আমিরাতের যাত্রীদের।

বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রায় তিনমাস বাংলাদেশের জন্য ফ্লাইট নিষেধাজ্ঞা ছিল আরব আমিরাতের। ৪ আগস্ট বাংলাদেশসহ ছয়টি দেশের যাত্রীদের ট্রানজিট সুবিধা চালু করে দেশটি। শর্ত দেওয়া হয়—ফ্লাইট ছাড়ার ৬ ঘণ্টা আগে র‌্যাপিড পিসিআর পরীক্ষায় নেগেটিভ রিপোর্ট থাকতে হবে। তখন বিমানবন্দরের ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও জায়গা নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরের পার্কিং ভবনের ছাদে ল্যাব স্থাপনের প্রস্তাব করলে সংশ্লিষ্ট ল্যাব ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের আপত্তির মুখে তা হয়নি। পরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বিমানবন্দরের ভেতর জায়গা নির্ধারণ করে দেন। যদিও তখন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান জানিয়েছিলেন, বিমানবন্দরে ল্যাব স্থাপন করা হলে স্বাভাবিক কার্যক্রম দারুণভাবে বিঘ্নিত হবে।

এ প্রসঙ্গে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল আহসান বলেন, ‘বিমানবন্দরটি ছোট। স্বাভাবিকভাবেই চাপ বেশি থাকে। আরব আমিরাতগামী যাত্রীদের করোনা পরীক্ষা বিমানবন্দরের ভেতরে হওয়ায় চাপ বেড়েছে। স্বাভাবিক পরিবেশ রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য শুরু থেকেই বিমানবন্দরের বাইরে ল্যাব স্থাপনের প্রস্তাব ছিল বেবিচকের। সমস্যাগুলো স্বাস্থ্য অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। পার্কিং ভবনের ২য় তলায় যাত্রীদের নমুনা সংগ্রহ ও বসার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সেটা হলে এ সমস্যা দূর হবে।’

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *