শিরোনাম

15 May 2021 - 08:08:22 pm। লগিন

Default Ad Banner

আগামীকাল ৪ ডিসেম্বর ফুলবাড়ী মুক্ত দিবস

Published on Tuesday, December 3, 2019 at 6:13 pm 134 Views

লিমন হায়দারঃ  আগামীকাল ৪ ডিসেম্বর ফুলবাড়ী মুক্ত দিবস।১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর শুক্রবার মুক্তিযোদ্ধারা পাকবাহিনীর সাথে প্রাণপণ লড়াই করে পাকহানাদার বাহিনীকে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী থেকে বিতাড়িত করে ফুলবাড়ী এলাকা হানাদার (শত্রু) মুক্ত করে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে।
দেশমাতৃকাকে রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয়ে এদেশের দামাল ছেলেরা নিজের জীবনকে বাজি রেখে পাকহানাদার বাহিনীকে মুক্ত করা সেই সব বীর সেনানী মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের মার্চ মাস থেকে যখন পাকিস্তানী পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সারা দেশব্যাপী উত্তাল আন্দোলন চলছিল। তখন দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে শান্তি শৃংখলা বজায় রাখা এবং বাঙালী ও অবাঙালীদের মধ্যে যাতে করে কোন সংঘাত জন্ম না নেয়-সে জন্য মার্চের প্রথম সপ্তাহে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে গঠিত হয় সর্বদলীয় শক্তিশালী সংগ্রাম কমিটি। ২৪ মার্চ পর্যন্ত দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে পূর্ণ শান্তি বিরাজ করে। এমনি এক মুর্হুতে ২৫ মার্চ গভীর রাতে ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর ও বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় পাক বাহিনী হানা দিয়ে হত্যা করে অসংখ্য নীরিহ বাঙ্গালীকে। পরেরদিন ২৬ মার্চ এই হত্যাযজ্ঞের খবর বিভিন্ন এলাকা থেকে রেডিও-টিভিতে জানতে পেরে ফুলবাড়ীতে বাঙ্গালীদের মধ্যে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে ঐদিন সকাল থেকে সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটির উদ্দ্যগে ফুলবাড়ী শহরে বের করা হয় এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল। মিছিলটি শান্তি পূর্ণ ভাবে ফুলবাড়ী রেলওয়ে স্টেশন থেকে কাঁটাবাড়ীর বিহারী পট্টি হয়ে বাজারে ফেরার পথে বিহারী পট্টিতে মিছিলকে লক্ষ্য করে কে বা কারা গুলি ছুড়লে সংঘাতের সুত্রপাত ঘটে। শুরু হয় বিহারীদের বাড়ীতে ব্যাপক অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজ। এসময় ফুলবাড়ীর মুক্তিকামী মানুষ অবাঙ্গালী চিকিৎসক বিশিষ্ট ব্যক্তি ডাঃ শওকতের বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে। এতে ডাঃ শওকত সহ তার পরিবারের ৫জন সদস্য অগ্নিদগ্ধ হয়ে নির্মম ভাবে নিহত হন। ডা. শওকত আলীর ভাইকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে কতিপয় ব্যক্তি ইট-পাথর ছুড়ে মেরে তাকেও হত্যা করে। এপ্রিলের ২ তারিখ পাক বাহিনী ফুলবাড়ী আক্রমণ শুরু করে পুরো ফুলবাড়ী নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এরপর থেকে শুরু হয় বাঙ্গালীদের উপর দখলদার বাহিনীর নির্মম অত্যাচার,হত্যা,লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগ সহ নানা নির্যাতন। ফুলবাড়ীর মুক্তিকামী আবালবৃদ্ধ যুবকরা এবং নারীরাও মাতৃভুমিকে দখলদার মুক্ত করতে সকলে যোগ দেয় ভারতের মুক্তিবাহিনীতে।দীর্ঘ নয় মাস পাক হানাদার বাহীনির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে পরবর্তীতে পরিকল্পনা অনুযায়ী ফুলবাড়ীকে পাকহানাদার মুক্ত করার জন্য ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর শুক্রবার মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনী যৌথ ভাবে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বেতদিঘি, কাজিহাল, এলুয়াড়ী, জলপাইতলী, পানিকাটা, রুদ্রাণী, আমড়া ও রানীনগর এলাকার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রবেশ করে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে চতুর্মুখী আক্রমণ শুরু করে। এসময় মিত্রবাহিনীর হাতে নিশ্চিত পরাজয় বুঝে পাক হানাদার বাহিনী দখলদাররা মিত্রবাহিনীর ফুলবাড়ী শহরে আগমন রোধ করতে ঐদিন বিকেল সাড়ে তিনটায় ফুলবাড়ী শহরের ছোট যমুনার উপর লোহার ব্রিজটির পূর্বাংশ কাপুরুষের মত শক্তিশালী ডিনামাইট দিয়ে উড়ীয়ে দেয়। এর ধবংসাবশেষ ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ে। এই ব্রিজটি বর্তমান প্রজন্মের জন্য কালের সাক্ষী হয়ে আজো দাড়ীয়ে আছে ছোট যমুনা নদীর বুকে।
এদিকে মিত্রবাহিনী যাতে ফুলবাড়ী শহরে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য পাক হানাদার বাহীনি এই ব্রিজটি সেই উদ্দেশ্যেই ধবংস করেছিল। এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে অবাঙ্গালীরা বিশেষ ট্রেন যোগে ফুলবাড়ী থেকে সৈয়দপুরে চলে যায়। এরপর ৭ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাজোয়াযান যমুনা নদী পার হয়ে চকচকা রাইস মিলের নিচ দিয়ে উপরে রাস্তায় এসে দাড়ালে পাকবাহিনীর পুতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে গাড়ীটি চুর্ণবিচুর্ণ হয়ে যায়। ঐ সাজোয়াযানে থাকা ভারতীয় সেনাবাহিনীর অফিসার সহ ৩ জন নিহত হয়। যা ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে যমুনা নদীর তীরে ফুলবাড়ী সরকারী কলেজ সংলগ্ন স্থানে সেই শহিদের সমাধি দেয়া হয়। পরবর্তীতে সেখানে তাদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভো স্থাপন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের পক্ষ থেকে ব্যাপক কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে।

 

Default Ad Banner

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *